পাগলা হাটারকে দেখে অবাক না হয়ে পারল না বেনন। ওর ধারণা ছিল লোকটা নোংরা পোশাক পরে থাকবে। ভ্রূ হবে টুথব্রাশের মত পুরু। করমচার মত লাল চোখে থাকবে ঘোলাটে দৃষ্টি। পেট পর্যন্ত লম্বা দাড়িতে চেহারাটা হবে ভয়ঙ্কর। কিন্তু পাগলা হ্যাটার মোটেই তেমন নয়। পাগলামির কোন লক্ষণ নেই তার মধ্যে। অন্তত বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোন উপায় নেই।
হ্যাঁ, লোকটা বিশালকায়। বয়স ষাটের ওপরে। শরীরে একফোঁটা চর্বি নেই। লম্বা লম্বা পাকা চুল ব্যাকব্রাশ করে আঁচড়ানো। প্রথম দর্শনেই বোঝা যায় হ্যাটার অত্যন্ত কর্তৃত্বপরায়ণ লোক, পরিবেশটা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। সাধারণ একটা মোটা কাপড়ের রেঞ্জ পোশাক পরে আছে সে।
আমি কি বলেছি তুমি শুনেছ, হুলাহান, শান্ত স্বরে বলল নিরস্ত্র র্যাঞ্চার। বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু পস্তাবে।
আস্তে আস্তে অস্ত্রটা নামিয়ে নিল ব্যাঙ্কার। ধিকিধিকি জ্বলছে। দু’চোখ। স্পষ্ট বুঝতে পারল বেনন, এ যাত্রা বেঁচে গেল শুধু পাগলা হ্যাটার এসে হাজির হওয়ায়। হ্যাটারের প্রচ্ছন্ন হুমকিতে ব্যাঙ্কার গুরুত্ব না দিলে এতক্ষণে সম্ভবত ওপারে পৌঁছে যেত সে।
খুনের অভিযোগে একে খোঁজা হচ্ছে, হ্যাটার, বলল হুলাহান। এই লোক রেল রোডে চাকরি নিয়ে সবার সর্বনাশ করতে এসেছে।
কি রকম? বেনন মুখ খুলতে যাচ্ছিল, তার আগেই জানতে চাইল হ্যাটার।
কালকে একে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বন্দী করা হয়। লোকটা ডাকাতদের কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ যে রাতেই তারা হামলা করে, ক্যাম্প থেকে একে ছুটিয়ে নিয়ে যায়। তাদের ছোড়া গুলিতে কয়েকজন মজুর মারাও গেছে। সকালে আমি এন্ড অভ স্টীলে পৌঁছাই। অবাক হয়ে গেছি; না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন, ক্যাম্পটা লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে কুকুরের দল।
রেল রোডের সমস্যা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই, ভ্র কুঁচকে বলল হ্যাটার। আমি চাই না ওই লোহার ঘোড়া আমার রেঞ্জের ওপর দিয়ে যাক। ওগুলো বাতাসে ধোয়া ছেড়ে পরিবেশ দূষিত করে। আমার গরুগুলো ভয় পেয়ে শুকিয়ে যাবে সেটা আমি হতে দেব না।
বুঝলাম। কিন্তু খুনীকেও তো তুমি প্রশ্রয় দিতে পারো না! মাথাটা খাটাও, লুকাস, খুনীকে বাঁচানো আর নিজে খুন করা প্রায় একই কথা। আবার অস্ত্র তুলে বেননের বুকে তাক করল ব্যাঙ্কার। বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই এর।
সেটা বিচার করার তুমি কে! তুমিই বা কোন্ অধিকারে একই সঙ্গে জাজ, জুরি আর জল্লাদ হয়ে বসেছ, হ্যাঁ?
