কখনও স্বামী স্ত্রীর পৃথক্‌ অবস্থান বিধেয় নহে। কারণ–

পানং দুর্জ্জনসংসর্গঃ পত্যা চ বিরহোহটনম্‌।
স্বপ্নোহন্যগেহবাসশ্চ নারীসন্দূষণানি ষট্‌।। মনু ৯।১৩ ।।

মদ্য এবং ভাং প্রভৃতি মাদকদ্রব্য সেবন, দুষ্ট লোকের সংসর্গ, পতি বিয়োগ, ভণ্ড (সাধু) দর্শনের ছলে একাকিনী যেখানে সেখানে বৃথা ভ্রমণ, পরগৃহে যাইয়া শয়ন অথবা পরগৃহে বাস–এই ছয়টি দোষ নারীচরিত্রকে কলুষিত করে। পুরুষেরও এই সকল দোষ ঘটিয়া থাকে। পতি পত্মীর মধ্যে দুই প্রকার বিয়োগ ঘটে। (প্রথমতঃ) কোন ক্ষেত্রে কার্য্যবশতঃ দেশান্তর গমন, দ্বিতীয়তঃ মৃত্যুবশতঃ বিচ্ছেদ ঘটা। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে প্রতীকার এই যে, দূরদেশে যাত্রা করিতে হইলে স্ত্রীকেও সঙ্গে রাখিবে। ইহার প্রয়োজন এই যে বহুকাল পর্য্যন্ত (পতি পত্মীর) পৃথক্‌ অবস্থান সঙ্গত নহে।

(প্রশ্ন)–স্ত্রী এবং পুরুষের বহু বিবাহ হওয়া উচিত কিনা?
(উত্তর)–যুগপৎ অর্থাৎ এক সময় নহে।

(প্রশ্ন)–তবে কি সময়ান্তরে বহুবিবাহ হওয়া উচিত?
(উত্তর)–হ্যাঁ, যেমন–

সা চেদক্ষতযোনিঃ স্যাদ্‌গতপ্রত্যাগতাপি বা।
পৌনর্ভবেন ভর্ত্রা সা পুনঃ সংস্কারমর্হিতি।। মনু ৯।১৭৬ ।।

যে স্ত্রীপুরুষের পাণিগ্রহণ মাত্র সংস্কার হইয়াছে, কিন্তু সংযোগ হয় নাই, অর্থাৎ স্ত্রী অক্ষতযোনি এবং পুরুষ অক্ষতবীর্য্য থাকলে তাহাদের অন্য পুরুষ এবং স্ত্রী সহত পুনর্বিবাহ হওয়া উচিত। কিন্তু ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য বর্ণের মধ্যে ক্ষতযোনি স্ত্রী এবং ক্ষতবীর্য্য পুরুষের পুনর্বিবাহ হওয়া উচিত নহে।

(প্রশ্ন)–পুনর্বিবাহে দোষ কি?
(উত্তর)–(প্রথমতঃ) স্ত্রী পুরুষের মধ্যে প্রেমের ন্যূনতা ঘটে। কারণ যখন ইচ্ছা তখনই স্ত্রী পতিকে এবং পতি স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া অন্যের সহিত সম্বন্ধ করিবে। (দ্বিতীয়তঃ) স্ত্রী বা পুরুষ পতি বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার বিবাহ করিতে চাহিলে পূর্ব্ব স্ত্রীর অথবা পূর্ব্ব পতির সম্পত্তি লইয়া যাইবে এবং তাহাদের কুটুম্বদিগের মধ্যে বিবাদ হইবে। (তৃতীয়তঃ) বহু ভদ্র পরিবারের নাম চিহ্নও থাকিবেনা এবং তাহাদের সম্পত্তি ছিন্নভিন্ন হইয়া যাইবে। (চতুর্থতঃ) পতিব্রত এবং স্ত্রীব্রত ধর্ম্ম নষ্ট হইয়া যাইবে। এই সকল দোষের মধ্যে দ্বিজদিগের মধ্যে পুনর্বিবাহ বা বহুবিবাহ কখনও হওয়া উচিত নহে।

(অসম্পূর্ণ)

<

Super User