সহজ পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে দু’জন, ওয়ারেনের সঙ্গে তাল মেলাতে জোরে পা চালাতে বাধ্য হচ্ছে আরচার। ওদিকে সিলভার বুলেট স্যালুনে অদৃশ্য হলো ওয়ারেনের তিন রাইডার, কনারস আর বিল এগোলো অ্যালটশেলার অ্যানড কার্য-এর দিকে, বারান্দায় থামলো ওরা, চেয়ে রইলো হোটেলের দিকে। ফীড স্টোরে গেল প্যাটেন, একটা জায়গা বেছে দাড়ালো, রেস্তরাঁর এক কোণে অবস্থান নিলো ওয়ারেনের অপর এক রাইডার।

হয়তো ওদের কোনো উদ্দেশ্য নেই, তবু সতর্ক থাকা ভালো ভেবে বাম হাতে টুপি ঠেলে পেছনে সরানোর ভান করে ডান হাতে হোলসটারের পিস্তল আলগা করে নিলে কলিন। অফিস থেকে বেরিয়ে এলো হেলার, রেস্তরাঁর দিকে এগিয়ে গেল। এবারও দেখা করা হলো না, ভাবলো কলিন, অবশ্য পরে করলেও চলবে, তাড়াহুড়োর কিছু নেই। ওয়ারেন আর অরচার হোটেলের বারা লায় উঠে এলো, চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ালো কলিন। চেহারা যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে মাথা দোলালো ওদের উদ্দেশে।

কলিন, বললে শেরিফ, এসো, পরিচয় করিয়ে দিই, রবার্ট ওয়ারেন–মিসটার ওয়ারেন, কলিন ফোর্বস।

সুপ্রভাত, ফোর্বস, বললে ওয়ারেন। সপ্রতিভ দেখাচ্ছে ওয়ারেনকে, কেন কে জানে মুচকি হাসছে সে।

হ্যালো, ওয়ারেন, বললো কলিন।

কেশে গলা পরিষ্কার করে নিলো আরচার। মিসটার ওয়ারেন, আমি আগেই ওর সঙ্গে ওর বাবার মৃত্যুর ব্যাপারে আলোচনা, করেছি। ওকে বলেছি এখানে তোমার কোনো দোষ নেই। প্রতিশোধ নিতে এখানে এসেছে কলিন, আমি তা বিশ্বাস করি না, তেমন ছেলেই ও নয়। টেরেন্স মিচেলের সঙ্গে ওর লড়াইটা অনভিপ্রেত, কিন্তু দুর্ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা উচিত। ওসব ভুলে গেলেই সবার মঙ্গল। আজ, এখানে কলিন ফোর্বস আর তোমার রাইডারদের মধ্যে যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা দূর করতে চাই আমি, এই লোকালয়ে কিছুতেই একটা ফিউড শুরু হওয়ার ঝুঁকি নিতে পারবো না আমরা।

আমি তোমার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত, বললো ওয়ারেন, আমার ছেলেরা মিচেলকে খুব পছন্দ করতো, তবু ওদের সঙ্গে আমি কথা বলবে, যথাসাধ্য চেষ্টা করবো ওদের লাইনে রাখার।

ওয়ারেনের আস্তাবলের ঘটনা এখানে বলার সুযোগ নেই, বুঝতে পারলো কলিন। শহরে মহৎ, বিবেকসম্পন্ন সুনাগরিকের ভূমিকায় নিখুঁত অভিনয় চালিয়ে যাবে ওয়ারেন, বোঝানোর চেষ্টা করবে বেসিনে নিরবিচ্ছিন্ন শান্তিই তার কাম্য। আপাতত ওর এই মুখোশ খুলে দেয়ার উপায় নেই। চেষ্টা করতে ক্ষতি কি? লোকটাকে একটু উস্কে দিলে কেমন হয়!

