তিনদিন পর বিছানা ছাড়ল ব্রুকস। লরিয়ার যুক্তি বা বাধা কোনটাকেই পাত্তা দিল না। শুয়ে শুয়ে বিরক্তি ধরে গেছে। হোলস্টারগুলো বাধার সময় লক্ষ্য করল রেগে গেছে মেয়েটা, মুখ থমথমে দেখাচ্ছে। নিঃশব্দে সরে গেল জানালার কাছে, দাঁড়াল। দৃষ্টি বাইরে। লোহার গ্রিল চেপে ধরা আঙুলগুলো ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে।
এ পরিবারটার কাছে ওর অনেক ঋণ, ভাবছে ব্রুকস, বিশেষত এ মেয়েটির কাছে। এরা হাত বাড়িয়ে না দিলে অনেক আগেই বুটহিলে জায়গা নিতে হত। নিঃস্বার্থ এ পরোপকার বিপদ ডেকে এনেছে ওদের জন্যে। জুলিয়াস পারকার নিশ্চয়ই ভুলে যাবে না। সম্ভবত ব্রুকসের সাথে লেন-দেন চুকিয়ে তারপর এদের দিকে মনোযোগ দেবে দাম্ভিক বুড়ো। সেটা হতে দেয়া যাবে না, যে করেই হোক, সিদ্ধান্ত নিল ব্রুকস। প্রয়োজনে পাইকারি হারে খুন শুরু করবে, সমূলে বিনাশ করবে পারকারদের। জানে তারপরও ফ্ল্যাগানদের ঋণ শোধ হবে না।
শরীরে খিল ধরে গেছে, টের পেল ও, আড়ষ্ট দেহ নড়তেই চাইছে না। কিছুক্ষণ উঠ-বস করল, হাত-পা ঝাড়ল। তারপর ড্র করল কয়েকবার। শ্লথ মনে হচ্ছে। এটা অবশ্য কেটে যাবে, একটা দিনের ব্যাপার।
লরিয়া কামরা থেকে বেরিয়ে যেতে অসহায় বোধ করল ও। মেয়েটার খুব বেশি আগলে রাখার প্রবণতা ওকে পীড়া দিচ্ছে। জানালার কাছে এসে দাঁড়াল, প্রেইরির ওপর চোখ রাখল। জেমস ফ্লাগান বাথানটাকে ভালই সাজিয়েছে, বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে হাঁটু সমান সবুজ ঘাস, তাগড়া সব গরু চরে বেড়াচ্ছে। নিঃসন্দেহে সার্কেল-এফ বেসিনের সেরা বাথানগুলোর একটা।
দিগন্তে চলে গেল ওর দৃষ্টি, মরগান পিক্সের আবছা অবয়ব চোখে পড়ছে এখান থেকে। নিজের কেবিনের লে-আউট মনে পড়ল ওর, ক্লিষ্টভাবে হাসল, এখন তো কিছুই নেই। গ্যারেটরা হয়তো পাহাড়ে রাত কাটাচ্ছে।
রাইফেল হারিয়েছে, পিস্তলের জন্যে নেই বাড়তি বুলেট। বাফেলোতে যেতে হবে। কেবিন তৈরি করতে হবে, ভাবছে ব্রুকস, লকহার্টের কাছে প্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যাবে। গ্যারেটরা থাকায় ভালই হয়েছে, ওর একার পক্ষে যেটা এক সপ্তাহের কাজ, তা দুদিনে শেষ হয়ে যাবে। বার্ন, করাল, শীত মরসুমের জন্যে একটা অতিরিক্ত শেড এবং র্যাঞ্চ হাউস…প্রচুর খরচ হবে। আগে বিল কারভারের কাছে যেতে হবে। জমানো টাকার বড় একটা অংশ খরচ হয়ে যাবে, তাতে অবশ্য দুঃখ হচ্ছে না। এবার আর কাউকে পোড়াতে দেবে না।
লরিয়া ঢুকল, চাপা অসন্তোষ ওর চোখে-মুখে। তোমার ঘোড়া তৈরি।
আমার ঘোড়া? হা, অ্যাপলুসাটা। ওটা আবার আমার হলো কবে থেকে?
হলো। এখন থেকে।
কিন্তু ওটা তোমার প্রিয় ঘোড়া।
ক্ষীণ হাসল লরিয়া, আয়ত সবুজ চোখ তুলে রাখল ব্রুকসের চোখে। কাউকে কিছু দিতে হলে প্রিয় জিনিসটাই তো দিতে হয়, তাই না? তোমার কাছ থেকে শিখেছি।
শ্রাগ করে দরজার দিকে এগোল ব্রুকস।
আবার কবে আসবে?
থেমে দাঁড়াল ও, ঘুরল ধীরে ধীরে। জানি না…হয়তো কখনোই নয়।
বিবল দেখাল লরিয়াকে, উত্তরটা ওকে আহত করেছে।
নিজের কথা বলার এটাই উপযুক্ত সময়, তাছাড়া ওর রাগ ভাঙানো উচিত, সিদ্ধান্ত নিল ব্রুকস। কাছে গিয়ে মেয়েটার হাত তুলে নিল নিজের হাতে। লরিয়া?
মুখ তুলল ফ্লাগান-কন্যা, ওর চোখজোড়া কাঁপছে।
আমার ছোট্ট জায়গাটা তোমার পছন্দ হয়?
ঘন ঘন বার কয়েক মাথা দোলাল লরিয়া।
সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে…শুরুতে কয়েকটা দিন হয়তো কষ্ট হবে তোমার।
আমি পারব?
তাহলে পরেরবার যখন আসব, কেবল তোমার জন্যেই…আমি তোমাকে নিতে আসব।
ওহ, কি নিষ্ঠুর তুমি, স্যাম! ব্রুকসের বুকে আছড়ে পড়ল লরিয়া। এটা শোনার জন্যে আমাকে এতদিন অপেক্ষা করতে হলো!
হেসে ওকে জড়িয়ে ধরল ব্রুকস। মাত্র তো কয়েকটা দিন অপেক্ষা করেছ তুমি, আর আমাকে ধৈর্য ধরতে হয়েছে তিনটে বছর। নিজেকে তৈরি করতে হয়েছে তোমার জন্যে।
সত্যি?
হ্যাঁ।
তিনটা বছর, অথচ কোনদিন আমার সামনে আসোনি তুমি। ঠিক বিশ্বাস হয় না। কয়েকদিন আগে পরিচয়…তারপর অনেক ঘটনা… কিভাবে যে ঘটে গেল! ঠিক স্বপ্নের মত…
এ ব্যাপারে বাড পারকারের কাছে কৃতজ্ঞ আমরা, হেসে হালকা সুরে বলল ব্রুকস। ও-ই আমাদের কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
লরিয়ার উষ্ণ আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হতে চাইলে ওকে আরও গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরল মেয়েটা। দুহাতে গলা ধরে ঝুলে থাকল। আরও একটা দিন থাকো, স্যাম। গ্যারেটরা তো আছেই, ওরাই সব সামাল দেবে। সবুজ চোখে বিপুল প্রত্যাশা ফুটে উঠল।
গ্যারেটরা আমার হয়ে খাটছে, অথচ আমি এখানে বসে আছি, কোন কাজে আসছি মা, এটা কি ভাল দেখায়? একটা দিনই বা দেরি করব কেন? ঝামেলাটা যত তাড়াতাড়ি শেষ হবে তত আগে আমার শান্তিপ্রিয় জীবনে ফিরে যেতে পারব। একদিন আগে তোমাকে নিতে আসতে পারব।
স্যামুয়েল ব্রুকস, তুমি খুব চালাক। তুমি সবসময়ই কিছু একটা বুঝ দিয়ে আমাকে নিরস্ত করে ফেলল। এমনকি মিথ্যে বলতেও তোমার বাধে না! লরিয়ার কণ্ঠে অসন্তোষ চাপা থাকল না।
এখানে আমি যা করেছি, বলেছি…সবই তোমাকে পাওয়ার জন্যে, লরিয়া!
