নটার আগেই আদালতে ভিড় জমে উঠতে শুরু করল লোকজনে গিজগিজ করছে স্যালুন দুটো। রাস্তায় মানুষের ঢল। ডেলহ্যান্টির দোকানের সামনে জটলা করছে একদল লোক, মাঝে মাঝে পালা করে গ্রে বাট আর জেলের দিকে তাকাচ্ছে।

অফিসে অবিরাম পায়চারি করে বেড়াচ্ছে ক্লিফ। সবুট পা জোড়া ডেস্কে তুলে বসে আছে শেরিফ স্টোন, পাইপ ফুকছে। স্টোনের চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই, সে কী ভাবছে। নির্লিপ্ত দেখাচ্ছে তাকে। এভাবেই এতদিন শেরিফের পদ অধিকার করে আছে সে-গুরুতর সঙ্কট মোকাবিলায় অক্ষম, কাউকে বুঝতে দেয় নি।

এই লোক শেষ পর্যন্ত উল্টে যাবেই, ভাবল ক্লিফ, কিন্তু কখন? হয়তো আজই, কোনও এক সঙ্কটজনক মুহূর্তে। একবার যখন পালিয়েছে, আবার না পালানোর কারণ নেই।

সাড়ে নটা।

একজোড়া হাতকড়া নিয়ে সেলরকে ঢুকল ক্লিফ। প্রথমে হেলম্যানের সেলে গেল, ওর বাড়ানো হাতে পরিয়ে দিল একটা। অফিস রুমে চলে যাও, বলল তাকে।

সেল থেকে বেরিয়ে অফিসের দিকে গেল হেলম্যান। সুইভেল চেয়ার ককিয়ে ওঠার শব্দ পেল ক্লিফ, উঠে দাঁড়িয়েছে স্টোন।

রেগানের সেলের তালা খুলল ক্লিফ। এদিকে এসো।

আদেশ পালন করল ল্যুক রেগান।

ঘুরে দাঁড়াও, তারপর হাতদুটো পেছনে নিয়ে এসো।

কিছু একটা বলতে চাইল রেগান, কিন্তু ক্লিফের মুখের দিকে তাকিয়ে দমে গেল। সুবোধ বালকের মতো ঘুরে দাঁড়াল, হাত-দুটো নিয়ে এল পেছনে। হাতকড়া পরিয়ে দিল ক্লিফ। দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সামলে রেখেছে ও। এবার সামনে বাড়ো।

ক্লিফের সঙ্গে অফিস কামরায় এল ল্যুক রেগান। শটগান আর কিছু গুলি ক্লিফকে দিল শেরিফ স্টোন। গুলি ভরে ওটা তৈরি করে নিল ক্লিফ, বাড়তি গুলিগুলো পকেটে রাখা।

হঠাৎ কি ভেবে গানর‍্যাকের দিকে এগিয়ে গেল ও, একটা রাইফেল নিয়ে গুলি ভরা আছে কিনা দেখল। ডেস্কে এসে ড্রয়ার থেকে গুলি বের করে পকেটে ঢোকাল, শটগানটা ফিরিয়ে দিল স্টোনকে।

মার্কদের কায়দা করার কথা ভেবে থাকলে ভুলে যাও, তুমি—

চোপরাও! ধমকে উঠল ফ্যারেল। রাইফেলের ব্যারেল দুলিয়ে দরজার দিকে ইঙ্গিত করল। বৈরিয়ে এল ল্যুক, তাকে অনুসরণ করল হেলম্যান। ক্লিফও বেরোল। রেগান পালাবে সে আশঙ্কা নেই, তবু সতর্ক থাকা ভালো।

ডেলহ্যান্টির দোকানে পৌঁছুল ওরা।

দোতালায়, ল্যুককে নির্দেশ দিল ফ্যারেল।

লোকজন সরে গিয়ে পথ করে দিল। সিঁড়িতে যারা ছিল, দুড়দাড় করে সরে পড়ল, যেন রেগানের ছোঁয়া লাগলেই ফোস্কা পড়ে যাবে।

দর্শকরা আসন গ্রহণ করতে শুরু করেছে আদালত কামরায়। জাজ কেনেডি এখনও পৌঁছুও নি।

আসামীদের সামনের সারিতে নিয়ে গেল ক্লিফ, ওরা বসলে ঠিক পেছনে বসল ও। দরজায় গিয়ে দাঁড়াল স্টোন, জাজের অপেক্ষায় রইল।

