গা ছমছমে ঘুটঘুটে আঁধারে দাঁড়িয়ে ওয়াঙের হুমকির ধ্বনি প্রতিধ্বনি শুনল বেনন। গুহার দেয়ালে বাড়ি খেয়ে মিলিয়ে গেল আওয়াজটা। আতঙ্কের একটা শিরশিরে অনুভূতি নেমে গেল বেননের শিরদাঁড়া বেয়ে। অন্ধকারে ওকে শিকার করার জন্য ওঁৎ পেতে আছে ওয়াং। লোকটা এখনও গুলি করেনি কেন ভেবে পেল না ও। যে রহস্য এই খনি লুকিয়ে রেখেছে সেটার ভাগ আর কাউকে ওয়াং পেতে দেবে না এটা নিশ্চিত। সুযোগ খুঁজছে লোকটা। পেলেই খুন করবে ওকে।

        মৃত্যুপথযাত্রীকে সবসময় শেষ-কথা বলার একটা সুযোগ দেয়া হয়, আবার গম গম করে উঠল ওয়াঙের গলা। তোমার কিছু বলার থাকলে বলে ফেলো, বেনন।

নিঃশব্দে হাসল বেনন। বুটজুতো বাইরে খুলে রেখে এসেছে বলে ভাগ্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিল। বুঝে ফেলেছে ও ওয়াঙের চালাকি। খনির বাইরে পাথর গড়ানোর শব্দে ওয়াং টের পেয়েছে কেউ একজন ঢুকছে সুড়ঙ্গে। ও যখন খনিমুখ দিয়ে ভেতরে ঢুকল সেসময় পেছনে আলো ছিল, ক্ষণিকের জন্যে ওর অবয়ব দেখতে পাবার কথা; কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি লোকটা। এখন চাইছে ও কথা বলে উঠুক। কথা বললেই অন্ধকারে ওর অবস্থান ফাস হয়ে যাবে। নিশ্চিত হয়ে গুলি করবে লোকটা।

ফাঁদে পা দিল না বেনন। সরে গেল কয়েক কদম। তারপর অস্ত্র বের করে হামাগুড়ি দিয়ে বসল। অপেক্ষা করতে ও অভ্যস্ত। আউট-ল জীবনে ধৈর্য ওকে বারবার বাঁচিয়েছে মৃত্যুর হাত থেকে। আরেকবার কথা বলুক ওয়াং বুঝে যাবে কৌশলটা তার নিজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যায়।

আর কোন হুমকির মধ্যে গেল না ওয়াং। বেনন তার চালাকি ধরে ফেলেছে বুঝতে পেরেছে।

দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে চুপ করে বসে আছে বেনন। টের পেল কাঁপছে দেয়ালটা থরথর করে। পরমুহূর্তে গুরুগম্ভীর আওয়াজে কানে তালা লেগে গেল। টিলার ওপর বাজ পড়েছে। অনেকদিনের পুরানো খনি, টানেলের ছাদটা খসে পড়বে না তো? কবরে আটকে পড়েছে বলে মনে হলো ওর।

পায়ের শব্দ শোনার আশায় কান খাড়া করল বেনন। মেঘের গর্জন থেমে গেছে। পিনপতন নীরবতা। মানুষ শিকারের খেলায় মেতেছে ওয়াং। কোন ভুল করছে না।

খনিমুখ থেকে একটা গলা ভেসে এলো। চিনতে পেরে চমকে উঠল বেনন।

ব্যাগলের গলা। বলছে: বেনন…? তুমি কি ভেতরে…?

ব্যাগলেকে ভেতরে আসতে মানা করতে গিয়েও মুখ বন্ধ করে ফেলল বেনন। শাঁখের করাতে পড়েছে ও। আওয়াজ করলে ওর নিজের গুলি খাবার ভয়, আর ব্যাগলেকে সতর্ক না করলে খনিতে ঢুকতে গিয়ে মরবে মানুষটা। একবার করেছে বলেই বারবার একই ভুল করবে না ওয়াং। সুড়ঙ্গে ব্যাগলে ঢুকলেই ফেলে দেবে গুলি করে। বাইরে এখনও সামান্য আলো থাকার কথা। গর্তের মুখ দিয়ে কেউ ঢুকলে অস্পষ্ট ভাবে দেখা যাবে।

