শরৎচন্দ্র’র বাড়িতে সাহিত্যের পাঠ নিয়ে কথাশিল্পী’র কুঠি বানালো পাঁচ স্কুল পড়ুয়ানদীয়ার বেথুয়াডহড়ীতে রক্তদান ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল বেথূয়াডহরী টাউনক্লাবপ্রকাশিত হলো বাংলা ভাষার সবুজ পত্রিকা “ব্যঞ্জনা”গোপীবল্লভপুরে প্রকাশিত হল সূবর্ণরৈখিক ভাষায় লেখা ‘বাঁহুকি’ পত্রিকা‘ভাঙন’ পত্রিকা প্রকাশিত হল গোপীবল্লভপুরেশান্তিনিকেতনে সংবর্ধিত হলেন কবি ও সাংবাদিক শুভায়ুর রহমানথেমে গেল কলম, চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীঘেনঘেনানি বৃষ্টি ফোঁটায় বেয়াব্রু প্রেমমহুল পত্রিকার এক দশকবর্ধমান লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সমিরণ ভট্টাচার্যের বই প্রকাশ

ছোটদের ছড়া কবিতা

জ্ঞানী - সুকান্ত ভট্টাচার্য

জ্ঞানী

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

বরেনবাবু মস্ত জ্ঞানী, মস্ত বড় পাঠক,
পড়েন তিনি দিনরাত্তির গল্প এবং নাটক,
কবিতা আর উপন্যাসের বেজায় তিনি ভক্ত,
ডিটেক্‌টিভের কাহিনীতে গরম করেন রক্ত;
জানেন তিনি দর্শন আর নানা রকম বিজ্ঞান
জ্যোতিষশাস্ত্র জানেন তিনি, তাইতো আছে দিক্-জ্ঞান;
ইতিহাস আর ভূগোলেতে বেজায় তিনি দক্ষ,-
এসব কথা ভাবলেই তাঁর ফুলতে থাকে বক্ষ।
সব সময়েই পড়েন তিনি, সকাল থেকে সন্ধ্যা,
ছুটির দিনে পড়েন তিনি, পড়েন পূজোর বন্ধে।
মাঝে মাঝে প্রকাশ করেন গূঢ় জ্ঞানের তত্ত্ব
বিদ্যাখানা জাহির করেন বরেন্দ্রনাথ দত্তঃ
হঠাৎ ঢুকে রান্না ঘরে বলেন, ওসব কী রে?
ভাইঝি গীতা হেসে বলে, এসব কালো জিরে।
বরেনবাবু রেগে বলেন, জিরে তো হয় সাদা,
তিলও কালো, জিরেও কালো? পেয়েছিস কি গাধা?
রান্না করার সময় কেবল পুড়িয়ে হাজার লঙ্কা,
হনুমতী হয়েছিস তুই, হচ্ছে আমার শঙ্কা।
হঠাৎ ছোট্ট খোকাটাকে কাঁদতে দেখে, দত্ত
খোলেন বিরাট বইয়ের পাতা নামটি “মনস্তত্ত্ব”।
খুঁজতে খুঁজতে বরেনবাবু হয়ে গেলেন সারা-
বুঝলেন না, কেন খোকা মাথায় করছে পাড়া।
হঠাৎ এসে ভাইঝি গীতা দুধের বাটি নিয়ে,
খাইয়ে দিয়ে পাঁচ মিনিটে দিল ঘুম পাড়িয়ে।
বরেনবাবু ভাবেন, ‘খোকার কেমনতর ধারা
আধ ঘণ্টার চেঁচামেচি পাঁচ মিনিটেই সারা?’
বরেনবাবুর কাছে আরো বিরাট একটি ধাঁধা,
হলদে চালের রঙ কেন হয় ভাত হলে পর সাদা?
পাথর বাটির গরম জিনিস ঠাণ্ডা হয় তা জানি,
পাহাড় দেশে গরম কেন এমন ছটফটানি?
পথ চলতে ভেবে এসব ভিজে ওঠেন ঘামে,
মানিকতলা যেতে চাপেন ধর্মতলার ট্রামে।
বরেনবাবু জানেন কিন্তু নানা রকম বিজ্ঞান,
জ্যোতিষশাস্ত্র জানেন তিনি তাইতো এমন দিক্-জ্ঞান।।


  

গোপন খবর - সুকান্ত ভট্টাচার্য

গোপন খবর

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

শোন একটা গোপন খবর দিচ্ছি আমি তোমায়,
কলকাতাটা যখন খাবি খাচ্ছিল রোজ বোমায়,
সেই সময়ে একটা বোমা গড়ের মাঠের ধারে,
মাটির ভেতর সেঁধিয়ে গিয়ে ছিল এক্কেবারে,
অনেক দিনের ঘটনা তাই ভুলে গেছ্‌ল লোকে,
মাটির ভেতর ছিল তাইতো দেখে নি কেউ চোখে,
অনেক বর্ষা কেটে গেল, গেল অনেক মাস,
যুদ্ধ থামায় ফেলল লোকে স্বস্তির নিঃশ্বাস,
হাঠাৎ সেদিন একলা রাতে গড়ের মাঠের ধারে,
বেড়িয়ে ফেরার সময় হঠাৎ চমকে উঠিঃ আরে!
বৃষ্টি পেয়ে জন্মেছে এক লম্বা বোমার গাছ,
তারই মাথায় দেখা যাচ্ছে চাঁদের আলোর নাচ,
গাছের ডালে ঝুলছে কেবল বোমা-ই সারি সারি,
তাই না দেখে ভড়কে গিয়ে ফিরে এলাম বাড়ি।
পরের দিনই সকাল বেলা গেলাম ময়দানে,
হায়রে!- গাছটা চুরি গেছে কোথায় কে তা জানে।
গাছটা ছিল। গড়ের মাঠে খুঁজতে আজো ঘুরি,
প্রমাণ আছে অনেক, কেবল গাছটা গেছে চুরি।।

