(প্রশ্ন)–স্ত্রী শূদ্রও কি বেদ পাঠ করিবে? ইহারা যদি বেদপাঠ করে তবে আমরা কি করিব? আর ইহাদের বেদপাঠ বিষয়ে কোন প্রমাণও নাই, বরং নিষেধ আছে, যথা–

স্ত্রীশূদ্রৌ নাধিয়াতামিতি শ্রুতেঃ।।

এই শ্রুতি আছে যে স্ত্রী এবং শূদ্র বেদপাঠ করিবেনা।

(উত্তর)–স্ত্রী পুরুষ সকলের অর্থাৎ মনুষ্যমাত্রেরই বেদপাঠ করিবার অধিকার আছে। তুমি অধঃপাতে যাও! এই শ্রুতি তোমার কপোল কল্পিত। ইহা কোন প্রামাণিক গ্রন্থের উদ্ধরণ নহে। সকলের যে বেদাদি শাস্ত্র পড়িবার ও শুনিবার অধিকার আছে, সে বিষয়ে যজুর্ব্বেদের ষড়্‌বিংশতি অধ্যায়ে দ্বিতীয় মন্ত্র প্রমাণ; যথাঃ–

পরমেশ্বর বলিতেছেন (যথা) যেমন আমি (জনেভ্যঃ) সকল মনুষ্যের জন্য (ইমাম্‌) এই (কল্যাণীম্‌) কল্যাণ অর্থাৎ সাংসারিক সুখ এবং মুক্তি, সুখ প্রদায়িণী (বাচম্‌) ঋগ্বেদের চারি বেদের বাণী (আবদানি) উপদেশ করতেছি সেইতূপ তোমরাও উপদেশ করিতে থাক। এই স্থলে যদি কেহ প্রশ্ন করেন যে, “জন” শব্দ দ্বিজ অর্থে গ্রহণ করা উচিত, কারণ স্মৃতি প্রভৃতি গ্রন্থে লিখিত আছে যে, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যেরই বেদপাঠে অধিকার আছে, স্ত্রী ও শূদ্রাদি বর্ণের নাই। (উত্তর)–(ব্রহ্মরাজন্যাব্যাম্‌) ইত্যাদি দেখ। পরমেশ্বর স্বয়ং বলিতেছেন, “আমি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, (অর্য্যায়) বৈশ্য, (শূদ্রায়) শূদ্র এবং (স্বায়) নিজের ভৃত্য বা স্ত্রী আদি এবং (অরণায়) অতি শূদ্রাদির জন্যও বেদ প্রকাশ করিয়াছি” অর্থাৎ সকল মনুষ্য বেদের অধ্যয়ণ, অধ্যাপনা, শ্রবণ ও শ্রাবণ দ্বারা বিজ্ঞান বৃদ্ধি করিয়া সদ্বিষয়ের গ্রহণ এবং অসদ্বিষয়ের বর্জ্জন পূর্ব্বক দুঃখবিমুক্ত হইয়া আনন্দ প্রাপ্ত হউক।

(অসম্পূর্ণ)

<

Super User