ফোর্বস র‍্যাঞ্চের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি আমি, শান্ত কণ্ঠে বললে কলিন, নিজেই ওটা চালানোর চেষ্টা করবো।

ভেবেছিলাম বিক্রির কথা বলবে, বললো ওয়ারেন, আমার কেনার ইচ্ছে ছিলো। তুমি ওয়াইওমিংয়ে একটা ভালো চাকরি করো বলে শুনেছিলাম…।

কিন্তু সবারই নিজের একটুকরো জমির স্বপ্ন থাকে।

জমির মালিক হওয়া ঝামেলার ব্যাপার।

তোমার জমি বেচবে নাকি, ওয়ারেন?

চোখ দুটো পিটপিট করে উঠলো ওয়ারেনের। নিশ্চয়ই না। আমার বয়স হয়েছে, তাছাড়া গোটা একটা সং সারের দায়িত্ব আমার কাঁধে!

আমারও একদিন সংসার হবে, বলে হাসলে কলিন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি যদিও, তবু যত ভাবছি ততই মন বলছে এখানে স্থায়ী হয়ে যাওয়াই ভালো।

পরস্পর চেপে বসলো ওয়ারেনের ঠোঁটজোড়া, এক মুহূর্ত, তারপরই সহজ হয়ে গেল আবার।

তাহলে শূন্য থেকে সব কিছু শুরু করতে হবে তোমার, বললো ওয়ারেন, আমার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে আগে, আদালত অবশ্যই আমার দাবীর পক্ষে রায় দেবে। যদ্দর জানি দেনা শোধ করতে গেলে একটা ফুটো পয়সাও আর থাকবে না তোমার হাতে।

সেক্ষেত্রে আমাদের সিনডিকেট থেকে প্রয়োজনীয় আনডার রাইটিংয়ের ব্যবস্থা করবো, টেনে বললো কলিন, ওরা র‍্যাঞ্চ কিনতেও রাজি হতে পারে, সম্ভাবনাটা খতিয়ে দেখতে হবে, অবশ্য তাড়াহুড়োর কিছু নেই, কি বল?

ভুরু কোচকালো ওয়ারেন, কিন্তু চেহারা স্বাভাবিক করে নিতে ভুলে গেল এবার।

এ-প্রসঙ্গে পরে কথা হবে, ফোর্বস।

আট-দশদিন পর, ঠিক আছে? অলস ভঙ্গিতে মাথা দোলালো কলিন। এখানেই পাবে আমাকে।

ছিটকে যেন দূরে সরে গেল রবার্ট ওয়ারেন, দাড়িয়ে পড়লো। সে, ঘাড় ফিরিয়ে কাঁধের ওপর দিয়ে তাকিয়ে বললো, এসো, শেরিফ, একসঙ্গে বসে ড্রিংক করা যাক। চলে!

আমন্ত্রণ নয়, নির্দেশ।

কলিনের দিকে তাকালে আরচার, যেন সতর্ক করে দিতে চাইলো, তারপর ঘুরে অনুসরণ করলে ওয়ারেনকে।

আবার চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো কলিন, লক্ষ্য করলো স্থান বদল করেছে বিল ওয়ারেন, প্যাটেন, কনারস আর অপর লোকটা, নতুন জায়গা থেকেও ওর ওপর নজর রাখা সম্ভব। অ্যারন হেলার অফিসের দিকে যাচ্ছে দেখে উঠে দাঁড়ালে কলিন, এগোলো সে দিকে। কনারসকে পাশ কাটিয়ে যাবার সময় ওকে দেখে গোঁফে তা দিয়ে চাপা গলায় বললো ওয়ারেন রাইডার, ছয় কি আট ঘণ্টা, ফোর্বস, এর বেশি সময় পাচ্ছে না তুমি, মৌজ করে নাও।

না শোনার ভান করে এগিয়ে চললল কলিন, ভাবছে; ছয় থেকে আট ঘণ্টা, আট ঘণ্টা পর সন্ধ্যা নামবে, তখন কেউ ওকে গুলি করলে ব্যাপারটাকে মিচেলের অজ্ঞাত কোনো বন্ধুর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ফল বলে চালিয়ে দেয়া যাবে অনায়াসে। আজ রাতে কোথায় লুকাবে ও?