কামরার ভেতর গুঞ্জন, চাপা কণ্ঠে কথা বলছে সবাই। গমগম করছে সারা ঘর।

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে আপন গতিতে।

হঠাৎ বুঝতে পারল ক্লিফ, হাত দুটো ঘামছে। প্যান্টের পায়ায় হাত মুছল। জড়োসড়ো হয়ে বসেছে হেলম্যান, সামনে তাকিয়ে আছে। শিরদাঁড়া সোজা করে বসেছে ল্যুক, ম্যাট রেগানের, অপেক্ষা করছে।

নটা পঞ্চাশে হাজির হলো ম্যাট আর জেস, সরাসরি ল্যুকের কাছে এগিয়ে এল। মুহূর্তের জন্যে ক্লিফের দিকে তাকাল ম্যাট, তারপর ল্যুকের দিকে চোখ ফেরাল। ভেবো না, ল্যুক, সন্ধ্যার আগেই এখান থেকে চলে যাব আমরা।

ম্যাটের পিছু নিয়ে স্টোনও এসেছে। সামনে চলে যাও, মৃদু কণ্ঠে আদেশ করল সে।

ঘাড় ফিরিয়ে শেরিফের দিকে তাকাল ম্যাট। চলো, জেস, ভাইয়ের উদ্দেশে বলল। সন্তুষ্ট চেহারায় সামনে বাড়ল দুভাই, শেষে দুটো চেয়ারে বসে পড়

এই সময় কামরায় পা রাখল জাজ কেনেডি।

সবাই উঠে দাঁড়াও! বলল স্টোন।

উঠে দাঁড়াল দর্শকরা। ডেস্কের দিকে এগিয়ে গেল কেনেডি, আসন গ্রহণ করল। সঙ্গে আনা কাঠের হাতুড়ির আঘাত করল ডেস্কে।

নীরবতা নামল কামরায়। স্টোনের দিকে ঘাড় ফেরাল কেনেডি। প্রথমে জুরী নির্বাচন পর্ব, পনেরজন লোকের নাম বলো।

একে একে নাম ডাকতে শুরু করল স্টোন। মোট পনেরজন লোক উঠে বিচারকের আসনের বাঁ দিকে সাজানো দুসারি চেয়ারে গিয়ে বসল।

সবার চেহারা জরিপ করল ক্লিফ। ওদের চোখে মুখে অনীহার ছাপ সুস্পষ্ট।

ডেস্কে হাতুড়ি ঠুকল কেনেডি, ফিসফিস গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, আবার নীরবতা নামল কামরায়।

নাম বলো, শেরিফ, বলল জাজ, সম্ভাব্য জুরীদলের দিকে তাকাল। নাম ডাকার পর দাঁড়িয়ে আমার প্রশ্নের জবাব দেবে।

পোমরয়, ডাকল শেরিফ।

কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়াল পোমরয়, অস্বস্তির সঙ্গে, ল্যুক আর ম্যাটের দিকে তাকাল। ক্লিফকে এড়িয়ে গেল তার দৃষ্টি।

তুমি কাউন্টির যোগ্য ভোটার? জিজ্ঞেস করল কেনেডি।

জি।

এই মামলার জুরী হতে তোমার আপত্তি আছে?

মেঝের দিকে চোখ নামাল পোমরয়। আছে, জাজ।

কেন?

আমার রায় নিরপেক্ষ হবে না।

দীর্ঘ সময় পোমরয়ের দিকে চেয়ে রইল জাজ। তার তীব্র দৃষ্টির সামনে মিইয়ে গেল পোমরয়। ঠিক আছে, অবশেষে বলল কেনেডি, পরের জনকে ডাকো, শেরিফ।

ফ্রাঙ্ক হাইট।

দাঁড়াল হাইট। ক্লিফ জানে সে কী বলবে। পোমরয় পথ দেখিয়ে দিয়েছে। এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট, এখানে বসে যতই খোঁজাখুঁজি করুক, বারজন কেন, ছজন লোকও জুরী হতে রাজি হবে না।

