যার যার বাড়িতে লাঞ্চ সারল ওরা। তারপর স্যালভিজ ইয়ার্ডে মিলিত হল তিন গোয়েন্দা। ট্রাক বের করে অপেক্ষা করছিল কিশোর আর বোরিস, মুসা আর রবিন এলে রওনা হল।

ডাই লজ-এর সিঁড়িতে ওদের অপেক্ষায়ই দাঁড়িয়েছিল এড, ট্রাকটা দেখে দৌড়ে এল। তার মা কোথায় জিজ্ঞেস করল কিশোর।

বাড়ির পেছনে কাঠ আর পাথরে তৈরি একটা ছাউনিতে ওদেরকে নিয়ে এল এড। লাল রঙ করা কাঠের টবে তখন একটা হিবিসকাসের বড় চারা লাগাচ্ছেন মিসেস ডাই।

ম্যাডাম, কোনরকম ভূমিকা করল না কিশোর। আমরা ভেবেছি, নৌকা বোঝাই করে মাল নিয়ে গেছেন বাওরাড। বাড়িতে গিয়ে জার্নালটা আবার পড়লাম। এখন আমার বিশ্বাস, নেননি, আসলে দ্বীপ থেকে কিছু এনেছেন। ওখান থেকে আনা হয়েছে, এমন কোন জিনিসের কথা জানেন আপনি?

হাসলেন মহিলা। আমি কি করে জানব, কিশোর?

এই জবাবই আশা করেছিল কিশোর। ভাল করে ভেবে দেখুন। ইতিমধ্যে বাওরাডের মেসেজগুলো নিয়ে আরেকবার আলোচনা করে দেখি। পাতলা জার্নালটা খুলল সে। এই যে, একুশে নভেম্বর লেখা রয়েছে…ও হ্যাঁ, একটা ভুল করে ফেলেছিলাম আমরা। বাওরাড বলেছেন তাঁর দিনগুলো কিভাবে তৈরি করেছেন, পড়ার জন্যে, একটা বা কয়েকটা দিন নয়, সমস্ত দিন পড়ে তারপর মেসেজের মানে উদ্ধার করতে বলেছেন। তাহলে দেখা যাক, আর কোথায় কি রয়েছে। জরুরি পৃষ্ঠাগুলো শুধু পড়ব। একুশে নভেম্বরঃ ড্যানিয়েল ব্রাদার্সরা খবর পাঠিয়েছে, আমার অর্ডার তৈরি। বড় ওয়াগনটা দরকার আমার।…তার পরদিন লিখেছেনঃ অর্ডার নিয়ে রকি বীচ থেকে ফিরে এলাম। চমৎকার কাজ দেখিয়েছে ওরা। প্রতিটি পিস একেবারে মাপমত। এই দেশে এরকম জিনিস বানাতে পারবে কেউ আশা করিনি। মুখ তুলল কিশোর। বাইশে নভেম্বর তেমন কিছু নেই। তেইশে নভেম্বরঃ এলাকায় দুজন নতুন মুখকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলাম। নাবিক … একেবারে আটাশে নভেম্বর গিয়ে আবার জরুরি কথা আছেঃ ওরা চলে গেছে। ক্যাপ্টেনের কাছে রিপোর্ট করতেই গেল বোধহয়।

চোখ রাখা হয়েছে যে তখনই নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, বলল রবিন।

মাথা ঝাঁকাল কিশোর। তখনকার তাঁর মনের অবস্থা আন্দাজ করতে পার?  ছেলে নেই, বউ নেই, বিদেশ-বিভুঁইয়ে একা একজন মানুষ, শত্রু ঘোরাফেরা করছে…নিশ্চয় তখনই তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার কথা ভাবেন।

আর কি লিখেছে? এড জিজ্ঞেস করল।

ডিসেম্বরের পাঁচ তারিখে লিখেছেনঃ নোরিয়ার চমকে শেষ ছোঁয়া দিতে সান্তা বারবারায় গেলাম। ভাল জিনিস পেয়েছি, সস্তায়, কারণ প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছিল। ওয়ান ম্যানস ট্র্যাজেডি ইজ অফেন অ্যানাদারম্যানস ফরচুন! জার্নাল বন্ধ করল কিশোর। কাল রাতে ড্যানিয়েল ব্রাদার্স-এর ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছিলাম। রকি বীচে ইট সিমেন্টের কারবার করে। নিশ্চয় অনেক ইট কিংবা পাথর কিনেছিলেন বাওরাড। ড্যানিয়েল বিল্ডিং সাপ্লাই কোম্পানি এখনও আছে, নাতিপুতিরা কোম্পানি চালাচ্ছে। গেলে পুরানো রেকর্ড পাওয়াও যেতে পারে।

তাহলে যাচ্ছি না কেন? প্রায় চেঁচিয়ে উঠল এড।

যাব। সান্তা বারবারায়ও যেতে হবে। নোবল জার্নালের ফটো তুলে নিয়ে গেছে, সে-ও যেতে পারে ওসব জায়গায়। জলদি করতে হবে আমাদের। রবিন আর মুসা ড্যানিয়েল কোম্পানিতে চলে যাক। আমি আর তুমি যাব সান্তা বারবারায়, বোরিস ট্রাকে করে নিয়ে যাবে আমাদের। আপনার কোন আপত্তি

আছে, মিসেস ডাই?

না, আমার আপত্তি কি? তবে একটা কাজ করে দিয়ে যাও। এই টবটা বেজায় ভারি, হিবিসকাসের টব দেখালেন মিসেস ডাই। এটা বাইরে বের করে, দিয়ে যাও। নইলে আবার ডিনোকে ডাকতে হবে, আমি একা পারব না।

সিঁড়ির একপাশে নিয়ে গিয়ে টবটা সবে বসিয়েছে ওরা, এই সময় শোনা গেল ইঞ্জিনের শব্দ। দ্রুত আসছে। প্রফেসর কেইনের স্টেশন ওয়াগন।

গাড়ি থেকে নেমে প্রায় ছুটে এলেন প্রফেসর। তোমাদের সাবধান করতে এসেছি, বয়েজ! পুলিশকে জানিয়েছিলাম। খোঁজ নিয়েছেন ইয়ান ফ্লেচার। শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়নি নোবলের, প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ডেঞ্জারাস লোক। কোন ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করবে না সে। বুঝেছ আমার কথা?

কত দিন আগে ছাড়া পেয়েছ? কিশোর জিজ্ঞেস করল।

ছয় মাস।

ছয় মাস আগে থেকেই ডাই লজে চোর ঢুকতে আরম্ভ করেছে, না? মুসা বলে উঠল।

হ্যাঁ, মুসা, নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটল কিশোর। ভাবছি…। হঠাৎ বড় বড় হয়ে গেল চোখ। নাক কুঁচকে বাতাস শুকছে। এই, গন্ধ পাচ্ছ?

তাই তো! মুসা বলল। ধোঁয়া। পুড়ছে কিছু।

বাড়ির পেছন থেকে! চেঁচিয়ে উঠল এড।

দৌড় দিল সবাই।

দেখল, ছাউনি থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে।

সঙ্গে সঙ্গে পকেটে খুঁজতে শুরু করল কিশোর। পেল না। প্রায় আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে উঠল, হায়, হায়! জার্নালটা! টব তোলার সময় হাত থেকে রেখেছিলাম, আর আনতে মনে নেই!

<

Super User