হেলারের অফিসে পেীছে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো কলিন। চেয়ারে আরাম করে বই পড়ছিলো হেলার, পুরু চশমার ওপর দিয়ে তাকালো, কলিনকে দেখে খুলে রাখলো চশমাটা।

এসো, কলিন, তোমাকে দেখে খুশি হলাম, বললো সে। ওয়ারেন কিন্তু এখন শহরে, জানো?

হ্যাঁ, এইমাত্র আলাপ হলো।

কেমন লাগলো, ভালো?

ওপরে ওপরে তো ভালো মানুষ, আমাকে র‍্যাঞ্চ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলো। আমি প্রত্যাখ্যান করেছি।

ভালো।

মানে?

বিক্রি করতে চাইলে, বললো হেলার, এতে দরকষাকষির সুবিধে হয়।

আর বিক্রি করতে না চাইলে?

আসলে সময় পেতে চাইছে তুমি।

আমাকে কি করতে বলো?

সূক্ষ্ম হাসি হাসলো হেলার। আমার বলায় কিছু আসে যায় না, তুমি ভালোই জানে সেটা। বোকার মতো যদি রবার্ট ওয়ারেনের সঙ্গে লড়াই ৰাধানোর সিদ্ধান্ত নিতে চাও, নেবে, আমার কি করার আছে।

সেদিন এখান থেকে ডাক্তার মারভিনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ছিলাম আমি, বলল কলিন, সতর্ক ছিলাম যাতে কেউ না দেখে, অথচ ঠিকই ওখানে আমার জন্যে ওত পেতে ছিলো ওরা, মানে ওয়ারেন রাইডাররা। ওয়ারেন অবশ্য পরে এসে ওদের নিরস্ত করে ছিলো, আমাকে হত্যা করলে জনমত বিরুদ্ধে চলে যাবে, বুঝতে পেরেছিলো সে। ওয়ারেন ইতিমধ্যে সবার মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, ওর সব রাইডার মিচেলকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো, ওদের সামলে রাখা কঠিন হবে, সোজা কথায়, আমাকে ওরা মার বেই, শুধু সুযোগের অপেক্ষা। কিন্তু কথা সেটা নয়, আমার প্রশ্ন : আমি মারভিনের কাছে যাচ্ছি ওর জানলো কিভাবে?

আমি বলেছি কিনা?

বলোনি?

নাহ। ওরা তো আগে থেকেই জানতো তুমি শহরে অআসছে, মনে হয় আন্দাজ করে নিয়েছে ডাক্তারের ওখানে একসময় যাবেই, মারভিনের বাড়ির দিকে নজর রাখছিলো নিশ্চয়ই। •

তা হতে পারে, কিংবা হয়তো ডাক্তার মারভিনের বাড়িতে যেতে দেখেছে ওরা!

ব্যাংকে বাবার কত টাকা আছে?

হাজার পাঁচেকের বেশি না।

ওর দেনার পরিমাণ কত?

অনাদায়ী ঋণ নেই, তবে ওর সম্পত্তির বিরুদ্ধে পঁচিশ হাজার ডলারের একটা দাবী আছে–ওয়ারেন ওর গরুর আনুমানিক মূল্য হিসেবে এই টাকাটা দাবী করেছে।

ফোর্বস র‍্যাঞ্চে এখন কতগুলো গরু আছে?

ইদানীং গোণা হয়নি, তবে ডার্ক পিট আছে ওখানে, ওর ধারণা বারো থেকে পনেরো শ’য়ের মতো হতে পারে।

মাত্র!

মাস দুয়েক আগে প্রায় একহাজার গরুর একটা পাল স্প্রীংগার ভিলে চালান দিয়েছিলো ড্যানিয়েল ফোর্বস।

সেই টাকা গেল কোথায়?

জানি না। র‍্যাঞ্চেই আছে হয়তো, কিংবা আমাদের অজানা কোনো ঋণ শোধে ব্যয় করেছে। আমি এখন ওর কাগজপত্র পরীক্ষা করছি, দেখি কোনো সূত্র পাওয়া যায় কিনা।

আমি ফোর্বস র‍্যাঞ্চ চালাতে চাইছি বলেছিলে ওয়ারেনকে?