আর, এই পরিস্থিতিতে জুরী মিললেও নির্দ্বিধায় ল্যুকের পক্ষে রায় দেবে তারা। ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে শয়তানটা।

হুবহু পোমরয়ের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করল ফ্র্যাঙ্ক হাইট।

একের পর এক নাম ডেকে গেল স্টোন, একই জবাব পাওয়া গেল।

গম্ভীর হয়ে উঠল জাজ কেনেডির চেহারা। পনের জনই জুরী হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দর্শকদের দিকে তাকাল জাজ, অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে তারপর বলল, জীবনে বহু জায়গায় বিচার করতে গেছি, কিন্তু ভীতু লোকে ঠাসা এমন শহর আর চোখে পড়ে নি। গুরুতর একটা অপরাধ সংগঠিত হয়েছে এখানে, তোমরা ভালোবাস যাকে, সেই মেয়েটাকে লাঞ্ছিত করেছে এক নরপশু, অথচ তারই বিচারে জুরী হওয়ার মতো একটা লোক পাওয়া যাচ্ছে না, আশ্চর্য!

নীরব দর্শকদের দিকে তাকিয়ে আছে জাজ কেনেডি, সরাসরি তার দিকে তাকানোর সাহস করছে না কেউ।

অপরাধের কাছে নতি স্বীকার করে নিয়েছ তোমরা, আবার বলল জাজ, তোমরাও কি অপরাধী নও? ভারি দীর্ঘশ্বাস ফেলল কেনেডি। এ-ই সব নয়। আসামীর পাঁচ ভাই শহরে আসার আগে তোমরা কয়েকবার জেল ভেঙে নিজ হাতে আইন তুলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়েছ, অফিসারদের বাধা দিয়েছ দায়িত্ব পালনে। অপরাধীদের সহায়তা করার অপরাধে তোমাদের সবাইকে অভিযুক্ত করতে পারলে খুশি হতাম, দুর্ভাগ্যবশত তা সম্ভব নয়, একসঙ্গে এত লোকের বিচার করা যায় না। কিন্তু মনে রেখো, তোমরা মানুষ নামের অযোগ্য। আমি সতর্ক করে দিয়ে বলছি, কেউ যদি বিকৃত মনকে তৃপ্ত করতে অসহায় মেয়েটার প্রতি কোনও বাজে মন্তব্য করে মানহানিকর একটা শব্দ উচ্চারণ করে, তাকে যাতে জবাবদিহি করতে হয়, তার ব্যবস্থা আমি করব। ক্রুদ্ধ চেহারায় দর্শকদের দিকে তাকাল সে; তারপর আবার খেই ধরল, সেই সঙ্গে শেরিফ আর ডেপুটিকে আসামীকে স্যান্তা রোসায় নিয়ে যাবার নির্দেশ দিচ্ছি। কাল সকাল ঠিক দশটায় বিচার শুরু হবে। ওখানে আসামীর বিচার করার সাহস রাখে এমন বারজন লোক পাওয়া যাবে আশা করি। আদালত আপাতত মুলতবী ঘোষণা করা হলো।

খট! খট!-হাতুড়ির বাড়ি পড়ল ডেস্কে।

উঠে দাঁড়াল জাজ কেনেডি।

স্টোনও উঠল। সবাই উঠে দাঁড়াও! বলল সে।

একসঙ্গে উঠে দাঁড়াল কামরার প্রতিটি লোক। দরজার দিকে পা বাড়াল জাজ, বেরিয়ে গেল।

ল্যুক রেগানের পিঠে রাইফেলের নল ঠেসে ধরল ক্লিফ ফ্যারেল। ম্যাটের দিকে তাকাল। তুমি শুনে রাখো, আমাকে বাধা দিতে এলেই ট্রিগার টিপে দেব। হয়তো খুন হয়ে যাব কিন্তু ল্যুকও রেহাই পাবে না। আমরা এখান থেকে না বেরোনো পর্যন্ত এক পাও নড়বে না।

সমবেত দর্শকের দিকে তাকাল স্টোন। আসামীকে বাইরে না নেয়া পর্যন্ত যার যার জায়গায় বসে থাকো।