একটু পর বেরিয়ে এল ওরা। বারান্দায় অপেক্ষা করছিল ফ্ল্যাগান দম্পতি। অর্থপূর্ণ দৃষ্টি বিনিময় হলো দুজনের মধ্যে।
মহিলাকে নড় করল ব্রুকস। ঘুরে আঙিনার দিকে তাকাল, স্যাডল চাপানো হয়েছে অ্যাপলুসায়। কাছে গিয়ে ওটার গলা, কাঁধ আর পাজরে হাত বুলাল। চুপ করে দাড়িয়ে থেকে আদর উপভোগ করল ঘোড়াটা। স্যাডলে চাপার পরও আপত্তি করল না।
কাছে এসে দাঁড়াল লরিয়া। সাবধানে থেকো, প্লীজ! নিচু কণ্ঠে অনুরোধ করল। ওর কণ্ঠের উদ্বেগ আর আন্তরিকতাটুকু ছুয়ে গেল ব্রুকসকে। মাথা ঝাকিয়ে, ফ্ল্যাগান-দম্পতির উদ্দেশে হাত নেড়ে স্পর দাবাল।
বাপের সামনে গিয়ে দাঁড়াল লরিয়া। বাবা, আমি কি ভুল করেছি?
মেয়েকে কাছে টানল ফ্ল্যাগান। না, লরা। একটু কঠিন মানুষ ও, কিন্তু নিশ্চিন্তে নির্ভর করা যায়। কখনও জোর করবি না, বিগড়ে যাবে তাহলে। এ জিনিসটা ওর ধাতে নেই, স্বাধীনচেতা লোক!
নিজের জমিতে ফিরে এসেছে স্যামুয়েল ব্রুকস।
কেবিনের জায়গায় শুকনো ছাই আর পুড়ে যাওয়া কাঠের কিছু অবশেষ আছে কেবল। বার্ন আর করালটাও বাদ যায়নি। দানবীয় আক্রোশে ইচ্ছেমত তছনছ করা হয়েছে সজি বাগানগুলো। বুকে অপরিসীম কষ্ট অনুভব করল ব্রুকস, এগুলোর পেছনে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে ওকে। এর শোধ ও নেবে, সময়ে সুদাসলে পাওনা বুঝে পাবে পারকাররা।
ইতোমধ্যে অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে গ্যারেটরা। অস্থায়ী একটা শেড তৈরি করে তাতে রসদ রেখেছে। একপাশে রান্নার কাজ সারার জন্যে খানিকটা জায়গা। ভাঙা ওঅটর ট্রাফটাকে কিভাবে যেন জোড়াতালি দিয়ে দাড় করিয়ে ফেলেছে। সামনে শীত আসছে, এ কথা ভেবে বড়সড় ঘাস কেটে উপত্যকায় জমা করতে ভোলেনি। যদ্দূর সম্ভব সজি বাগানের যত্ন নিয়েছে। এছাড়া বাথানের স্বাভাবিক কাজগুলো তো আছেই। বোঝা যাচ্ছে ওরা কাজের লোক।
আমার জন্যে কিছু বাকি রাখোনি তোমরা। সন্তুষ্টি প্রকাশ করল ব্রুকস।
এ আর এমনকি! তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বলল প্যাট গ্যারেট। টেক্সাসে এরচেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করি আমরা।
শহরে কোন ঝামেলা হয়নি তো?
লকহার্টের স্টোর থেকে বেরিয়ে আসার সময় স্টিরাপের সাথে দেখা হয়েছিল, ও শহরে ঢুকছিল তখন। একা থাকায় বাতচিৎ করেনি, হিসেবী মানুষ তো। তবে শাসাতে ভুল করেনি, পারকার নাকি খেপে বোম হয়ে আছে।
বার-পি দের বেশিরভাগই প্যালেসে আস্তানা গেড়েছে, যোগ করল ব্র্যাড। ধুমসে মদ গিলছে। এখনও তেমন কিছু করেনি, কিন্তু করতে কতক্ষণ? শহরবাসীদের পাঁচ-ছয়জনের একটা দল জ্যাক হবসের অফিসে গিয়ে শহর পরিষ্কার করার দাবি জানিয়ে এসেছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে পারকারের ক্রুরা শহরের লোকদের কি রকম তটস্থ রেখেছে।
তারমানে…হবস কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
বুড়োর হাড় শক্ত। দুএকজন কঠিন লোক পেলে কাজটা সারতে পারবে ও। তবে এ ঠেলায় বোধহয় চাকুরিটা থাকছে না আর, পারকার পছন্দ করছে না, আবার ওকে বসে থাকতে দেখে লোকজনও খেপে যাচ্ছে।
বাফেলোতে যাচ্ছি আমি।
নিশ্চয়ই মার্শালকে সাহায্য করতে নয়?
রাইফেল আর পর্যাপ্ত গুলি দরকার। কেবিন, বার্ন, করাল…এসবের জন্যেও রসদ আনতে হবে। তোমাদের কিছু দরকার থাকলে বলতে পারো।
তুমি মানুষটা দেখছি সুবিধের নও, হাসল ব্র্যাড। বুঝতে পারছি মওকা পেয়ে আমাদের বেশ খাটিয়ে নেবে।
আমরাও যাব। প্যাটের প্রস্তাব।
উঁহু, তোমরা এখানেই থাকছ। আমি ওদের এড়িয়ে চলব, তবু সামনাসামনি পড়ে গেলে সামলাতে পারব বোধহয়। তাছাড়া মনে হয় না শহরে, সবার সামনে ওরা আমার ওপর হামলা করবে।
বুঝেছ, প্যাট, সবটা একাই মেরে দেয়ার তালে আছে ও। না বাপু, তোমার সাথে যাচ্ছি আমি। এ সুযোগে গলাও ভেজানো যাবে। তুমি থাকছু, প্যাট। রান্নার কাজটা সেরে রেখো। দ্রুত স্যাডলে চাপল ব্র্যাড, ভাইকে কোন সুযোগ না দিয়ে ঘোড়া ছোটাল।
টেক্সানকে অনুসরণ করল ব্রুকস।
দুপুরের আগে বাফেললা টাউনে পৌঁছে গেল ওরা। ব্র্যাড গ্যারেটের মধ্যে খামখেয়ালী ভাবটা উধাও হয়ে গেছে। তীক্ষ্ণ সতর্ক দৃষ্টি ঘুরে বেড়াচ্ছে চারপাশে, বাড়ির ছাদগুলো পর্যন্ত বাদ দিচ্ছে না। মাঝরাস্তা ধরে ধীরে এগোল ওরা। পারকারের সেলুন প্যালেস-এর সামনে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। হিটিং রেইলে ছয়টা ঘোড়া বাঁধা, একটাতেও বার-পির মার্কা নেই। থাকবে এমন কোন কথাও নেই, ভাড়াটে লোকগুলোর বেশিরভাগই নিজেদের ঘোড়া ব্যবহার করছে।
ল-অফিস ছাড়িয়ে বিল, কারভারের অফিসের সামনে এসে থামল ওরা। স্যাডল ছেড়ে সিঁড়ি ভেঙে উঠতে শুরু করে ব্রুকস খেয়াল করল অনুসরণ করছে না ব্র্যাড, সাইডওকে দাঁড়িয়ে আছে।
কারভারের সাথে কাজ তত তোমার, আমি গিয়ে কি করব? তারচেয়ে এখানেই থাকি। কেউ এলে আগে-ভাগে জানতে পারব। তাছাড়া, প্যালেসের ওপরও চোখ রাখা যাবে।
শ্রাগ করে এগোল ব্রুকস।
অফিসেই ছিল বিল কারভার। উঠে দাঁড়িয়ে হাত মেলাল আইনজ্ঞ। বড় শক্ত প্রাণ তোমার, স্যাম। আমরা তো ভেবেছি তুমি আসলেই শেষ। আমি একটা ভুল করেছি…মিস ফ্ল্যাগানকে জানিয়ে দিয়েছি সব।
ঠিকই করেছ, হেসে তাকে আশ্বস্ত করল ব্রুকস।
উইলটা বাতিল করতে এসেছ?