হ্যাঁ।

কি বললো?

তোমার সঙ্গে নাকি কথা বলবে। র‍্যাঞ্চ চালাতে চাইলে আগে ওর পাওনা কড়ায়গায় মিটিয়ে দিতে হবে।

এবং পঁচিশ হাজার ডলার শোধ করতে গেলে ফতুর হয়ে যাবো আমি।

ওয়ারেনের ধারণাও তাই।

ঘাড় ফিরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো কলিন। আবার জায়গা বদল করেছে বিল ওয়ারেন আর লুইস প্যাটেন।

হেলার, বললো ও, কি এমন ঘটেছিলো এখানে যার কারণে পুরো এক পাল গরু স্ট্যামপিড করে মারতে বাধ্য হলো আমার বাবা? শত্রুতা থাকলে কেন সামনাসামনি মোকাবিলা করলো না?

ওয়ারেনকে কখনো একা পাওয়া সম্ভব নয়, সেজন্যে হয়তো। ওর প্রায় সব লোকই গানগিংগার।

না, এটা কোনো কারণ হলো না। ম্যাকমিলানের সঙ্গে বাবার একবার গোলমাল বেঁধেছিলে,মনে আছে? তোমার মনে নাও থাকতে পারে। অনেক আগের ঘটনা। আমার বয়স তখন ষোলো। এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ক্রীক শুকিয়ে ফাটা-ফাটা হয়ে গেছে। ক্রীক ধরে পাহাড়ে গেলাম আমরা, দেখা গেল, ডিনামাইট ফাটিয়ে কীকের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে ম্যাকমিলান। ওখান থেকে সোজা ম্যাকমিলান র‍্যাঞ্চে গেলাম আমরা, পথে শীতের জন্যে জমানো ম্যাকমিলানের বেশ কয়েকটা খড়ের গাদা চোখে পড়লো, ওগুলোয় আগুন ধরিয়ে দিতে চাইলাম আমি, কিন্তু বাবা কিছুতেই মত দিলো না। র‍্যাঞ্চে পৌঁছে পিস্তল হাতে ম্যাকমিলানের মুখোমুখি হলো বাবা, সেদিনচোখের সামনে আজরাইলকে প্রত্যক্ষ করেছিলো ম্যাকমিলান, ওকে ক্ৰীকের মুখ খোলার জন্যে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিলো, দেরি করেনি সে।

কিন্তু ম্যাকমিলান আর ওয়ারেন এক নয়। হার মানার লোক নয় ওয়ারেন।

কিন্তু তবু বাবা কেন ওর গরু হত্যা করলে তা দুর্বোধ্য হয়ে যায়। বাবার সঙ্গে ওয়ারেনের ঝগড়ার আসল কারণটা কি?

জানি না, কলিন, তবে এটা বলতে পারি, প্রায় সব ব্যাপারেই ওরা দ্বিমত পোষণ করতো, কিন্তু এতে তোমার প্রশ্নের জবাব মিলবে না; অবশ্য স্পষ্ট করে এটুকু বলা যায়, শহরের বাইরে উঁচু এলাকায় ড্রাই ফ্রীকে তিনটি নবাগত পরিবার বসতি করেছিলো, ওদের উৎখাত করতে চাইছিলো ওয়ারেন, হোমস্টিডারদের জন্যে বেসিন কে একরকম নিষিদ্ধ করার ইচ্ছে ছিলো তার, কিন্তু তোমার বাবা ওদের জ্বালাতন করতে নিষেধ করে দিলো, সংঘর্ষের ঠিক আগের ঘটনা এটা, অবশ্য আগেই বলেছি সব তাতেই ওদের এমন পরস্পরের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে; সব মিলিয়ে গোটা ব্যাপারটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। ওয়ারেন চাইছিলো এখানে সবকিছু তার ইচ্ছেয় চলবে, বেসিনের সবচেয়ে শক্তিশালী লোক হতে চেয়েছে সে, কিন্তু যখনই কোনো ব্যাপারে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে তোমার বাবা…আমার ব্যক্তিগত ধারণা কি শুনবে?