অন্ধ পাগলের মত মেঝে হাতড়াল বেনন। দুশ্চিন্তা আর ভয়ে ঘামছে দরদর করে। যা খুঁজছিল পেয়ে গেল। ছোট্ট একটুকরো পাথর। টানেলের গভীরে ওটা ছুঁড়ে দিল বেনন। আশা করল পুরানো এই কৌশলে কাজ দেবে।

ছিলার মত টানটান হয়ে আছে ওয়াং উত্তেজনায়। পেছনে গিয়ে পাথরটা পড়তেই চরকির মত পাক খেয়ে ঘুরল সে। মনে করল পাশ কাটিয়ে নিঃশব্দে পেছনে চলে এসেছে বেনন। রাগে বিকৃত চেহারায় গুলি করল সে শব্দ লক্ষ্য করে। শতগুণ জোরাল শোনাল আওয়াজ বদ্ধ সুড়ঙ্গে।

হলদেটে কমলা আগুনের ঝিলিকে লোকটাকে ক্ষণিকের জন্যে দেখতে পেল বেনন। সঙ্গে সঙ্গে ও-ও গুলি করল। ও তরফ থেকে কোন আর্তনাদ হলো না। মিস করেছে বেনন তাড়াহুড়োয়! লাফ দিয়ে ফুট ছয়েক সরে গেল ও। তারপর ক্রল করে আরও ফুট তিনেক। কাঁপা কাঁপা শ্বাস ফেলল। সন্তুষ্ট ব্যাগলেকে সতর্ক করে দিতে পেরে।

গুড়গুড় করে ডাক ছাড়ল আকাশ; যেন এই লড়াইয়ে অংশ নিতে চায়।

সুড়ঙ্গে ঢোকার সরু ফাঁকটার দিকে তাকাল বেনন। ক্ষীণ একটু আলোর আভা দেখা যাচ্ছে। আগ্রাসী রাতের কাছে হেরে যাচ্ছে সন্ধে। ব্যাগলের কোন চিহ্ন নেই কোথাও। তাতে করে খনির মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে তা নয়। এখনও ওঁৎ পেতে লুকিয়ে আছে খুনে চাইনিজ। লোকটা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

হঠাৎ অন্ধকারে ঝটাপটির শব্দ শুনতে পেল বেনন। তারপরই শোনা গেল ওয়াঙের চিৎকার। মহা উত্তেজিত হয়ে চাইনিজ ভাষায় কি যেন বলছে।

আমি ওকে ধরেছি, বেনন! হুঙ্কার ছাড়ল ব্যাগলে। আমি কে ধরেছি!

গোলাগুলির সুযোগে সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েছে ব্যাগলে! নিশ্চয়ই গুলির আগুনে ওয়াঙকে দেখেছে!

শব্দ লক্ষ্য করে হাতড়ে হাতড়ে এগোল বেনন। কাছে গিয়ে ম্যাচের কাঠি জ্বেলে দেখল সাহায্যের দরকার নেই ব্যাগলের।

চাইনিজকে মেঝেতে পেড়ে ফেলে ঠেসে ধরেছে ব্যাগলে। বসে আছে বুকের ওপর। বড় বড় দাঁত বের করে একমুখ হাসি নিয়ে তাকাল। একেবারে গেঁথে ফেলেছি।

ঘৃণায় বিকৃত হলদে মুখে মহা আক্রোশ নিয়ে তাকিয়ে আছে ওয়াং। মেঝেতে চাইনিজের অস্ত্রটা দেখতে পেয়ে লাথি দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল বেনন। লোকটাকে সার্চ করে তারই বেল্ট দিয়ে বেঁধে ফেলতে দু’মিনিটের বেশি লাগল না ওর। কোটের পকেটে পাওয়া গেল কয়েকটা মোমবাতি জ্বালাত; কিন্তু বেননের আসার শব্দ পেয়ে জ্বালায়নি ওয়াং। একটা জ্বালল বেনন।

ওয়াঙের ওপর থেকে উঠে দাঁড়াল ব্যাগলে। শরীর মুচড়ে বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে দেখল চাইনিজ, না পেরে দেয়ালের গায়ে ঠেস দিয়ে ড্যাব ড্যাব করে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকল। হিসহিস আওয়াজ বেরিয়ে আসছে মুখ থেকে।