লরিয়ার জেদী মুখটা ভেসে উঠল ব্রুকসের মানসপটে। না, ওটা ওরকমই থাকবে। আমি বরং ওর ভাগ থেকে কিছু খসাতে এসেছি।
গতকাল তোমার রিওয়ার্ডের টাকা দিয়ে গেছে হবস। সতেরোশো।
তাহলে ওটাই দাও। এভাবে কামাই করা মন্দ নয় দেখছি।
ঝুঁকি আছে, ব্রুকসের কৌতুকে যোগ দিল কারভার। উঠে গিয়ে ডেঙ্ক থেকে একটা ফাইল নিয়ে এল। তোমার চেয়ে টাফ কারও সামনে পড়ে যেতে পারো। ভাগ্য তো সব দিন সমান যায় না। ড্রয়ার খুলে টাকা বের করে দিল। একটা রসিদ লিখে দাও, আর ফাইলে একটা স্বাক্ষর।
শেষমেশ তুমিই দেখছি আমার ব্যাংকার হয়ে গেলে।
মন্দ লাগছে না। তোমার মত আরও কয়েকজন হলে সবার টাকা দিয়ে একটা ব্যাংক চালু করব কি-না, পরে ভেবে দেখা যাবে। মার্টিন র্যাঙ্কিন অবশ্য খেপে যাবে, ছোট্ট একটা শহরে একজন প্রতিদ্বন্দী কে-ই বা চায়।
চলো, একসাথে পান করা যাক। উঠে দাঁড়াল ব্রুকস।
ধন্যবাদ, আজ নয়। আরেকদিন।
বেরিয়ে এসে গ্যারেটকে এক মহিলার সাথে আলাপ করতে দেখল ও। মহিলার কাছ থেকে বিদায় নিল টেক্সান। ফিরতি পথে এগোল ওরা। পারকারের সেলুনের পোর্চ তেমনি ফাঁকা, তবে রেইলে একটা ঘোড়া বেড়েছে, বার-পি ব্র্যান্ড দেয়া। করবেট এসেছে। আমাকে দেখে এমন ভেঙচি মেরেছে যে আরেকটু হলে অজ্ঞান হয়ে যেত ওই মহিলা। স্বভাবসুলভ হেঁয়ালিভরা কণ্ঠে জানাল ব্র্যাড।
কি বুঝছ?
নির্ঘাত ঘোট পাকাচ্ছে। মনে হচ্ছে সহজে বেরোতে পারব না।
আগে কাজ সেরে নিই, তৃষিত দৃষ্টিতে ব্র্যাডকে সেলুনের দিকে তাকাতে দেখে বলল ব্রুকস। তোমার অবশ্য না গেলেও চলে কিন্তু আমাদের বোধহয় আলাদা হওয়া ঠিক হবে না।
মাথা ঝাঁকাল টেক্সান, পাশাপাশি এগোচ্ছে।
উইলিয়াম লকহার্টের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়া গেল। নিজের চাহিদার কথা তাকে জানাল ব্রুকস। বিল, তোমার সেরা রাইফেলটা চাই, শেষে যোগ করল। রিপিটার হলে চলবে না। এবং প্রচুর গুলি।
ভেতরে এসো, পছন্দ করে নাও। উঠে দাঁড়াল স্টোর মালিক।
তাকে অনুসরণ করে ভেতরের কামরায় গেল ব্রুকস। পাঁচ মিনিট বাদে চকচকে একটা হেনরী হাতে বেরিয়ে এল। পকেটে বেশ কিছু বুলেট। তোমার ওয়াগনটা ধার দিতে হবে, বিল। আর বাড়তি একজন লোক, রসদগুলো পৌঁছে দেবে। ওর পারিশ্রমিকসহ হিসেব কোরো।
আর কিছু জানতে চাইল মিসেস লকহার্ট।
হীরাসমেত সোনার একটা আঙটি চাই, ম্যাম, হেসে বলল ব্রুকস, দেখল বুড়ির চোখ কপালে উঠছে। তোমার কাছে না থাকলে টাকসন থেকে আনিয়ে নিয়োওটা কদিন পর হলেও চলবে, কিন্তু পনেরো দিনের বেশি দেরি কোরো না। আর, লরিয়া ফ্ল্যাগানকে সবচেয়ে সুন্দর আর দামী কাপড়ের একটা গাউন তৈরি করে দেবে।
তোমরা বিয়ে করছ? অভিনন্দন!
মৃদু হেসে বেরিয়ে গেল ব্রুকস।
এতদিন পর পুরুষমানুষ খুঁজে পেল মেয়েটা, মন্তব্য করল বুড়ি।
দুজনকে দারুণ মানাবে, সোৎসাহে বলল লকহার্ট। বেসিনের সেরা বিয়ে হবে সেটা।
বাইরে এসে স্যাডল বুটে হেনরীটা রাখল স্যামুয়েল ব্রুকস। অধৈর্য দেখাচ্ছে টেক্সানকে, গলায় হুইস্কি ঢালার জন্যে অধীর। দুটো বাড়ি পর লকহার্টের সিলভার রক সেলুন। ওদের ছোট ছেলে কেভিন চালায় ওটা। ভেতরে ঢুকল দুজন, স্বভাবতই আগে গ্যারেট। সোজা বারের দিকে চলে গেল সে। কেভিন লকহার্ট নিজেই আছে বারের দায়িত্বে। তাক থেকে বোতল নামিয়ে, গ্লাসে ঢেলে এগিয়ে দিল। এক ঢোকে সবটা পান করে ফেলল ব্র্যাড, বারের ওপর গ্লাস নামিয়ে রাখার ভঙ্গিতে প্রকাশ পেল আরও চাই ওর।
ধীরে চুমুক দিল ব্রুকস। সেলুনটা একরকম ফাকাই। মাত্র দুজন খদ্দের, কোণের একটা টেবিল দখল করেছে। কাচ গলে বাইরে তাকাল, পারকারের সেলুনটা এখান থেকে স্পষ্ট চোখে পড়ছে। পোর্চে বেরিয়ে এসেছে চারজন রাইডার, এদের একজন বার-পি ফোরম্যান।
একটা টুল টেনে বসল ব্র্যাড, দ্বিতীয় দফা পান করছে। করবেটের ওপর চোখ। হ্যাটের ব্রিম ঠেলে তুলে দিল, ব্রুকসের দিকে ফিরল, গলায় উত্তেজনার ছোয়া। দেখো, বাপু, তুমি আবার কেটে পড়ার ধান্ধা কোরো না। ওদের যখন এতই খায়েশ, আসুক। অনেকদিন পর রক্ত গরম করার সুযোগ পাচ্ছি।
ফোরম্যানের সাথে আরও দুজন যোগ দিয়েছে। একজনকেও চেনে না ব্রুকস। জীবনে প্রথম দেখছে অথচ এরাই ওর শক্র, তিক্তমনে ভাবল, একটু পর ভয়ঙ্কর আক্রোশে পরস্পরকে খুন করতে চাইবে। বড় অদ্ভুত যোগাযোগ!