বলো।

আমার বিশ্বাস ওদের দুজনের ছোট ছোট বিরোধগুলোই শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে পাহাড়ের রূপ নিয়েছে, সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে ওয়ারেনের, তোমার বাবার মনের অবস্থাও একই পর্যায়ে পোঁছে গিয়েছিলো।

তুচ্ছ ব্যাপারগুলোই ওয়ারেনের গরু হত্যায় প্ররোচিত করেছে বাবাকে?

শেষ পর্যন্ত একজন তো ভেঙ্গে পড়তোই, তোমার বাবা…

কিন্তু ড্যানিয়েল ফোর্বস ভেঙ্গে পড়ার মানুষ নয়!

নিজের বাবা তাই বলছো এ-কথা। পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিষ্কার। এভাবে দেখো ব্যাপারটা : বেসিনে ওয়ারেনের বিরুদ্ধে একজনকে দাড়াতেই হতো, তোমার বাবা সেই ভূমিকা গ্রহণ করেছে, চরম আঘাত হেনেছে এক সময়; এখন যদি ওয়ারেন তোমার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাবার ভরসায় না থাকতো রীতিমতো টাকা পয়সার ব্যাপারে টানাটানি পড়ে যেতো তার।

অথচ আগে বললে আমাদের র‍্যাঞ্চ কেনার ক্ষমতা আছে তার?

তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট একটা দাবী থাকায় র‍্যাঞ্চটা পানির দরে কিনে নিতে পারতো সে; তাছাড়া, ঋণের ব্যবস্থা করা ওর জন্যে সমস্যা হতো না। তোমার কাছে পাওনা টাকা যে কোনো লোকসানের বিরুদ্ধে বীমার কাজ করতো।

এখন আমার কি করা উচিত?

বলেছি তো। একটা লোকই সব ঝামেলার মূল। রবার্ট ওয়ারেন।

ওকে ঘৃণা করো তুমি, তাই না? কেন?

নিজেদের যারা শ্রেষ্ঠ মনে করে আমি তাদের অপছন্দ করি।

নিজের ক্রোধের তীব্রতায় নিজেই হতবাক হয়ে গেল অ্যাটর্নি। কলিনের দৃষ্টির সামনে বিব্রত মনে হলো তাকে। হাতের বইটা একপাশে নামিয়ে রেখে উঠে দাড়ালো সে, তারপর, পায়চারি শুরু করলো। বেশ কিছুক্ষণ পায়চারির পর থেমে আবার কলিনের মুখোমুখি হলো।

ওয়ারেনের এখন সুসময়, তিক্ত কণ্ঠে বললো হেলার, ওর সামনে বাধা হয়ে দাড়ানোর মতো কেউ নেই এ-তল্লাটে। মসেল মান, স্মিথ, ডেভিস, চার্লস-কারুরই সাহস নেই ওর বিরোধিতা করার। তুমিও ওর সঙ্গে পেরে উঠবে না-সুযোগই পাবে না।

যদি না ওকে খুন করি, শান্ত কণ্ঠে বললো কলিন, তাই না, হেলার?

চমকে তাকালো অ্যারন হেলার। কেন নয়? তোমার বাবার মৃত্যুর জন্যে কে দায়ী?

পকেটে হাত ঢোকালো কলিন ফোর্বস। আরেকবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো, তারপর বললো, সেটাই করতে হবে হয়তো, হেলার, তবে এখন নয়। আরো ভালো করে ব্যাপারটা বুঝতে চাই আমি। এখন আমার হয়ে একটা কাজ করতে হবে তোমাকে।

কি?