এক যে ছিল - সুকান্ত ভট্টাচার্য

এক যে ছিল

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

এক যে ছিল আপনভোলা কিশোর,
ইস্কুল তার ভাল লাগত না,
সহ্য হত না পড়াশুনার ঝামেলা
আমাদের চলতি লেখাপড়া সে শিখল না কোনোকালেই,
অথচ সে ছাড়িয়ে গেল সারা দেশের সবটুকু পাণ্ডিত্যকে।
কেমন ক’রে?          সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না।।


বড়মানুষীর মধ্যে গরীবের মতো মানুষ,
তাই বড় হয়ে সে বড় মানুষ না হয়ে
            মানুষ হিসেব হল অনেক বড়।
কেমন ক’রে? সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না।।


গানসাধার বাঁধা আইন সে মানে নি,
অথচ স্বর্গের বাগান থেকে সে চুরি করে আনল
            তোমার আমার গান।
কবি সে, ছবি আঁকার অভ্যাস ছিল না ছোট বয়সে,
অথচ শিল্পী ব’লে সে-ই পেল শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের সম্মান।
কেমন ক’রে ? সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না।।


মানুষ হল না বলে যে ছিল তার দিদির আক্ষেপের বিষয়,
অনেক দিন, অনেক বিদ্রূপ যাকে করেছে আহত;
সে-ই একদিন চমক লাগিয়ে করল দিগ্বিজয়।
কেউ তাকে বলল, ‘বিশ্বকবি’, কেউ বা ‘কবিগুরু’
উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম চারদিক করল প্রণাম।
তাই পৃথিবী আজো অবাক হয়ে তাকিয়ে বলছেঃ
কেমন ক’রে? সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না,
এ প্রশ্নের জবাব তোমাদের মতো আমিও খুঁজি।।


   

খাদ্য সমস্যার সমাধান - সুকান্ত ভট্টাচার্য

খাদ্য সমস্যার সমাধান

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

বন্ধুঃ
ঘরে আমার চাল বাড়ন্ত
            তোমার কাছে তাই,
এলাম ছুটে, আমায় কিছু
            চাল ধার দাও ভাই।


            মজুতদারঃ
দাঁড়াও তবে, বাড়ির ভেতর
            একটু ঘুরে আসি,
চালের সঙ্গে ফাউও পাবে
            ফুটবে মুখে হাসি।


            মজুদতারঃ
এই নাও ভাই, চালকুমড়ো
            আমায় খাতির করো,
চালও পেলে কুমড়ো পেলে
            লাভটা হল বড় ।।

অতি কিশোরের ছড়া - সুকান্ত ভট্টাচার্য

অতি কিশোরের ছড়া

- সুকান্ত ভট্টাচার্য

তোমরা আমায় নিন্দে ক’রে দাও না যতই গালি,
আমি কিন্তু মাখছি আমার গালেতে চুনকালি,
কোনো কাজটাই পারি নাকো বলতে পারি ছড়া,
পাশের পড়া পড়ি না ছাই পড়ি ফেলের পড়া।
তোতো ওষুধ গিলি নাকো, মিষ্টি এবং টক
খাওয়ার দিকেই জেনো আমার চিরকালের সখ।
বাবা-দাদা সবার কাছেই গোঁয়ার এবং মন্দ,
ভাল হয়ে থাকার সঙ্গে লেগেই আছে দ্বন্দ্ব ।
পড়তে ব’সে থাকে আমার পথের দিকে চোখ,
পথের চেয়ে পথের লোকের দিকেই বেশী ঝোঁক।
হুলের কেয়ার করি নাকো মধুর জন্য ছুটি,
যেখানে ভিড় সেখানেতেই লাগাই ছুটোছুটি।
পণ্ডিত এবং বিজ্ঞজনের দেখলে মাথা নাড়া,
ভাবি উপদেশের ষাঁড়ে করলে বুঝি তারা।
তাইতো ফিরি ভয়ে ভয়ে, দেখলে পরে তর্ক,
বুঝি কেবল গোময় সেটা,- নয়কো মধুপর্ক।
ভুল করি ভাই যখন তখন, শোধরাবার আহ্লাদে
খেয়ালমতো কাজ করে যাই, কস্ট পাই কি সাধে ?
সোজাসুজি যা হয় বুঝি, হায় অদৃস্ট চক্র!
আমার কথা বোঝে না কেউ পৃথিবীটাই বক্র।।