দয়া করে বাইরে চলে যাও, মি. ব্রুকস। আমার এখানে… পুরোটা শেষ করতে পারল না কেভিন। লাফিয়ে উঠে ওর শার্টের কলার চেপে ধরেছে ব্র্যাড, বারের ওপর টেনে তুলে ফেলল শরীরের অর্ধেকটা। ঠিকরে বেরিয়ে আসবে যেন কেভিনের চোখ, আতঙ্কে মুখ হা হয়ে গেছে।
এই কৃমির বাচ্চাটাকে নিয়ে কি করি, স্যাম? শেষ করে দেব নাকি? শীতল কণ্ঠে জানতে চাইল গ্যারেট, কণ্ঠে বিন্দুমাত্র তামাশার সুর নেই।
ছেড়ে দাও।
টেক্সান ছেড়ে দিতে হুড়মুড় করে বারের ওপাশে পড়ল কেভিন। খানিক বাদে কোনরকমে উঠে দাড়াল, ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে। দুচোখে এখনও নগ্ন আতঙ্ক। গ্যারেট তাকাতে ঢোক গিলল, ব্রুকসের দিকে চকিত চাহনি! হানল সাহায্যের প্রত্যাশায়।
ঝামেলা শেষ করে নিই, তারপর টাইট দেব তোমাকে! শাসাল ব্র্যাড।
বারের ও-মাথায় চলে যাও, কেভ, নির্দেশ দিল ব্রুকস। ভুলেও অন্য কিছু করার কথা মাথায় এনো না।
দ্রুত বার কয়েক মাথা কঁকাল, সে, সরে গেল নির্দেশমত। দুঃখিত, মি. ব্রুকস…শেষপর্যন্ত এখানে ভাঙচুর করবে ওরা। তোমরা এখানে এসেছ এ দোষে চড়াও হবে আমার ওপর।
হেসে ফেলল ব্রুকস। বাপের চেয়ে এককাঠি বাড়া, টনটনে ব্যবসায়িক জ্ঞান। হিসেব করে রেখো, সব শোধ করে দেবে পারকার, কেভিনের চোখ দেখে বোঝা গেল মোটেও বিশ্বাস করেনি সে। দেবে, অবশ্যই দেবে, তাকে আশ্বস্ত করল ও। কয়েকটা দিন দেরি হবে, এই যা।
ঠিক আছে। আমি তাহলে এখানেই থাকছি।
জাহান্নামে যাও তুমি! গাল বকল গ্যারেট। বস্তাপচা শহরের নর্দমার কীট!
টেক্সানের হঠাৎ বিরক্তি ও আগ্রাসী মনোভাবের কারণ বুঝতে পারছে ব্রুকস, আসন্ন লড়াইয়ের উৎকণ্ঠা। একটু পর কে বেঁচে থাকবে বা মারা পড়বে সেটা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। প্রতিপক্ষ সংখ্যায় বেশি, যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে। ডুয়েলের আগে ফাস্টেস্ট গানও উদ্বেগে ভোগে, এটাই স্বাভাবিক। কেউ সেটাকে দমিয়ে রাখতে পারে, কেউ পারে না।
জেফরি করবেটের বিশাল শরীরের ধাক্কায় খুলে গেল ব্যাটউইং দরজা। উড়ে এল যেন সে, চোখের পলকে চলে এল কয়েক গজ। সঙ্গীরা ঢোকা পর্যন্ত অপেক্ষা করল। এবার বাগে পেয়েছি তোমাদের, বাছাধন, দেখি কি করে পালিয়ে যাও! চাপা স্বরে হুঙ্কার ছাড়ল, দুচোখে নগ্ন উল্লাস, খুনের নেশায় উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। ছোবল মারল করবেটের হাত, নিমেষে উঠে এল পিস্তল। বার-পি ফোরম্যান ভেবেছিল প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পেয়েছে, দুএকটা গরম কথাবার্তার আগে কি পিস্তল বের করে কেউ! বুকে গুলির প্রচণ্ড ধাক্কায় ভুল ভাঙল। বিশাল দেহ উড়ে গিয়ে পড়ল ব্যাটউইং দরজার ওপর। মাটিতে পড়ার আগেই মারা গেল করবেট, ব্র্যাড গ্যারেটের গুলি ওর ঘাড়ের শিরদাড়া ভেঙে দিয়েছে।
সেলুনে নরক ভেঙে পড়ল যেন। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে মুখরিত, তাজা গান পাউডারের গন্ধ আর ধোঁয়ায় ভরে গেছে। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করল ব্রুকস, এককোণে সরে এসেছে। ধীরে ধোয়া কাটল। তিনটা লাশ পড়ে আছে মেঝেতে, আরেকজন হাত চেপে ধরে ককাচ্ছে। ছুটন্ত পদশব্দে বোঝা গেল পালিয়েছে অন্যরা।
যাক, বেঁচে আছ তাহলে, ঘরের আরেক কোণ থেকে বলে উঠল ব্র্যাড গ্যারেট, গলায় কৌতুক ভাবটা ফিরে এসেছে। ভাবছিলাম তুমি মরে গেলে কার কাছ থেকে বেতন নেব। পিস্তলে টোটা ভরল সে, তারপর ফিরল সিঁটিয়ে থাকা কেভিনের দিকে। হুইস্কি লাগাও, কেভিন, তুমিও নাও।
মাথা নেড়ে নিষেধ করল ব্রুক। দুহাত দূরে পড়ে আছে ওর হ্যাট, ঝুঁকে তুলে নিল। ওপরের দিকে ছোট্ট একটা ফুটো। ভাগ্যিস! দুই ইঞ্চি নিচ দিয়ে বুলেট গেলে এটা আর পরতে হত না।
গ্যারেট হুইস্কি শেষ করার আগেই সেলুনে ঢুকল টিম ম্যাসন। গম্ভীর মুখে দেখল লাশগুলো, তারপর ব্রুকসের সামনে এসে দাড়াল। লোকগুলোকে খুন করেছ তোমরা।
তো কি হয়েছে? হেসে উঠল ব্র্যাড। ডুয়েলে প্রতিপক্ষকে মেরে ফেলা যাবে না এমন কথা কোথাও লেখা আছে?
কোন সুযোগ দাওনি ওদের। আগেভাগে পিস্তল বের করেছ।
তুমি কি পারকারের সেলুনে বসে তাই দেখলে? বিজপ করল ব্রুকস।
দুজনে মিলে এতগুলো লোক মেরেছ। আগে পিস্তলে হাত না দিলে তা পারতে না।
কজন ছিল ওরা, ম্যাসন?
করবেটসহ ছয়জন।
প্রচণ্ড জোরে ঘুসিটা হাঁকাল ব্রুকস, মোক্ষ জায়গায় লাগল। উড়ে গিয়ে একটা টেবিলের ওপর আছড়ে পড়ল ডেপুটি। ভারী, দেহের ভার সইতে না পেরে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল ওটা, ম্যাসন পড়ল তার ওপর। দুপা এগিয়ে বুকে ডেপুটির বুকের তারা টান মেরে খুলে ফেলল ও, তারপর ছুঁড়ে দিল কেভিন লকহার্টের দিকে। হবসকে ডেকে নিয়ে এসো, কেভ। ওকে বোলো তারাটা পরার কোন যোগ্যতা এই ছুঁচোটার নেই।…পরেরবার একটা ঘুসিতে ছাড়ব না, বুঝেছ, ম্যাসন?
কেবল অসহায় একটা ভঙ্গি করল ডেপুটি, কিছুই বলতে পারল না। থুথু ফেলতে রক্ত আর তিনটে দাঁত পড়ল মেঝেতে।
আমার টেবিলটা, মি. ব্রুকস…
তোমার বাপের কাছ থেকে ওটার দাম নিয়ো, আর ওকে বোলো এই কাঠগুলোই যেন আমার কাছে বিক্রি করে। বিরক্ত হয়ে বলল ব্রুকস।
বোকার মত চেয়ে থাকল কেভিন। ঠিক আছে, মি. পরকারের নামে লিখে রাখব, খানিক ভেবে খুশি হয়ে বলল সে।
তোমার পেছনে একটা লাথি হাঁকাবে পারকার! বিড়বিড় করে বলল টেক্সান, দরজার দিকে এগোতে বাধা পেল।
পেছনের দরজা দিয়ে লকহার্টের স্টোরে যাব আমরা, বিল মেটানোর ফাঁকে বলল ব্রুকস।
মাথা নাড়ল ব্র্যাড, পছন্দ করতে পারছে না।
উঁহু, বীরত্ব দেখানোর সুযোগ পরেও পাবে। যথেষ্ট হয়েছে, আর কোন ঝামেলা চাই না।
শ্রাগ করে কেভিনের দিকে ঘুরল টেক্সান। তোমার কোন আপত্তি আছে?