পিছলা লোক এই রক বেনন। একবার ফস্কে বেরিয়ে গেলে আর একে ধরা যাবে না। আমি যা করছি বুঝেশুনেই করছি, ক্যাম্পটা একবার ঘুরে এলে একে খুন করার জন্যে কেউ আমার দোষ ধরবে না।
হুলাহানের দু’চোখে র্যাটল স্নেকের শীতল দৃষ্টি দেখে বুঝে নিল বেনন র্যাঞ্চারের কথায় আর কাজ হবে না, মনস্থির করে ফেলেছে লোকটা ওকে বাঁচতে দেবে না। হুলাহানকে ঠেকাতে পারবে না নিরস্ত্র হ্যাটার, যা করার ওকেই করতে হবে। সেক্ষেত্রে সময় নষ্ট করার অর্থ ঝুঁকির পরিমাণ আরও বাড়ানো। ডান পা তুলে দড়াম করে লাথি মারল বেনন শুটকি ব্যাঙ্কারের কোল্ট ধরা হাতে। দুম করে গুলি বেরল অস্ত্র থেকে। বারান্দার ছাদে গিয়ে বিধল গুলি। কোল্টটা মাটিতে পড়ার আগেই হুলাহানের ওপর ঝাঁপ দিল বেনন। রেলিং টপকে মাটিতে আছড়ে পড়ল দু’জন। রুগ্ন দেখালেও দড়ির মত পাকানো শরীর লোকটার, লড়তে গিয়ে বুঝল বেনন। অতিকায় পাইথনের মত ওর শরীরের তলায় মোচড় মারছে লোকটা। সুযোগ পেলেই ঘুসি মারছে বুক আর পেটে।
হুলাহানের ঘোড়াটা হঠাৎ করে পায়ের কাছে দু’জনকে গড়াগড়ি খেতে দেখে ভয় পেয়ে গেল। উত্তেজিত হয়ে লাফঝাপ শুরু করল জানোয়ারটা। যেকোন সময় খুরের তলায় পড়ে যেতে পারে ওরা। একবার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মরিয়া হয়ে কৌশলের বদলে গায়ের জোরকে কাজে লাগাল বেনন। নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কোটের কলার ধরে হ্যাচকা টানে তুলে ফেলল সে হ্যারি হুলাহানকে। টেনে চড় লাগাল কয়েকটা। তারপর টানতে টানতে নিয়ে চলল ঘোড়াগুলোকে পানি খাওয়াবার চৌবাচ্চার দিকে। ব্যাঙ্কার বাধা দেবার আগেই তার ঘাড় চেপে ধরে মাথাটা ঠেসে ধরল পানিতে। ঘন সবুজ পানিতে তিন দফায় আড়াই মিনিট লোকটাকে চুবিয়ে তারপর ছাড়ল ও। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, জানে বাচতে চাইলে ভাগো এখান থেকে।
জবাব দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো হুলাহান। মুখ দিয়ে গলগল করে বেরিয়ে এলো সের খানেক আধপচা পানি। টলতে টলতে ঘোড়ায় গিয়ে উঠল লোকটা। বারান্দা থেকে তার অস্ত্রটা তুলে গুলি বের করে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দিল বেনন। বলল, পরের বার এটা আমার ওপর ব্যবহার করার চেষ্টা করলে খুন হয়ে যাবে কথাটা মনে রেখো।
রক্ত লাল চোখে বেননের দিকে তাকিয়ে থাকল ব্যাঙ্কার। হুঁশ ফিরতে পারের খোঁচায় সামনে বাড়াল ঘোড়াটাকে। পেছন থেকে তাকিয়ে থাকল বেনন। লোকটা সাপের মত বিপজ্জনক বুঝতে দেরি হয়নি ওর। সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে হ্যারি হুলাহান। সুযোগ পেলেই ছোবল দেবে।
লোকটা চোখের আড়ালে চলে যাওয়ার পর হ্যাটারের দিকে ফিরল বেনন। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে র্যাঞ্চার। ডেইজির চোখে উত্তেজনা। কমলার কোয়ার মত ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে আছে।
পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠার আগেই হাসল বেনন। বলল, খাবার চাইতে এসে শত্রুতা পাব জানতাম না।
চুপ করে থাকল র্যাঞ্চার। চেহারা দেখে বোঝা গেল লোকটা ওকে শত্রু না মিত্র ভাববে এখনও ঠিক করতে পারেনি। তারপর ত্যাগ করল সে। ডেইজিকে বলল, এর জন্যে নাস্তার ব্যবস্থা করো।
দ্বিধা কাটিয়ে উঠে বেননকে ইশারায় পিছু নিতে বলল ডেইজি।
লিভিং রুমটা তিরিশ বাই তিরিশ ফুট। আসবাবপত্রের বাহুল্য নেই। কয়েকটা চামড়ায় মোড়া চেয়ার। গোল একটা টেবিল। মেঝেয় বাড়িতে বানানো কার্পেট। দেয়ালে শিংওয়ালা হরিণের। মাথা। সবকিছুতে পাগলা হ্যাটারের রুচি আর ব্যক্তিত্বের ছাপ সুস্পষ্ট।
একটা চেয়ারে বসে হ্যাটারের দিকে তাকাল বেনন। ওর অস্তিত্ব ভুলে গেছে লোকটা। একটা ক্যাটল ম্যান জার্নালের পৃষ্ঠা ওল্টাচ্ছে, কিন্তু কিছু বুঝছে বলে মনে হয় না দু’চোখের শূন্য দৃষ্টি দেখে। একবার দাড়ি চুলকাল খানিকক্ষণ; আরেকবার চুলে আঙুল চালাল। বিড় বিড় করে বলল কি যেন।
চুল সরতেই র্যাঞ্চারের মাথার একপাশে গভীর একটা কাটা দাগ দেখতে পেল ও। ব্যাগলের কথা মনে পড়ল ওর। ব্যাগলে বলেছিল হ্যাটহীন হ্যাটারের মাথায় ঘোড়ার নাল পড়েছিল। কিন্তু এই ক্ষত চিহ্নটা নিঃসন্দেহে বুলেটের। এই আঘাতের ফলেই কি অস্বাভাবিক হয়ে গেছে লোকটা? কে গুলি করেছিল হ্যাটারকে? কেন?
খেতে চাইলে এসো, নাহলে তোমার বদলে শুয়োরগুলোকে দিয়ে দিচ্ছি! পাশের কিচেন থেকে ডেইজি ডাক দেয়ায় ভাবনা চিন্তার সুযোগ পেল না বেনন। অপমানটুকু গায়ে না মেখে এগোল কিচেনের দিকে।
ডেইজির বিস্মিত দৃষ্টিকে পাত্তাই দিল না বেনন, ধস নামিয়ে দিল বেকন, ডিম আর রুটির পাহাড়ে। খেতে খেতে জিজ্ঞেস করল, তোমার ফুপু এখনও আসেননি, মিস?
না, স্পারটা উদ্ধার না করে আসবে না বলেছে। কড়া চোখে বেননকে দেখল মেয়েটা। তুমি ভাল করেই জানো উনি আমার ফুপু নন।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও জেনে ফেলেছি। কাঁটাচামচ নামিয়ে রাখল বেনন। দেখো, তুমি কে তাতে আর কারও কিছু বলার নেই। আমি মনে করি না একজনের দোষে আরেকজনকে শাস্তি দেয়া যায়। তোমার জীবনটা তোমার। নিজের ওপর অন্যের প্রভাব পড়তে দিয়ো না, তাহলেই দেখবে কষ্ট কম পাবে।
একটু নরম হলো ডেইজি। বলল, আজকে কাজটা তুমি ভাল করোনি। হ্যারি হুলাহান সহজে তোমাকে ছাড়বে না।
একটা ধন্যবাদ পাওনা হয়েছে তোমার, বলল বেনন। লোকটা গুলি করতে যাচ্ছে দেখে থামানোর জন্যে এগিয়েছ তুমি।
আমি চাইনি বাড়ির উঠান নোংরা হোক। ডেইজির চেহারা গম্ভীর হলেও বেনন বুঝল কথাটা সত্যি নয়।
কফিতে চুমুক দিল ও, তারপর জানতে চাইল, রেল রোডের ব্যাপারে হ্যাটারের সঙ্গে কথা বলা যাবে?