জেমস জি. হ্যাগারটি, প্রেসিডেন্ট, ওয়াইওমিং অ্যাণ্ড ওয়েস্টার্ন ল্যান্ড অ্যাণ্ড ক্যাটল কোমপানী, এমপায়ার বিলডিং, শিকাগো এই ঠিকানায় একটা চিঠি লিখতে হবে, ‘প্রিয় জিম’ দিয়ে শুরু করবে, শেষে আমার নাম থাকবে, লিখবে আমাদের র‍্যাঞ্চটা যে অবস্থায় আছে ঠিক এই অবস্থায় নগদ পঁচিশ হাজার ডলারে কিনে নিতে পারে ওরা এবং আমি আগের বেতনেই এখানে থেকে এটার দেখাশোনা করতে রাজি আছি; এ-প্রসঙ্গে ওদের একথা মনে করিয়ে দেবে যে, নিউ মেকসিকোতে ওদের ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটাকে বিবেচনা করা যেতে পারে। জায়গাটা অনেক সস্তায় পাবে ওরা। লিখো, র‍্যাঞ্চে এখন তিন হাজারের মতো গরু আছে। আমরা বলবে, ওরা র‍্যাঞ্চ কিনবে ধরে নিয়ে এখানে কোমপানীর পক্ষে আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। তবে চিঠিটা আবার ডাকে দিয়ো না, রবার্ট ওয়ারেনকে শুধু ওটার একটা কপি দেখাবে, ব্যস।

ওয়ারেন ওটা পড়ার পর কতক্ষণ তোমার আয়ু থাকবে?

আয়ুর কথা কে বলতে পারে? হাসতে হাসতে বললো কলিন। চিঠিটা দেখানোর উদ্দেশ্য ওয়ারেনকে বোঝানো ওর দাবী মেটানোর সামর্থ আমার আছে, ফোর্বস র্যাঞ্চ চালানো সম্ভব এবং বিক্রি যদি করতেই হয়, সে ছাড়াও খদ্দের আছে। প্রতিক্রিয়া কি হয় দেখা যাক না।

প্রতিক্রিয়া কি হবে বলেছি।

তবু নিজের চোখে দেখতে চাই, বললে কলিন, চিঠিটা লিখে ওয়ারেনকে দেখাও।

দরজার দিকে এগিয়ে গেল কলিন, বাইরে পা রাখলো। অ্যারন হেলারের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় ও। অজ্ঞাত কোনো কারণে ওয়ারেনকে ঘৃণা করে অ্যাটর্নি। ওকে এখানে এনে ওয়ারেনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার মতলবেই ওয়াইওমিংয়ে ওর ঠিকানায় চিঠি লিখেছে সে।

আক্রোশে জ্বলছে হেলার, তার পক্ষে পরিস্থিতির নিরপেক্ষ মূল্যা যন কি সম্ভব?

আবার হোটেলে ফিরে এলো কলিন। ওয়ারেন রাইডাররা এখনো আছে রাস্তায়। চেয়ার টেনে বসে পড়লো ও, হেলান দিলো, কনারসের হুমকির কথা মনে পড়ে গেল ওর।

রাত পর্যন্ত সময় আছে, ভাবলো, সময়টা কাজে লাগানো যাক।

ওয়ারেনের সঙ্গে স্যালুনে গিয়েছিলো জেফরি আরচার, ওখান থেকে বেরিয়ে অফিসের দিকে যাচ্ছে এখন। অ্যালটশেলার অ্যাণ্ড কার্য থেকে বেরিয়ে এলো ববলিনডা, অন্য একটা দোকানে গেল, নিজের অবস্থান ছেড়ে সিলভার বুলেট স্যালুনে ঢুকলো প্যাটেন, কিন্তু কনারস বা বিল নড়লো না।

টুপি টেনে মুখের ওপর আনলে কলিন, চোখ বন্ধ করলো। পুরো ব্যাপারটা পর্যালোচনা করতে চায়, হঠাৎ হ্যারলড লেভিটের কথা মনে পড়ে গেল, টুপি সরিয়ে উঠে বসলো ও। বহু বছর ওদের র্যাঞ্চে কাজ করেছে হ্যারলড। বাবা ওকে বিশ্বাস করতো, নির্ভর করতো ওর ওপর। হ্যারলড স্ট্যামপিডে অংশ নিয়ে থাকলে এর পেছনের কারণটা নিশ্চয়ই তার জানা থাকবে। গতকালই জিজ্ঞেস করলো না কেন?