ন্-না, মোটেই না।
দ্রুত বেরিয়ে পড়ল ওরা। বাড়ি আর দোকানগুলোর পেছনের জায়গাটা পরিচ্ছন্নই, বোঝা যাচ্ছে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। দুটো বাড়ি পেরিয়ে এসে লকহার্টের স্টোরের দরজায় নক করল ব্রুকস। তিনবারের পর বিরক্তিতে গজগজ করতে করতে দরজা খুলল স্টোর মালিক। ওদের দেখে নিমেষে দাঁত কেলিয়ে হাসল। ঝামেলায় পড়েছ? দরজা বন্ধ করার সময় জানতে চাইল সে।
একটাও বাজে জিনিস দেবে না, বিল, কঠিন সুরে বলল ব্রুকস। তাহলে তোমার চাঁদি আস্ত রাখব না!
অবশ্যই। তুমি হলে আমার নিয়মিত খরিদ্দার। তোমার ছেলের মাথায় ধারণাটা ভাল করে ঢুকিয়ে দিয়ো। পরামর্শ দিল ব্র্যাড।
কি করেছে ও?
ব্রুকস বা গ্যারেট কেউই উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। বেরিয়ে যাচ্ছে ওরা। পোর্চে এসে রাস্তার দক্ষিণে তাকাতেই দেখতে পেল জুলিয়াস পারকারকে। সদলে শহরে প্রবেশ করছে বুড়ো, একটা বাগিতে চড়েছে। উদ্ধত অহঙ্কারী ভঙ্গিতে বসেছে। শরীর টান টান, দৃষ্টি মাটির সমান্তরাল, ভুলেও কারও দিকে তাকাচ্ছে না। পেছনে গ্রুলার স্যাডলে মেঝো ছেলে অ্যালান। সবশেষে স্টিরাপ, বিশালদেহী স্টিভ কোলম্যান। ছেলে কিছু একটা বলতে ওদের দিকে ফিরল বার-পি মালিক।
পেছন দরজা দিয়ে যাই! গ্যারেট যেন ভেঙচি কাটল, উপহাস ঝরে পড়ছে ওর কণ্ঠে। কপালে আছে ঝামেলা, তুমি কি করে এড়াবে, স্যামুয়েল ব্রুকস? ওটা করবেটের ফিউনেরালের শোভাযাত্রা নয়, বুঝতে পারছ?
হিচিং রেইল থেকে ঘোড়ার লাগাম ছাড়িয়ে নিল ব্রুকস, স্যাডলে চাপল। চোখ পরকারের দলের ওপর।
অপেক্ষা কিসের? চলো কেটে পড়ি!
দয়া করে মুখটা বন্ধ রাখো
শ্রাগ করে সিগার ধরাল গ্যারেট, স্যাডলে চেপে বসেছে। ব্রুকসের ঘোড়া ঠায় দাড়িয়ে, অপেক্ষা করছে।
দশ গজ দূরে এসে থামল বাগি। শীতল দৃষ্টিতে তাকাল পারকার। শেষপর্যন্ত তাহলে আমাদের দেখা হলো। ভালই করছ তুমি, ব্রুকস, আমার লোকগুলোকে বারবার ঘোল খাইয়ে ছাড়ছ, হাসল সে, আত্মবিশ্বাসের হাসি। তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে, বাছা। অনেকদিন বসে থেকে গায়ে খিল ধরে গিয়েছিল, এবার খানিকটা গা-ঝাড়া দেয়া যাবে। ব্রুকসের ওপর থেকে সরে গিয়ে টেক্সানের ওপর স্থির হলো বুড়োর দৃষ্টি।
দুঃখিত, বুড়োখোকা, তোমার সাথে থাকা গেল না, পারকার কিছু বলার আগেই বলে উঠল ব্র্যাড়। কি করব, আমি কি আর জানি যে তোমার নোংরা টাকা গলা দিয়ে বেরিয়ে আসবে?
রাগ দেখা গেল বার-পি মালিকের চোখে। মরগান পিকসেই তোমাদের কবর দেব আমি!
ভাল কথা। আমি বলি কি, ম্লান হলো না টেক্সানের হাসি। স্টিরাপকে দিয়ে নিজের জন্যে একটা কবর খুঁড়ে রাখছ না কেন? শেষে তো সময় পাবে না। বাফেলোর মালিককে যদি বুটহিলে শুতে হয় এরচেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে! তোমার খারাপ লাগবে না?
জুলিয়াস পারকার এমনভাবে তাকাল যেন পুড়ে যাবে ব্র্যাড, রাগের সাথে ঘৃণা দেখা যাচ্ছে চোখে। ওই কুত্তাটাকে ধরো… ওকে নিজহাতে চাবকাব আমি, তারপর কুকুরকে দিয়ে ওর মাংস খাওয়াব!
কয়েকটা ব্যাপার ঘটল একসঙ্গে—টম স্টিরাপের ঘোড়াটা আগে বাড়ল, রাইফেল তুলে নিতে স্যাডল হর্নে হাত বাড়াল অ্যালান পারকার; এবং পিস্তলে বুডোর বুক নিশানা করল ব্রুকস। মি. পারকার, স্টিরাপকে পিছিয়ে যেতে বলল, সতর্ক দৃষ্টি বুলাল সবার ওপর। আর তোমার ওই বোকা ছেলেটাকে বলল রাইফেল থেকে হাত সরিয়ে নিতে। ওরা, কিংবা তুমি আমার কথা না শুনলে, তোমার কপালে গুলি করব।
একপাশে সরে এসেছে স্টিরাপ, চোখজোড়া জ্বলছে। উরুতে পিস্তলের বাঁট ছুঁয়েছে ওর হাত। ওদিকে রাইফেল তুলে নিয়েছে অ্যালান। স্টিভ কোলম্যান সুযোগ খুঁজছে, না দেখলেও ব্রুকস বুঝতে পারছে মুহূর্তের ব্যবধানে ড্র করবে সে, কেবল অন্য কেউ শুরু করলেই হলো। জুলিয়াস পারকার ঘামতে শুরু করেছে।
সহসা ভয় পেল বার-পি মালিক। ও যা বলছে করো! কাঁপা স্বরে আদেশ করল। হারামজাদারা, তোদেরকে আমিই বেতন দেই!
হাত গুটিয়ে নিল ওরা।
পিস্তল নামিয়ে পমেলের ওপর আড়াআড়িভাবে রাখল ব্রুকস, এমনভাবে যাতে সবাই দেখতে পায়। চারপাশে কৌতূহলী লোকের ভিড় জমে গেছে, নিরাপদ দূরত্বে থেকে মজা দেখছে। পারকারের সেলুন, ওপাশের বাড়ির ছাদের ওপর নজর বুলাল ও। অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি দুএকজন অতি উৎসাহী রাইডার ওখানে ওঁৎ পেতে থাকে।
তোমার কারণে মারা গেছে আমার ছেলে, ব্রুকস। আর আজকের ব্যাপারটাও ভুলব না। আমার দিকে পিস্তল তাক করেছে এমন কেউ এখনও বেঁচে নেই, থাকবেও না। বিপদ কাটতে স্বরূপে ফিরেছে পারকার, প্যালেস-এর দিকে দৃষ্টিপাত করল একবার। হয়তো আশা করছে ওদিক থেকে কোন সাহায্য আসবে। কিন্তু তার জানা নেই খানিক আগে মারা গেছে র্যামরড।
সময় থাকতে সামলে নাও, মি. পারকার। নইলে তোমার অন্য ছেলেগুলোকেও হারাবে।
আমারই শহরে দাঁড়িয়ে আমাকে শাসাচ্ছ?