বাইরে ডাক ছাড়ল আকাশ। টানেলের প্রবেশপথে বিজলির চকিত নীলচে ঝিলিক। বেননের ইচ্ছে হলো একছুটে বেরিয়ে যায় এখান থেকে। পুরানো সুড়ঙ্গ। কাঠের বীমগুলো পচে গেছে কিনা কে জানে। গতবার যখন টিলার মাথায় বাজ পড়ল খুঁটিগুলোকে মড়মড় আওয়াজ করতে শুনেছে ও। শুধু অদম্য একটা কৌতূহল আটকে রেখেছে ওকে। দেখতে হবে কি রহস্য লুকিয়ে রেখেছে এই প্রাচীন খনি।

আরেকটা মোমবাতি ধরাল ব্যাগলে। উঁচু করে ধরল। কাঁপা আলোয় দেখা গেল দেয়ালের গায়ে নাচছে বেনন আর ওর ছায়া। ছায়াগুলোর বুকের কাছে দেয়ালে সাজিয়ে রাখা আছে কয়েকটা বাক্স।

বেননের শার্টের হাতা ধরে টান দিল ব্যাগলে। ডিনামাইট, বেনন? ওই দেখো ফিউজ আর কয়েলও আছে।

বাক্সগুলোর ওপরে জমে আছে ধুলোর পুরু আস্তরণ। মাকড়সার জাল ঘিরে রেখেছে ফিউজ আর ক্যাপের বান্ডিল। পাথর ধস নামায় ভেতরে রয়ে গিয়েছিল এগুলো, আন্দাজ করল বেনন।

আমার বাঁধন খুলে দাও, নাহলে ক্ষমা করব না আমি তোমাদের, হুমকি দিল ওয়াং।

চুপ করে থাকো, বন্দী! গর্জন ছাড়ল, ব্যাগলে। ওয়াঙকে পাকড়াও করার পর বুকের ছাতি ফুলে উঠেছে ওর। পাল্টে গেছে তাকানোর ভঙ্গি। ওয়াঙকে তাচ্ছিল্য ভরা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখল সে। বেশি কথা বললে তোমার জুতো তোমারই মুখে পুরে দেব।

গাধা! গরগর করল ওয়াং।

ওয়াং, তুমি জাতির কলঙ্ক। তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে চাইনিজদের আমি শ্রদ্ধা করতাম। পশ্চিমের আদর্শ নাগরিক; পরিশ্রমী, সৎ, বিনীত, অনুগত আর ধার্মিক। সত্যিকার সাহসী লোকজন। ওরা না থাকলে রেল রোড বলে পশ্চিমে কিছু থাকত না। ব্যাগলে বিক্ষুব্ধ। তাছাড়া ওরা না থাকলে কাপড় ধোয়া হত না। ভেবে দেখেছ একটা লন্ড্রী থাকত না পশ্চিমে!

তোমার বক্তৃতা থামাও। মোমের আলোয় চকচক করছে ওয়াঙের চোখ। দৃষ্টিতে অনিষ্ট নিয়ে পালা করে দেখছে বেনন আর ব্যাগলেকে।

লোকটাকে উপেক্ষা করল বেনন। ব্যাগলের কাঁধে হাত রেখে বলল, তুমি না এলে বিপদে পড়ে যেতাম, পুরানো টুথব্রাশ।…হঠাৎ কি করে এলে এখানে তোমার না টেইল হল্টে থাকার কথা?

বয়েসে পার্থক্য সত্ত্বেও ওদের বন্ধুত্ব অটুট থেকেছে। পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে ওরা মানুষ হিসেবে। এ ওর পাগলামি সহ্য করে নেয় হাসিমুখে। কিন্তু বেননের প্রশ্ন শুনে এই মুহূর্তে ব্যাগলের মুখ থেকে এক পলকে হাসি দূর হয়ে গেল। খুলে বলল ও ফ্র্যাঙ্ক নোয়কের শয়তানি।