উঠে দাড়ালো কলিন, সোজা শেরিফের অফিসে গিয়ে ঢুকলো। ডেস্ক থেকে পা নামিয়ে বসলো আরচার, বিষণ্ণ চেহারা।

হ্যারলড লেভিটের সঙ্গে কথা বলবো, বললো কলিন।

কেন?

স্ট্যামপিড প্রসঙ্গে আলাপ করবো।

কাল রাতে একবার করলে না?

আবার করবো, বললো কলিন, আপত্তির কোনো কারণ আছে নাকি?

খুব ভালো একটা কারণ আছে, বললো অরচার। হ্যারলড লেভিট চলে গেছে। সকালের আগেই বেসিন ছেড়ে চলে যাবে কথা দেয়ায় ওকে শেষ রাতে ছেড়ে দিয়েছি আমি। ওয়ারেনের লোকেরা যেভাবে তোমার ওপর নজর রাখছে–এটাই যথেষ্ট, লেভিটকে আটকে রেখে আর ঝামেলা বাড়াতে চাই না।

কোন দিকে গেল ও?

আমি কি করে জানবো? পশ্চিমে বোধ হয়। তুমি র‍্যাঞ্চে উঠতে যাচ্ছো–নিশ্চয়ই মন থেকে বলেনি কথাটা?

অবশ্যই বলেছি।

র‍্যাঞ্চ চালাবে, পয়সা কোথায়?

একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

কেউ টেরেন্স মিচেলের বদলা নিতে চাইলে কি করবে?

সেটা তখনই ঠিক করা যাবে।

এসব আমার ভালো ঠেকছে না, কলিন, তালিকাটা অনেক লম্বা, ওয়ারেনের অর্ধেকের বেশি লোক–

হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করলো কলিন। বাদ দাও তো, শেরিফ। আসল ঘটনা তুমি জানো। রেঞ্জে টেরেন্স মিচেলের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিলো, রেডফিলড ছিলো ওর সঙ্গে, রেড ফিলডের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, কিন্তু মিচেলের সঙ্গে ধরতে গেলে কথাই হয়নি, তারপর ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খানিকটা দূরে এসে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি পিস্তল বের করছে মিচেল, একটু হলেই পেছন থেকে গুলি করতে সে আমাকে, আমি যা করেছি, পরিষ্কার, আত্মরক্ষার খাতিরেই মিচেলকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছি।

হয়তো তাই। আর কেউ হলে অবশ্য—

কিন্তু টেরেন্স মিচেলই মারা গেছে, তো সেজন্যে কি করতে হবে, লেজ তুলে পালাবো?

আগেও একবার তাই করেছিলে, সেই লোকটারও প্রচুর বন্ধু বান্ধব ছিলো।

তখন আমার বয়স অনেক কম ছিলো, পালানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেছিলাম। কিন্তু সারাজীবন কারো পক্ষে পালিয়ে বেড়ানো সম্ভব নয়, শেরিফ। মোট কথা এবার আমি থাকছি। রবার্ট ওয়ারেনকে বলে দিয়ে ওর লোকদের যেন সামলে রাখে।

বলেছি। ও চেষ্টা করবে বলেছে। ওয়ারেন সব রকম সহযোগিতা করতেই রাজি আছে, কিন্তু ওর রাইডাররা যদি বেঁকে বসে? আমি তোমাকে সতর্ক করছি, কলিন–।

বাদ দাও, বিড়বিড় করলো কলিন, দ্রুত বেরিয়ে এলো।

দুই কদম সামনে এগিয়ে গতি কমালো।

স্টেজ স্টেশন থেকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে বিল। রিভার বেনড় স্যালুনের কোণে কনারস, নাপিতের দোকানের দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়িয়েছে আরেকজন পাহারা দিচ্ছে।

<

Super User