রেগানের পিঠে রাইফেলের খোঁচা দিল ফ্যারেল। ককিয়ে উঠল ল্যুক, উঠে দরজার দিকে এগোল।

আস্তে, বলল ক্লিফ, এমন কিছু করো না যাতে মনে হয় পালানোর তাল করছ।

ঘাড় ফিরিয়ে ক্লিফের দিকে তাকাল ল্যক। খুব ধীরে, সতর্কতার সঙ্গে দরজার দিকে এগিয়ে চলল। ল্যান্ডিংয়ে পৌঁছে নামতে শুরু করল সিঁড়ি বেয়ে।

ল্যুকের পিঠে রাইফেলের মাযল ঠেকিয়ে এক কদম পেছনে রইল ক্লিফ।

রাস্তায় নামল দুজন। একটু দাঁড়াও, বলল ক্লিফ।

থামল রেগান। চট করে একবার চারপাশে নজর ..বোলাল ক্লিফ। ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে আদালত কামরার দিকে শটগান বাগিয়ে ধরে রেখেছে স্টোন, পাশে হেলম্যান, আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ল্যুকের দিকে চোখ ফেরাল ও। অবস্থাটা বুঝতে পারছ?

আশপাশে তাকাল ল্যুক, হতাশার ছাপ পড়ল তার চেহারায়। নীরবে ক্লিফের সঙ্গে জেলহাউসে ফিরে এল সে।

হাতকড়া খুলে আবার ওকে সেলে ঢোকাল ক্লিফ। রেগানের চোখে নৈরাশ্যের ছায়া দেখল ও, কাঁদো কাঁদো চেহারা হয়েছে তার।

আমার তামাক দেশলাই ফুরিয়ে গেছে, বলল সে। ইশ, মনে হচ্ছে।

পরে, বলল ক্লিফ। অফিসে ফিরে এল ও। একটু পরে হেলম্যানকে নিয়ে স্টোন পৌঁছুল। হেলম্যানের হাতকড়া খুলে দিল শেরিফ। চাইলে তুমি এখন। যেতে পারো, বলল, তবে আমরা যতক্ষণ স্যান্তা রোসায় না যাচ্ছি, আশপাশে থেকো।

আমি একা চলে গেলে হয় না?

মাথা নাড়ল স্টোন।

তা হলে জেলে থাকাই ভালো, বলল হেলম্যান। আমার কাছে একটা ফুটো পয়সাও নেই।

তোমার ইচ্ছে।

হেলম্যানকে সেলে রেখে এল স্টোন।

কখন রওনা দেবে? জিজ্ঞেস করল ক্লিফ, এখনই গেলে ভালো হত না? নইলে পৌঁছুতে পৌঁছুতে রাত হয়ে যাবে।

পাগল নাকি? বলল স্টোন। রেগানকে নিয়ে স্যান্তা রোসায় যাওয়া অসম্ভব।

তবু চেষ্টা করা উচিত।

আমি যাই ঘোড়ার ব্যবস্থা করি।

জবাব দিল না স্টোন। বাইরে বেরিয়ে এল ফ্যারেল, এগোল লিভারি বার্ন-এর দিকে।

আস্তাবলে পৌঁছে চড়া গলায় নিকোলাসকে ডাকল। একটা স্টল থেকে উঁকি দিল হোলস্টার।

চারটে ঘোড়া, নিকোলাস, তাড়াতাড়ি! বলল ক্লিফ।

ওকে স্যান্তা রোসায় নিয়ে যাচ্ছ?

মাথা দোলাল ক্লিফ।

তোমরা দুজন?

উপায় কী? শহরের লোকেরা জুরী হতেই রাজি হলো না, তারা কি আর সাহায্য করবে?

কিন্তু দুজনে পারবে?

প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল ফ্যারেল। জলদি ঘোড়ার ব্যবস্থা করো, তাড়া দিল

পরপর চারটে ঘোড়া বের করে ওগুলোর পিঠে জিন চাপাতে শুরু করল নিকোলাস। অপেক্ষা করল ক্লিফ। নিকোলাস সত্যি কথা বলেছে। মাত্র দুজনের পক্ষে রেগানকে স্যান্তা রোসায় নিয়ে যাওয়া এক কথায় অসম্ভব।