ভুল বলেছ। বাফেলো টাউন এখন আর তোমার একার শহর নয়। শুরুটা তোমরা করেছিলে তা ঠিক। অন্যদের ছাড় দেয়ার সময় হয়েছে এখন, এটা তোমাকে বুঝতে হবে। এখানকার লোকজনকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো, তোমার সাথে একমত হবে না কেউ।
দরকার হলে অ্যাৰ্প, মাসট্যাঙ, শ্যানন…সবাইকে আনাব।
তার আগে দেখো তুমি নিজেই শেষ হয়ে যাও কি-না। ফোড়ন কাটল ব্র্যাড।
_ জুলিয়াস পারকারের চেহারা দেখে মনে হলো হাতের নাগালে পেলে টেক্সানকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
মি. পারকার, দল নিয়ে ফিরতি পথ ধরো। আমরা সরে যাওয়ার পর শহরে ঢুকবে তুমি।
আমাকে পিছিয়ে যেতে বলছ?
নইলে সামনে আসতে পারো। তোমার ভাড়াটে লোকগুলো এটাই চাইছে, এমনকি তোমার ছেলেও। ওরা বোধহয় চায় না তুমি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকো।
কি করবে যদি…?
সবার আগে তোমার কপাল ফুটো করব, এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি।
ব্যাপারটা এখানেই শেষ হচ্ছে না, একগুয়ে স্বরে বলল পারকার, বলার ভঙ্গিতে জেদ প্রকাশ পাচ্ছে।
আমিও তাই চাই, হাসল ব্রুকস। প্রাণের ঝুঁকি না নিয়ে পিছিয়ে যাও। দশটা মিনিটের ব্যাপারই তো। একবার পিছিয়ে গেলে কিছু যাবে-আসবে কি? এই একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে তোমাকে অনুরোধ করছি।
পিস্তল হাতে কেউ অনুরোধ করে নাকি?
যা ইচ্ছে ভাবতে পারো। তবে এটা মনে রেখো এখানে কোন কিছু ঘটলে সবার আগে তুমিই ভুগবে। পারকাররা এ এলাকার অহঙ্কার, তাই না? মরে গেলে ওই জিনিসটার কোন দাম থাকে কি?
শেষপর্যন্ত প্রাণের মায়াই জয়ী হলো। জেদ চেপে রেখে বাগি ঘুরিয়ে নিল পারকার। তোমার জন্যে আফসোস হচ্ছে, ব্রুকস। চুটিয়ে উপভোগ করলে সময়টা। কিন্তু এ-সুখ বেশিদিন থাকবে না। তোমাকে শায়েস্তা করে এই শহরটা ধ্বংস করব। সবকটা হারামীর বাচ্চা দাঁত কেলিয়ে মজা লুটছে, হাড়ে হাড়ে টের পাবে এর ফল!
দলটা বেশ দূরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল ব্রুকস। আশপাশের লোকজনের ওপর চোখ বুলাল। এতক্ষণ একটা কথাও বলেনি, এখন সমানে কথার খৈ ফুটছে মুখে। ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে স্পার দাবাল ও। ধুলো উড়িয়ে বেরিয়ে এল বাফেলো থেকে।
অ্যাপলুসাটা দারুণ ছুটতে পারে, নিজের জমিতে পেীছে ভাবল ব্রুকস।
প্যাট শুনলে আফসোস করবে, কেবিনের কাছে পৌঁছে বলল ব্র্যাড। দারুণ জমেছিল তোমাদের খোশ-গল্প।
এখন থেকে আরও সতর্ক থাকতে হবে, ভাবছে ও। জ্বলন্ত আগুন উস্কে দিয়ে এসেছে আজ। ওদের শেষ না করে শান্তি পাবে না জুলিয়াস পারকার।
একটা ব্যাপার খেয়াল করেছ, এ পর্যন্ত একবারও তোমাকে আসল পরিচয়ে ডাকেনি ওদের কেউ? না পারকার, না ওর কোন ক্রু। অথচ ওরা ঠিকই জানে কার পেছনে লেগেছে। লাঞ্চের পর শেডের কাছে বসে কফির মগ তুলে নিয়ে বলল ব্র্যাড।
ক্রুদের সবাই কিন্তু জানে না, মুখ খুলল প্যাট। পারকার সবাইকে জানায়নি। তেমন হলে অনেকেই সটকে পড়ত, অন্তত এখন। বহু লোক হারিয়েছে পারকার, বাকিদের মধ্যে রণেভঙ্গ দেয়ার জন্যে হারডিন নামটার গুরুত্ব কম নয়। আবার এমনও হতে পারে রাইডারদের মনোবল চাঙা রাখতে চেপে গেছে সে, মামুলি একজন স্যামুয়েল ব্রুকসকে শায়েস্তা করতে খুব বেশি সাহসী লোকের দরকার হয় না।
বাফেলোর সাধারণ লোকেরা তোমার পরিচয় জানতে পারলে পরকারের সমস্যা আরও বাড়বে, যোগ করল ব্র্যাড। শহরটা এখন আর ওর হাতের মুঠোয় নেই। লোকজন বুঝে গেছে পারকারকেও আঘাত করা যায়। ওরা যদি হারডিনকে সাহায্য করতে আসে তো অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। লোকগুলো সাহস পাবে এবং ওদের স্বার্থোদ্ধারের সম্ভাবনা তাতে বাড়বে। শহরে তোমার নামটা একবার ছড়িয়ে দাও, দেখবে পারকারের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে গেছে লোকজন। ওরা ভেবে সাহস পাবে যে হারডিনের মত দুর্ধর্ষ একজন তোক পরোক্ষভাবে হলেও ওদের সাথে আছে।
শেষতক হয়তো তোমার ইচ্ছেই পূরণ হবে, হেসে বলল প্যাট। হারডিন নামটা বোধহয় অজানাই থেকে যাবে। অবশ্য স্যামুয়েল ব্রুকসের নাম তখন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্যাডল ছাড়িয়ে ঘোড়াটাকে উপত্যকায় নিয়ে এল ব্রুকস, সময় নিয়ে যত্ন নিল। গ্যারেটদের কথাগুলো হালকা হলেও ভাবাচ্ছে ওকে। হারডিনের পুনর্জন্ম যেমন আশা করে না, তেমনি চায় না স্যামুয়েল ব্রুকসও আরেক হারডিন হয়ে উক। তেমন হলে আবারও প্রতিশোধপরায়ণ কিছু লোক হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করবে ওকে, এবং এবার একটা ঠিকানাসহ-সহজেই চলে আসবে যাফেলো টাউনে। এটা হতে দেয়া যাবে না। পুরানো অনিশ্চিত জীবনে ফিরে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই ওর। ব্রুকস শান্তিপূর্ণ একটা জীবন চায় যেখানে খ্যাতির বিড়ম্বনা থাকবে না, পিস্তল হাতে কারও মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে না।
লকহার্টের কর্মচারী লেইভ জোন্স ওয়াগনে করে দুদফায় মালামাল পৌঁছে দিল সেদিন।
পরদিন থেকে কাজে নেমে পড়ল ওরা। বিকেলের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেল র্যাঞ্চ হাউসের কাঠামোপরিশ্রান্ত দেহ ঘাসের ওপর বিছিয়ে কফির স্বাদ উপভোগ করছিল, এসময়ে উপস্থিত হলে জ্যাক হবস।
