বিজয়া। চলুন, কিন্তু ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে যাবে যে।
দয়াল। হলোই বা। আমি তার ব্যবস্থা করব। তা ছাড়া সঙ্গে কানাই সিং ত আছেই।
[উভয়ের প্রস্থান
দ্বিতীয় দৃশ্য
দয়ালবাবুর বাটীর নীচের বারান্দা
[নলিনী ও নরেন। টেবিলের দুইদিকে দুইজন বসিয়া, সম্মুখে খোলা বই দোয়াত কলম ইত্যাদি রক্ষিত]
নলিনী। সত্যিই মিস রায়ের বিবাহে আপনি উপস্থিত থাকবেন না? এই ত মাত্র কটা দিন পরে, আর রাসবিহারীবাবু কি অনুরোধই না আপনাকে করেছেন।
নরেন। তিনি করেছেন বটে, কিন্তু যাঁর বিবাহ তিনি নিজে ত একটি মুখের কথাও বলেন নি।
নলিনী। বললে থাকতেন?
নরেন। না। থাকবার জো নেই আমার। যত শীঘ্র সম্ভব নতুন চাকরিতে গিয়ে যোগ দিতে হবে।
নলিনী। কিন্তু আমার বেলায়? সে-ও থাকবেন না?
নরেন। থাকব। নিমন্ত্রণপত্র পাঠাবেন, যদি অসম্ভব না হয় আপনার বিবাহে আমি উপস্থিত হবোই।
নলিনী। কথা দিলেন?
নরেন। হাঁ, দিলুম কথা। হয়ত এমনি কথা বিজয়াকেও দিতুম যদি তিনি নিজে অনুরোধ করতেন। কাজের ক্ষতি হলেও।
নলিনী। দেখুন ডক্টর মুখার্জী, এ বিবাহে বিজয়ার সুখ নেই, আনন্দ নেই এই আমার ঘোরতর সন্দেহ। সেইজন্যেই আপনাকে অনুরোধ করেন নি।
নরেন। কিন্তু তিনি নিজেই ত সম্মতি দিয়েছেন।
নলিনী। দিয়েছেন মুখের সম্মতি—হয়ত বাধ্য হয়ে। কিন্তু অন্তরের সম্মতি কখনো দেননি। আমার মামার মত নিরীহ সরল মানুষ, যিনি সামনে ছাড়া এতটুকু আশেপাশে দেখতে পান না, তাঁরও কেমন যেন সংশয় জেগেছে, বিজয়া যাকে চায় সে লোক ঐ বিলাসবাবু নয়। কালকেই বলছিলেন আমাকে, নলিনী, বিবাহ-আয়োজনের সব ভারটাই এসে পড়েছে আমার ‘পরে, কিন্তু মনে উৎসাহ পাইনে মা, কেবলই ভয় হতে থাকে যেন কি একটা গর্হিত কাজে প্রবৃত্ত হয়েছি। যতই দেখি ওকে ততই মনে হয় দিন দিন শুকিয়ে যেন বিজয়া কালি হয়ে যাচ্চে। কেনই বা এখানে এসেছিলুম, শেষ বয়সে যদি পাপ অর্জন করেই যাই মরণের পরে তাঁর কাছে গিয়ে কি জবাব দেব মা!
নরেন। দেখুন মিস দাস, ও-সব কিছু না। বিজয়া এই সেদিন অসুখ থেকে উঠলেন, এখনো ভালো সেরে উঠতে পারেন নি।
নলিনী। তাই প্রতিদিন শুকিয়ে যাচ্চেন? ডক্টর মুখার্জী, আমার মামা তবু সামনাসামনি দেখতে পান, কিন্তু আপনি তাও পান না। আপনি তাঁর চেয়েও অন্ধ। সেদিনের কথা মনে করে দেখুন, ভালোবাসলে কোন মেয়ে প্রভু-ভৃত্য সম্বন্ধের কথা বিলাসবাবুকে কিছুতে বলতে পারতেন না,—তা যত রাগই হোক।
নরেন। বড়লোক টাকার অহঙ্কারে সব পারে মিস দাস। ওদের মুখে কিছু আটকায় না।
নাটক : বিজয়া Chapter : 4 Page: 66
- Details
- Sarat Chandra Chattopadhyay ।। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Category: কবিতার বিষয়
- Read Time: 1 min
- Hits: 273