তারমানে তুমি রেলওয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করোনি?
না। ব্যাঙ্কার লোকটা আমাকে ভুল বুঝেছে। চেয়ার ছাড়ল বেনন। যাই, দেখি রেলওয়েকে জমি ছাড়ার ব্যাপারে হ্যাটারকে রাজি করানো যায় কি না।
রেগে যাবে কিন্তু, পেছন থেকে বলল ডেইজি।
লিভিং রুমে এসে বেনন দেখল চলে গেছে হ্যাটার। বারান্দায় বেরিয়ে এলো ও। উত্তর-পশ্চিমে যাচ্ছে র্যাঞ্চার ঘোড়ায় চড়ে। বেশ অনেক দূরে চলে গেছে লোকটা। তবু কয়েকবার ডাকল বেনন। শুনতে পেল না হ্যাটার। পাশ থেকে ডেইজি বলল, কাঁটা তারের বেড়া মেরামত করছে ওদিকে ক্রুরা। বাবা যাচ্ছে তদারকি করতে। ফিরতে দেরি হবে। ইচ্ছে করলে অপেক্ষা করতে পারো। ওখানে ভুলেও যেয়ো না, কাজের সময় বিরক্ত করলে বাবা সাঙ্ঘাতিক রেগে যায়।
কার্ড খেলতে পারো তুমি? সময় কাটানোর জন্যে জানতে চাইল বেনন।
কাজ আছে আমার, জবাবটা এড়িয়ে গেল ডেইজি। টেইল হল্টে যেতে হবে আমাকে।
চলে গেল মেয়েটা বেনন কিছু বলার আগেই। লিভিং রূমে ফিরে ক্যাটল ম্যানস জার্নাল নিয়ে বসল বেনন। একটু পরে ঘোড়ার খুরের শব্দ পেয়ে বুঝল শহরে যাচ্ছে ডেইজি।
করার কিছু নেই। ভাবনা চিন্তা করে অলস দুপুরটা কাটাল বেনন। স্টেজ ডাকাতি থেকে শুরু করে ডায়নোসর-কোন যোগ সূত্র খুঁজে পেল না ও। রেল রোডের কাজ বন্ধ করতে চাইছে কেউ একজন। কিন্তু কেন? টেইল হন্টে রেলের অফিসে গুলি আর ক্যানিয়নে ডায়নোসর-মিলটা কোথায়? হ্যাটার চায় না রেল রোড চালু হোক। কিন্তু লোকটাকে সন্দেহ করতে পারল না বেনন। হ্যাটার পিঠে ছুরি মারার লোক নয়।
সন্ধের পর ফিরল ডেইজি। নীরবে সাপার সারল ওরা। দেখা নেই পাগলা হ্যাটার আর তার ক্রুদের।
নীরবতা ভাঙল ডেইজি। আমার মনে হয় তোমার চলে যাওয়াই উচিত। চাইলে একটা ঘোড়া ধার নিতে পারো।
হ্যাটারের সঙ্গে কথা শেষ না করে যাব না।
দেখো, বোঝাবার সুরে বলল ডেইজি, আসার সময় হ্যারি হুলাহানের সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার। আজকে তাকে তুমি হাসির পাত্রে পরিণত করেছ। এত সহজে তোমাকে ক্ষমা করবে না সে। এখনও লোকটা ধারেকাছেই ঘুরঘুর করছে।
ওর ভয়ে দায়িত্ব ফেলে চলে যাবার লোক নই আমি।
তাছাড়া বাবার সঙ্গে তোমার দেখা না হওয়াই ভাল। যাবার সময় দেখলাম মন ভাল নেই। রেল রোডের ব্যাপারে কথা বলতে রয়ে গেছ দেখলে অনৰ্থ বাধিয়ে দিতে পারে।
আশা করি তাকে আমি বোঝাতে পারব।