কাছে এসে স্যাডল ছাড়ল মার্শাল, কফির মগ এগিয়ে দিতে সাগ্রহে নিল। গম্ভীর, চিন্তিত দেখাচ্ছে। চঞ্চল দৃষ্টি বুলাল গ্যারেটদের ওপর, বিড়বিড় করে বলল কি যেন। ধীরে কফিতে চুমুক দিল।
অপেক্ষা করছে ব্রুকস, আঁচ করতে পেরেছে সমস্যায় আছে লোকটা। প্রথমেই চোখে পড়েছে বুকপকেটে তারাটা নেই।
শেষপর্যন্ত চাকুরিটা হারালাম, একসময় স্নান গলায় বলল হবস।
আমি ভাবছিলাম তারাটা হয়তো চুরি গেছে! সহাস্যে বলল ব্র্যাড।
আমার কাছ থেকে ওটা কেড়ে নিয়েছে পারকার।
আগ্রহী হয়ে উঠল গ্যারেটরা, অথচ একটু আগে পাত্তাই দিচ্ছিল না। ঘুরে বসল হবসের দিকে।
তোমরা চলে আসার পরেই ঝামেলার শুরু। ল-অফিসে এল জুলিয়াস পারকার, করবেটকে খুনের দায়ে তোমাদের নামে হুলিয়া বের করতে বলল। আহ, চেহারাখান যদি একবার দেখতে! ফোরম্যান তো নয় যেন মেয়ে-জামাইকে হারিয়েছে! বললাম সবার আগে তাহলে ওকেই গ্রেফতার করা উচিত। বেসিনে একগাদা খারাপ লোক ও-ই আনিয়েছে। শুনে ব্যাটা হেসে খুন, বলল ওর কথা না শুনলে মন্টানা কিডকে লেলিয়ে দেবে আমার পেছনে। শেরিফ বা মার্শালদের খুন করা তো শয়তানটার অভ্যাসে দাড়িয়ে গেছে।
ভয় পাওনি? মুখ টিপে হাসছে ব্র্যাড।
দেখো, বাছা, বেশি ফটফট কোরো না। হাড়ে হাড়ে চিনি তোমাদের, সব কটা আস্ত হারামী! বয়সটা দশ বছর কম হলে এই দুটোকেও জেলে ভরতাম।
আইনের পক্ষে অস্ত্র ধরতে বয়স লাগে না, মনের জোরই আসল। ওটাই নেই তোমার, জ্যাক হবস।
মাথা নাড়ল মার্শাল, ব্র্যাডের কটাক্ষ গায়ে মাখল না। কিড বা কোলম্যানের কথাই ধরো, মরে গেলেও পিস্তল হাতছাড়া করবে না ওরা। কিডকে নিরস্ত্র করতে গিয়ে মারা গেল লিয়ন সিটির মার্শাল, কোন সুযোগই পায়নি বেচারা।
ওকে গ্রেফতার করা তোমার দায়িত্ব, হবস।
হয়তো, কিন্তু কজনকে গ্রেফতার করব? গণ্ডা গুণ্ডা লোক, শয়তানের দোসর ওরা। এই যমজ দুটোই বা কম কিসে?
আমাদের ধরছ না কেন?
একটা পরিকল্পনা করেছি, এবার উজ্জ্বল দেখাল হবসের মুখ। কটাকে আর গরাদে ঢোকাতে পারতাম! তারচেয়ে…এখন কারও গায়ে আঁচড়টিও দেব না…।
দারুণ! ব্যঙ্গ করল ব্র্যাড, থামিয়ে দিয়েছে হবসকে। সাহস আছে তোমার, জ্যাক।
তোমার বয়স কত, বাছা? এবার খেপে গেল সে, চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে। পঞ্চাশ পর্যন্ত বেঁচে থাকো, তারপর টের পাবে বয়স কি করে সামর্থ্য কেড়ে নেয়।
ওভাবে বেঁচে না থাকাই ভাল।
তোমরা থামবে? বাদ সাধল ব্রুকস। আসল কথাই এখনও জানা হয়নি। কি করে চাকুরি হারালে, জ্যাক?
সন্ধের সময় সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ল পারকারের ক্রুরা। যে যেভাবে পারল জোর দেখানো শুরু করল। বড় চোট গেল লকহার্টের ওপর দিয়ে, প্রয়োজনমত গোলা-বারুদ আর রসদ নিয়ে একটা পয়সাও দেয়নি। কেভিনকে ধরে আচ্ছামত ধোলাই দিয়েছে কোলম্যান। রাতটা ওখানেই কাটিয়েছে ওরা। দেদার মদ গিলেছে।
কেভিনের তালিকাটা একটা টেবিলের পর বেশ লম্বাই হবে দেখছি! সকৌতুকে বলল ব্র্যাড গ্যারেট।
কি বললে? বুঝতে না পেরে জানতে চাইল হবস।
তারপর? তাড়া দিল ব্রুকস।
রাতে আবার এসেছিল পারকার, একই অভিযোগ করল। পাত্তা দিলাম না, থেমে, উঠে গিয়ে মগ ভরে নিল হবস। চুমুক দিয়ে খেই ধরল। পিস্তলের মুখে আমার তারা কেড়ে নিল। আর বলল শহরটাকে ঝামেলামুক্ত না করে বাথানে ফিরে যাবে না। শহরের সাদা ওই বাড়িতে রাত কাটিয়েছে।
ওর পণ ভাঙাতে যাচ্ছি না আমরা।
হাসি পেল ব্রুকসের, ব্র্যাড গ্যারেট সত্যি মজার লোক। সুযোগ পেলেই রসাল মন্তব্য করছে। এতে আর কিছু না হোক, সময়টা আর ওদের সঙ্গ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। তো, বাফেলোতে এখন তাহলে পারকারই কর্তৃত্ব করছে, স্বগতোক্তির মত বলল ও। তারাটা নিশ্চয়ই দিয়েছে কাউকে।
ম্যাসন পেয়েছে ওটা। সাথে কোলম্যান, স্টিরাপ…ওরা ডেপুটি সেজেছে।
ওরা যদি মার্শাল হতে পারে তো আমরা সিনেটর। তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে উঠল ব্র্যাড।
সেই ব্যবস্থা করে এসেছি আমি।
ব্রুকস বা গ্যারেটরা কেউ কিছু বলছে না, বিস্মিত। ওদের দেখছে জ্যাক হবস, আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে তাকে। বলেছিলাম না, একটা পরিকল্পনা করেছি? ধীরে সিগার ধরাল তারা-হারানো মার্শাল। তোমরাই হবে আমার হাতিয়ার। পারকারকে শিক্ষা না দিয়ে ছাড়ছি না আমি! প্রতিজ্ঞায় জ্বলজ্বল করছে ওর চোখ, দৃঢ়বদ্ধ চোয়াল জানান দিচ্ছে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই।
বুঝলাম না, ধীরে ধীরে বলল প্যাট। তবে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি।
রাতে লকহার্টের বাসায় মিলিত হয়েছিলাম আমরা, সব মিলিয়ে বারোজন। পারকারকে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরা। পরিকল্পনা মাফিক তোমাদের ডেপুটি করে নিচ্ছি আমরা।
আরিব্বাপস! শুনছ, প্যাট, বুড়ো হাবড়াটা কি বলছে? তারার শোকে মাথা খারাপ হয়ে গেছে ওর! ওটা উদ্ধার করবে আমাদের রূপালি তারা পরিয়ে। ভাবো একবার, গ্যারেটরা কোন শহরে আইনের প্রতিনিধিত্ব করছে, আমাকে এটাও দেখতে হবে! লোকজন তো হেসেই খুন হয়ে যাবে। নিজেই হাসতে শুরু করল ব্র্যাড, হাসির দমকে তার ছোটখাট শরীর কাঁপছে।