কিন্তু রেগানকে কোনওমতেই মুক্তি দেয়া যাবে না। এখন দুটো পথ আছে, ল্যুকের সামনে: স্যান্তা রোসায় গিয়ে আদালতে দাঁড়াতে হবে; অথবা মরতে হবে ক্লিফের হাতে।

চারটে ঘোড়া তৈরি করে লাগামগুলো ফ্যারেলের হাতে তুলে দিল নিকোলাস। একটা ঘোড়ার পিঠে উঠে বসল ক্লিফ, অপর তিনটে ঘোড়াসহ

এগোল রাস্তা ধরে। হোটেলের সামনে কিছু লোক জটলা করছে। আবার বারান্দার খুঁটিতে নোটিস সেঁটেছে ম্যাট, পড়ছে সেটা। জেলহাউস পেছনে ফেলে হোটেলের দিকে এগিয়ে গেল ক্লিফ। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে পড়ল নোটিসটা।

আমার ভাইয়েরা পাহাড়ের ওপর থাকবে, শেরিফ আর ডেপুটি ছাড়া অন্য কেউ ল্যুকের সঙ্গে গেলে ডিনামাইট ফাটিয়ে দেবে।
ম্যাট রেগান।

পাশে দাঁড়িয়েছিল ম্যাট, বিদ্রূপভরা দৃষ্টিতে ক্লিফের দিকে তাকাল। ক্লিফ তাকাল তার দিকে। ওদের পাঁচ-সাত মাইল এগিয়ে যাবার সুযোগ দেবে লোকটা, ভাবল, তারপর নেমে আসতে বলবে দুভাইকে, পাঁচজন একসঙ্গে ছুটে যাবে ল্যুককে উদ্ধার করতে; পাঁচজনের মোকাবেলা করা ওদের সাধ্যে কুলোবে না।

অন্যমনস্কভাবে কাঁধ ঝাঁকাল ক্লিফ, ঘুরে জেলহাউসের পথ ধরল। জেলের সামনে পৌঁছে লাফিয়ে নামল স্যাডল থেকে। ঘোড়াগুলোকে হিচরেইলে বেঁধে ভেতরে ঢুকল।

অফিস কামরায় পা রেখেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো থমকে দাঁড়াল। মুক্ত অবস্থায় কামরার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ল্যুক রেগান! সেলের দিকে যাচ্ছে স্টোন।

ক্লিফকে দেখেই গানরাকের দিকে তেড়ে গেল ল্যুক। এক টানে পিস্তল বের করে আনল ফ্যারেল, পিছিয়ে আনল হ্যামার, কঠিন কণ্ঠে নির্দেশ দিল, থামো!

জমে গেল রেগান। স্টোন? একই সুরে আবার বলল ক্লিফ। করেছ কী? জলদি ওর হাতে হাতকড়া পরাও!

ঘুরে দাঁড়াল স্টোন। উদ্যত পিস্তল তার হাতে। ওকে যেতে দাও, ক্লিফ, বলল সে।

না! অবিশ্বাসের সঙ্গে স্টোনের দিকে তাকাল ফ্যারেল। আশ্চর্য! এই খানিক আগে আদালতে এবং এর আগে মুরের সঙ্গে মারপিটের সময় পাশে এসে দাঁড়াল, অথচ এখন একেবারে উল্টো কথা বলছে!

ওকে যেতে দাও, ভারি গলায় বলল স্টোন। নইলে গুলি করব।

করো গুলি, বলল ফ্যারেল। মরার আগে রেগানকে মেরে যাব আমি!।

ক্লিফ…! কাঁদো কাঁদো গলায় উচ্চারণ করল স্টোন, আর কোনও উপায় নেই, বুঝছ না কেন?

পিস্তল রেখে হাতকড়া এনে দাও, বলল ক্লিফ।

ফিরে এল স্টোন, ক্লিফের পায়ের কাছে ছুঁড়ে দিল হাতকড়া। হাত বাড়িয়ে বুকে সাঁটা ব্যাজটা খুলে ফেলল একটানে, ছুঁড়ে দিল একদিকে। জাহান্নামে যাক, আমি আর নেই! এটার জন্যে প্রাণ খোয়ানোর ইচ্ছে নেই আমার।

আবার ক্লিফের দিকে তাকাল সে, তারপর নীরবে বেরিয়ে গেল, হাঁটতে হাঁটতে দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেল একসময়।

<

Super User