তুমি বাবাকে চেনো না। আমি চাই না তুমি থাকো।
এত স্পষ্ট করে কথাটা বলার পর আর থাকা যায় না। ঠিক আছে তাহলে একটা ঘোড়া দাও, বলল অপমানিত বেনন।
পাঁচ মিনিট পরে ঘোড়া দাবড়ে যেদিক থেকে এসেছিল সেই টিলাটার দিকে এগোল ও। সত্যি সত্যি চলে যাওয়ার ইচ্ছে নেই মোটেও। দূরে গিয়ে অপেক্ষা করবে, নজর রাখবে র্যাঞ্চ হাউজের ওপর। হ্যাটার র্যাঞ্চে ফিরলেই গিয়ে হাজির হবে। লোকটার সঙ্গে অন্তত কথা বলে দেখা দরকার। বলা যায় না হয়তো জমি বেচতে রাজি করিয়ে ফেলবে।
চাঁদ ওঠেনি এখনও। রিজের গোড়ায় পৌঁছে আঁধারে চুপ করে বসে থাকল ও। অনেক দূরে র্যাঞ্চ হাউজের মিটমিটে আলো দেখা যাচ্ছে। তাকিয়ে থাকল সেদিকে। পাগলা হ্যাটারের শোবার ঘরটা বিকেলে চিনে রেখেছে। ওই ঘরে আলো জ্বলে উঠলেই বোঝা যাবে ফিরেছে লোকটা।
একটা চুরুট ধরাবে কিনা ভাবল ও। লোভটা সামলানো কঠিন। তাছাড়া আশেপাশে কেউ নেই যে ও এখানে আছে বুঝে ফেলবে। চুরুট আর ম্যাচ বের করে ফেলল সে। চুরুটটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে ম্যাচের কাঠি জ্বালতে গিয়েও পাথর হয়ে গেল। সোধ্বনি করেছে একটা ঘোড়া। খুবই কাছে। ওরটা নয় এটা নিশ্চিত। তাড়াতাড়ি নিজের ঘোড়াটার নাকে হাতচাপা দিল বেনন। ঘোড়াটা স্বজাতির ডাকে সাড়া দিলে ফাঁস হয়ে যাবে ওর অস্তিত্ব।
কে লোকটা? কি করছে এখানে? হ্যারি হুলাহান? ওকে অনুসরণ করে খুন করতে এসেছে? এক সেকেন্ডের মধ্যে প্রশ্নগুলো খেলে গেল বেননের মাথায়। পরমুহূর্তেই চারপাশে নুড়ি পাথর গড়ানোর আওয়াজে ওর ভুল ভাঙল। একজন নয়, অশ্বারোহী অন্তত সাত-আটজন। এগিয়ে আসছে লোকগুলো ওরই দিকে।
জেনেশুনে আসছে, নাকি না জেনে? নিশ্চিত হতে পারল না বেনন। লোকগুলো কারা তা এই আঁধারে বোঝার কোন উপায় নেই। হ্যাটারের ক্রু? তা কি করে হয়, হ্যাটার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে গেছে। রেলওয়ের ক্রুরা এখনও ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছে? ওর নিজের কাছেই সম্ভাবনাটা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হলো না। এত দূরে আসবে না তারা। একটা সম্ভাবনাই বাকি থাকল; এরা ক্যাম্পে হানা দেয়া সেই বদমাশের দল! কপালের লিখন খণ্ডাবে কে, আবার লোকগুলোর দেখা পেয়ে গেছে ও!
বেননের ঘোড়ার গায়ে ঘসা লাগাল আরেকটা ঘোড়া। নিচু স্বরে গাল বকল আরোহী। বেনন বুঝল ওর উপস্থিতি আর গোপন নেই।
<