ওদিকে বোকার মত ওর দিকে তাকিয়ে আছে জ্যাক হবস।
কোন সন্দেহ নেই গ্যারেটদের জন্যে ব্যাপারটা রোমাঞ্চকর। পশ্চিমে ওদের পরিচয় লড়াকু লোক ও আউট-ল হিসেবে। সারা জীবন ছুটতে হয়েছে আইনের লোকের সামনে, উল্টোটা তাই ওদের কাছে হাস্যকর। ওরা নিজেরাও তা উপলব্ধি করে। কিন্তু পশ্চিমে এ ধরনের ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। এমন অনেক লোক আছে একটা শহরকে ঝামেলামুক্ত করা বা কোথাও আইনের কর্তৃত্ব করার পর দেখা গেছে সে আউট-ল ছাড়া আর কিছু নয়। বৈরী এ দেশটিতে পরিস্থিতিই সবকিছুর নিয়ামক। তাই বিলি দ্য কিড, ইয়েট অ্যাৰ্প বা বো মাস্ট্যাঙ এদের অনেককে দেখা গেছে আইনের কঠোর প্রতিনিধি হিসেবে। বলা বাহুল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা, সফল হয়েছে। আবার উল্টোটাও ঘটেছে। আইনের মানুষ আউট-লয়ে পরিণত হয়েছে এমনও হাজারটা উদাহরণ দেয়া যাবে।
জুলিয়াস পারকারকে হটানোর উদ্দেশে বাফেলোর নিরীহ লোকজন এ সাহসী, সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভাবছে রুকস। গ্যারেটদের ওপর আস্থা রেখেছে ওরা, দেখেছে অসম সাহসিকতার সাথে টেক্কানরা কিভাবে কার্লি ব্রনসনের দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল কিংবা সার্কেল-এফের ঘটনাও হয়তো শুনে থাকবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বেসিনে এখন কেবল দুটো পক্ষ-জুলিয়াস পারকার আর তার মুখোমুখি অন্যরা। সবাই এক হলে দাম্ভিক বুড়োকে শায়েস্তা করা কঠিন হবে না।
মাত্র কয়েকদিনের ব্যাপার, কাজ শেষে গ্যারেটরা যা ছিল তাই থাকবে। বড়জোর এখানকার মানুষ ভিন্নরূপে জানবে ওদের, ওরা কতটা দৃঢ়তা দেখাতে পারে তা-ই মনে রাখবে।
রঙজ্বলা জিনসের পকেট হাতড়ে তিনটে তারা বের করে এগিয়ে দিল হবস। গ্যারেটরা নিশ্চপ, বিশেষ করে ব্র্যাড। এতক্ষণ হালকাভাবে নিচ্ছিল, সত্যটা এখন উপলব্ধি করতে পারছে। সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, মুখর হলো সে। এর মধ্যে নেই আমি।
জীবনে তো অনেক কিছুই করলাম, চিন্তিত স্বরে বলছে প্যাট। কেবল এই একটা কাজ বাকি ছিল। দেখি না কেমন লাগে! মজা তো পাওয়া যাবে। কি বলো, স্যাম, তুমি তো অনেকবার তারা পরেছ?
দুভাইয়ের অবস্থা দেখে মিটিমিটি হাসছে ব্রুকস, ওদিকে হবস আশান্বিত।
ওগুলো ফেরত নিয়ে শেষে আমাদের শিকের ভেতর ঢোকাবে না তো?
পারকারকে যদি আমরা হটাতে পারি, আমার ধারণা বীরোচিত সম্বর্ধনা পাবে তোমরা। চাই কি চাকুরিটা স্থায়ীও হয়ে যেতে পারে। কারণ ঠিক করেছি আর ওসরে থাকব না আমি। বুড়ো হাড়ে এত ধকল সইছে না।
তোমরা আসলে আমাদের ব্যবহার করতে চাইছ। অভিযোগ করল প্যাট।
অস্বীকার করছি না। রাজি না হলেও পারো। দায়িত্বটা নিলে বাড়তি কিছু সুবিধা পাবে। পারকার আগে তোমাদেরই শায়েস্তা করতে চাইবে, আর তোমরা তা ঠেকাতে বসে আছ। ডেপুটি হলে কাজ কিন্তু একই। লাভের মধ্যে-আইনের পক্ষে থাকছ আর বেসিনের বেশিরভাগ লোককে পেছনে পাবে।
সব দেখছি আগে থেকে ভেবে রেখেছ, এবার হাসল ব্র্যাড। কিন্তু নগদ নারায়ণের ব্যাপারটা? উহু, কোন লাভ নেই, হবস কিছু বলতে চেষ্টা করতে হাত তুলে বাধা দিল। পারকারের বুলেটের সামনে দাড়াতে হবে আমাদেরই, বুঝতে পারছি দূরে দাঁড়িয়ে থেকে তোমরা কেবল তামাশাই দেখবে।
চুপ করে থাকল জ্যাক হবস, মুখ দেখে মনে হলো যেন টেক্সানের কথায় আহত হয়েছে।
ঝুঁকিটা আমরা নেব না তোমরা, জ্যাক? বলে চলেছে ব্র্যাড। আমাদের কোন দায় পড়েনি। নেহায়েত পকেট খালি বলে রাজি হচ্ছি, নইলে ওরকম দুএকটা বাফেলো টাউনের কি হলো বা না হলে তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।একটু থেমে ভাইয়ের দিকে তাকাল। মাথাপিছু দুশো ডলার, একেবারে সস্তায়। আর হ্যাঁ, রিওয়ার্ডের সব টাকা।
তুমি জানো আমরা নিরুপায়।
কিভাবে এগোবে ভেবেছ কিছু? জানতে চাইল ব্রুকস।
ওরা তোমার ওপর ছেড়ে দিয়েছে, স্যাম। এ ব্যাপারে তোমার তো অনেক অভিজ্ঞতা। তাছাড়া…
শুধু টাকা আর টিনের তারা দিয়ে খালাস! বিরক্তি প্রকাশ করল ব্র্যাড।
ক্রুদের সবাই শহরে আছে? টেক্সানকে গুরুত্ব দিল না ব্রুকস।
সায় জানাল হবস। বেশিরভাগ।
সকালে লকহার্টের পেছনের কামরায় মিলিত হব আমরা। তারপর বেরোব ওদের খোজে। যে কটাকে পারি ধরে সেলে ঢোকাব। প্রথম দিনে যতটুকু সম্ভব দলটাকে ছোট করে দিতে হবে।
আমার কিন্তু লিয়ন সিটির মার্শালের কথা মনে পড়ছে, অন্যমনস্ক দেখাল প্যাটকে। কিডকে গ্রেফতার করতে গিয়ে মারা পড়েছে সে এবং বহাল তবিয়তে আছে কিড।
এটা লিয়ন সিটি নয় আর ওই মার্শালের মত ভুল করব না আমরা।
অসম্ভব একটা কাজ, স্যাম। কারণ ওরা কে কোথায় থাকবে আগে থেকে সঠিক জানার উপায় নেই। তাছাড়া সংখ্যাটাও ঠিক জানি না। কিন্তু তোমার পরিকল্পনাটা মন্দ নয়। কাজ হলে দলটা অর্ধেক কানা হয়ে যাবে। ওদের আত্মবিশ্বাসে নাড়া দিতে পারলে পরের কাজটুকু কঠিন হবে না, হুজুগে কিছু লোক এমনিতেই পালানো শুরু করবে।
দেখার মত ব্যাপার হবে, বিড়বিড় করে বলল ব্র্যাড গ্যারেট, সিগার টানছে। উজ্জ্বল দেখাচ্ছে চোখ-মুখ। সারা শহরে ঘুরে বেড়াবে টিনের তারাঅলারা, আবার একপক্ষ আরেক পক্ষকে হাজতেও ঢোকাবে। নাহ, আমার মনে হয় খেলাটা ভালই জমবে!
<