তারপর মনে এক বুক দুঃখ নিয়ে এন্ড অভ স্টীলে এলাম আমি। সেখান থেকে ঘোড়া ধার করে হ্যাটারের র‍্যাঞ্চে। ওরা বলল এখানে এসেছ তুমি। চলে এলাম। এসে দেখি খনির মুখ খোলা। প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল, তারপর ভাবলাম এন্ড অভ স্টীল থেকে যন্ত্রপাতি এনে তুমিই পাথর সরিয়েছ। মন থেকে দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে ডাক দিলাম তোমাকে। তারপরের ঘটনা তো তুমি জানোই।…ও, আসল কথা বলতে ভুলেই গেছি, এন্ড অভ স্টীলে পৌঁছে জানলাম টেলিগ্রাফ এসেছে; অস্ত্রপচার হয়ে গেছে, হ্যাটার সুস্থ হয়ে উঠবে। ওকে আজকের শেষ ট্রেনে বাসায় নিয়ে আসবে ডেইজি। নার্সের ওপর ভরসা করতে পারছে না।

ব্যাগলের কথা শেষ হতেই হাসতে লাগল চাইনিজ। লোকটার গলা দিয়ে উঠে আসছে অদ্ভুত একটা খকখক শব্দ। গুহার ভেতর পৈশাচিক শোনাল আওয়াজটা। বেনন আর ব্যাগলেকে অস্বস্তিতে ভুগিয়ে তারপর হাসি থামাল। বলল, তোমরা জানো না কী বিপদ ঘটতে যাচ্ছে। আমাকে ছেড়ে দাও, নাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। মরবে, হাটার মরবে!

মারবে কে, তুমি তো আমাদের হাতে বন্দী।

কোন চাল খাটবে না, ওয়াং।

বলব আমি। আগে আমার বাঁধন খুলে দাও।

এমনিতেও বলতে হবে তোমাকে, বলল বেনন। আগে আমি জানতে চাই এই খনিতে কি আছে যে হঠাৎ এত জরুরী হয়ে উঠল এখানে ঢোকা। না, তোমাকে জিজ্ঞেস করে সময় নষ্ট করব আমি। আগে খুঁজে দেখি, নিজে যদি বুঝতে না পারি তাহলে তোমার মুখ আমি খুলিয়ে ছাড়ব মনে রেখো।

ওয়াঙের হাত-পায়ের বাঁধুনি পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হয়ে বেননের পিছু নিল ব্যাগলের। খনির ভেতর টানেলটা সরু হয়ে এসেছে। পাশাপাশি হাঁটতে পারছে না ওরা। কিছুদূর যাওয়ার পর আবার চওড়া হলো দু’পাশের দেয়াল। একটা প্রাকৃতিক গুহা মত জায়গায় এসে ঢুকল ওরা। মোমের আলো গুহার ছাদ পর্যন্ত পৌঁছয়নি। চারপাশে ফুট দশেক দৃষ্টি চলে। থমকে দাঁড়াল বেনন। আঙুল তুলে একদিকের দেয়াল দেখাল।

আধবসা হয়ে দেয়ালের গায়ে বেকায়দা পড়ে আছে একটা নর কঙ্কাল। খনি অভ্যন্তরের ভ্যাপসা পরিবেশে পচে গেছে গায়ের কাপড়। ছেড়া ন্যাকড়াগুলো লেপ্টে আছে হাড়ের গায়ে। শূন্য অক্ষিকোটর চেয়ে আছে ওদের দিকে। দাঁতগুলো ভেঙচি কাটছে, চকচক করছে মোমের আলোয়।

কী করুণ পরিণতি! ভূতুড়ে পরিবেশে ফিসফিস করল ব্যাগলে।

অনেক দিন আগে মারা গেছে লোকটা, বলল বেনন।

আস্তে করে মাথা দোলাল ব্যাগলে। হ্যাটারের ক্রুদের মুখে শুনেছি অনেক বছর আগে পাথর ধসে বন্ধ হয়ে গেছে খনিটা। সেই সময় নিশ্চয়ই ভেতরে আটকা পড়ে গিয়েছিল লোকটা। আর বেরতে পারেনি। কী ভয়ঙ্কর! খিদে আর তৃষ্ণায় ধুকে ধুকে মরেছে।

