না জেনে করণ কারণ কথায় কি হবে।
কথায় যদি ফলে কৃষি, তবে বীজ কেন রোপে৷।
গুড় বললে কি মুখ মিঠা হয়
দিন না জানলে আঁধার কি যায়
তেমনি জেন হরি বলায়
হরি কি পাবে।।
রাজায় পৌরুষ করে
জমির কর সে বাঁচে নারে
তেমনি সাঁইর একরারি কাজ রে
পৌরুষে ছাড়বে।।
গুরু ধর, খোদকে চেনো
সাঁইর আইন আমলে আনো
লালন বলে, তবে মন
সাঁই তোরে নিবে।।

————

৩১২. লালন-গীতিকা, পৃ. ৯৭

বাউল কবি লালন শাহ গ্রন্থে অন্তরার ‘হরি’ স্থলে ‘আল্লা’ কথান্তর আছে। ভাব-ভাষার বিবেচনা হরি সংগত। এর ২য় চরণ “দীপ না জ্বাললে আঁধার কি যায়।” এরূপে লেখা হয়েছে। এ পাঠ অধিক সংগতিপূর্ণ। সঞ্চারী স্তবকটিতে নানা পাঠভেদ আছে।

রাজারে পৌরুষ করে
জমির কর কি বাঁচে সেরে
একি তোর একরারের কাজ রে
শুধু পৌরুষ ছাড়বে।। -পৃ. ২৮৫-৮৬

<

Lalon Fakir ।। লালন ফকির