মুরশিদের ঠাঁই লেনা রে সে ভেদ বুঝে।
এ দুনিয়া সিনায় সিনায়
                    কি ভেদ নবী বিলিয়েছে।।

সিনায় ভেদ সিনায় সিনায়
সফিনার ভেদ সফিনায়
যে ভাবে যার মন হল ভাই
                    সেই ভাবে সে দাঁড়িয়েছে।।

কু-তর্কী কু-স্বভাবী
তারে ভেদ বলে নাই নবী
ভেদের ঘরে দিয়া চাবি
                    সবার কথা জানিয়েছে।।

নেকতন বান্দারা যত
ভেদ শুনে আউলিয়া হয়
নাদানেরা শূল যাচিত
                    মনসুর তার সাবুদ আছে।।

তফসির হসিন যার নাম
তাই ঢুঁড়ে মসনবি কালাম
ভেদই শরা লিখ তামাম
                    লালন বলে সাই নিজে।।

———
লালন ফকির : কবি ও কাব্য, পৃ. ১৩৭
‘লালন-গীতিকা’য় শব্দগত কিছু কথান্তর আছে। আভোগ স্তবকটি এভাবে লেখা হয়েছে:
তফসীর হোসেনি যার নাম
তাই ধরে মসনবী কালাম
ভেদ ইশারায় লিখা তামাম
লালন বলে নাই নিজে।। – পৃ. ১৭৫

সুফি ভাবধারা অবলম্বনে গানটি রচিত। এজন্য আরবি-ফারসি শব্দের আধিক্য আছে। সিনা (বক্ষ), সফিনা, নেকতন (ধার্মিক), বান্দা (মানুষ), নাদান (অপদার্থ), সাবুদ (প্রমাণ), তফসির (ধর্মীয় ব্যাখ্যা-পুস্তক), হসিন, তামাম (সম্পূর্ণ) ইত্যাদি সুফিতত্ত্বের পারিভাষিক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

<

Lalon Fakir ।। লালন ফকির