না। দ্বিমত পোষণ করল বেনন। খুলির দিকে তাকিয়ে দেখো। মাঝখানটা ভারী কিছুর আঘাতে ডেবে গেছে। ধীরে ধীরে কষ্ট পেয়ে মরেনি লোকটা। একে মেরে খনির ভেতরে ফেলে গিয়েছিল কেউ। তারপর যখন পাথর ধস হলো এই খনি হয়ে গেল ওর কবর।

বেচারা! দীর্ঘশ্বাস ফেলল ব্যাগলে।

এগিয়ে গিয়ে কঙ্কালের সামনে দাঁড়াল বেনন। লোকটাকে চেনার মত কোনকিছু পাবার আশায় মেঝেতে চোখ বোল। বেল্টের বাকল, ঘড়ি বা আর কিছু যদি পাওয়া যায়। হতাশ হতে হলো ওকে। খুনী কোন চিহ্ন ফেলে যায়নি। লাশের একপায়ে আছে শুধু একটা স্পার। পচে যাওয়া বুটজুতো থেকে স্পারটা খুলে নিল বেনন। উল্টেপাল্টে দেখে ব্যাগলের হাতে দিল।

এটা দেখো তো চিনতে পারো কিনা!

ভ্র কুঁচকে দেখল ব্যাগলে। তারপর বলল, লোকটা মাত্র একটা স্পার পরে ছিল?

আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে, তুমি মিস অ্যানা হ্যাটারের স্পারটা দেখোনি। বেননের কণ্ঠে উত্তেজনা চাপা থাকল না। এটা হচ্ছে ওটারই জোড়া। আন্দাজ করতে পারছ কী ঘটেছে?

না। আরও কুঁচকে গেল ব্যাগলের ভ্রূ।

আমি পারছি, বলল গম্ভীর বেনন। হতভাগ্য এই মানুষটা ডেইজির বাবা, ফিলিপ হারমান; যার পুতুল বানিয়ে প্রতি বছর কটনউড গাছে ঝোলায় টেইল হল্টের র‍্যাঞ্চাররা। খুন করা হয়েছিল তাকে। তারপর লাশটা এখানে এনে খনিতে ঢোকার মুখ পাথর ধস নামিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে খুনী।

কী ভয়ঙ্কর!

আবার বাজ পড়ল কাছেই কোথাও। বিকট শব্দটা মিলিয়ে যেতেই ডক্টর ওয়াঙের হাসি শুনতে পেল ওরা। লোকটা বলছে: এবার আমাকে ছাড়বে, গাধার দল, নাকি এখানে সময় নষ্ট করে পাগলা হ্যাটারকে মরতে দেয়ার ইচ্ছে আছে?

আরেকটা আওয়াজ পেয়ে অজান্তেই ব্যাগলের বাহু আঁকড়ে ধরল বেনন। ওটা কিসের আওয়াজ?

বাজ পড়েছে মনে হয়।

এসো! ব্যাগলেকে প্রায় টানতে টানতে ফিরে চলল বেনন। ডক্টর ওয়াঙকে পাশ কাটিয়ে খনি-মুখের কাছে চলে এলো ওরা। জ্বলন্ত মোম হাতে হামাগুড়ি দিয়ে এগোল বেনন। তারপর আঁতকে উঠল। বোল্ডার দিয়ে বেরোনোর পথটা বন্ধ করে দিয়েছে কে যেন।

ব্যাগলে, হাত লাগাও! আমার পাশে এসে ঠেলা দাও। পাথরটা সরাতে না পারলে দম আটকে মারা যাব আমরা!

নির্দেশ পালন করল ব্যাগলে। বেননের কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর গায়ের জোরে ঠেলতে লাগল পাথরটা।

একচুল নড়ল না বোল্ডার

হবে না। হাল ছেড়ে দিল ব্যাগলে। কণ্ঠতালু শুকিয়ে কাঠ। পেছনে আরও পাথর রেখে ঠেকা দিয়ে গেছে লোকটা! জীবন্ত কবর দিয়ে গেছে আমাদের। বেরতে যদি না পারি এই খনিতে চারটে কঙ্কাল থাকবে, বেনন! বুড়ো হয়ে গেছি; মরতে ভয় পাই না; তাই বলে এভাবে!

চুপ করে থাকল বেনন।

<

Super User