সেড্রিককে নিয়ে পাশের একটা ছোট কামরায় ঢুকলো উলরিকা। দরজা বন্ধ করে দিলো।
আপনি স্যাক্সন, তাই না ফাদার?
হ্যাঁ, সংক্ষিপ্ত জবাব সেড্রিকের। বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে বলে এখানে নিয়ে এলে কেন আমাকে?
প্রশ্নটা যেন কানেই ঢোকেনি বুড়ির।
আমিও স্যাক্সন, ফাদার, বলে চললো সে। আপনার সামনে এখন যে কুৎসিত বুড়ি দাঁড়িয়ে আছে, বললে বিশ্বাস করবেন, সে এক কালে নামজাদা জমিদার লর্ড অভ টরকুইলস্টোনের মেয়ে ছিলো?
তুমি টরকুইল উলফগ্যাঞ্জারের মেয়ে! সবিস্ময়ে চিৎকার করে উঠলেন সেড্রিক। তুমি–তুমি আমার বাবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেই মহান স্যাক্সনের মেয়ে!
আপনার বাবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু! এবার বিস্মিত হওয়ার পালা উলরিকার। তার মানে আপনি স্যাক্সন সেড্রিক! রদারউডের জমিদার! নিশ্চয়ই তাই! কিন্তু কি আপনার গায়ে পাদ্রীর পোশাক কেন?
সে কথা তোমার না জানলেও চলবে। তোমার দুর্ভাগ্যের কাহিনী শেষ করো।
আমার বাবা, আমার সাত তাই কিভাবে মারা গিয়েছিলেন আপনি জানেন। তার পর থেকে খুনীদের দাসী হিশেবে আমি আছি এখানে। যে বাড়িতে এককালে আমি ছিলাম রাজকন্যার মতো–আমার বাবা, আমার ভাইয়েরা আমাকে মাথায় করে রাখতো–সেই বাড়িতে আমি আজ দাসী, হুকুমের চাকরানী। আর কি বলবো আমি?–এ-ই আমার কাহিনী।
উলরিকা, এতদিন যখন কষ্ট সহ্য করতে পেরেছো আর কিছুক্ষণ করো, সান্ত্বনা দিয়ে বললেন সেড্রিক। অস্থির হয়ো না, তোমার দুঃখের দিন বোধ হয় শেষ হয়ে আসছে।
কষ্ট আমার কাছে তুচ্ছ, স্যাক্সন সেড্রিক। কিন্তু যে অপমান আমি সয়েছি তাকে যে কিছুতেই তুচ্ছ ভাবতে পারি না। প্রতিহিংসার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে আমার বুকে। প্রতিশোধ নেয়ার জন্যেই এখনো আমি প্রাণ ধরে আছি। বহুবার এ জীবন শেষ করে দেয়ার কথা ভেবেও করিনি, শুধু এই একটা কারণে, খুনীদের দুষ্কর্মের শাস্তি না দিয়ে আমার মরা চলবে না। আজ সুযোগ এসেছে। হ্যাঁ, মোক্ষম সুযোগ। রেজিনান্ড, তোর বাপের পাপে আজ তুই মরবি! বলতে বলতে খনখনে গলায় ভয়ঙ্কর হাসিতে ফেটে পড়লো উলরিকা।
শুনুন, সেড্রিক! হাসি থামিয়ে সে বলে চললো, সাধারণ মানুষ আর রাজদ্রোহী ডাকাতদের এক বিরাট বাহিনী জড় হয়েছে বাইরে। এই দুর্গ আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বাইরে গিয়েই আপনি ওদের দলে যোগ দেবেন। সবাইকে তৈরি থাকতে বলবেন। যখন দেখবেন দুর্গের পশ্চিম পাশের মিনারের মাথায় লাল পতাকা উড়ছে অমনি আক্রমণ করবেন। নরম্যান পশুগুলোকে আমি দুর্গের ভেতর ব্যস্ত রাখবে সে সময়। আপনাদের বাধা দেয়ার জন্যে বেশি কেউ থাকবে না বাইরে। যান, সেড্রিক, আর দেরি করবেন না। উলরিকা, বুড়ি উলরিকা, এবার তোর প্রতিশোধের পালা, বলতে বলতে আবার সেই খনখনে গলায় হেসে উঠলো সে, তারপর ছুটে বেরিয়ে গেল ছোট্ট ঘরটা থেকে।
কয়েক মুহূর্ত পরেই শোনা গেল ত দ্য বোয়েফের চিৎকার, কোথায় গেল হতভাগা পাত্রী? এতক্ষণ লাগে নাকি মাত্র দুজনের স্বীকারোক্তি শুনতে?
সেড্রিক এগিয়ে গেলেন তার দিকে। কি ব্যাপার, স্বীকারোক্তি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন নাকি, ফাদার? বললো রেজিনান্ড। তৈরি ওরা মৃত্যুর জন্যে?
হ্যাঁ, সেরকমই তো মনে হলো। আপনি যে এক ফোটা দয়া দেখাবেন
তা বোধহয় ওরা বুঝতে পেরেছে।
ভালো। আপনি আসুন আমার সাথে।
কোথায়? আমাকেও কি বন্দী করে রাখবেন?
আপনি পাদ্রী না গাধা, হ্যাঁ? আপনাকে বন্দী করে আমার দুপয়সারও লাভ হবে?
মনে হয় না।
তাহলে কেন আপনাকে বন্দী করবো? আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি দুর্গের পেছন দিকে, গোপন দরজা দিয়ে বের করে দেবো। আসুন।
রেজিনান্ডের পেছন পেছন এগোলেন সেড্রিক। যেতে যেতে দুর্গরক্ষার কিছু কিছু গোপন ব্যবস্থা, সৈন্যদের ঢোকা, বেরোনোর গোপন পথ ইত্যাদি দেখতে পেলেন তিনি। মনে মনে হাসলেন।
বাইরে যে লোকগুলো আপনাকে ধরেছিলো ওরা আমার এই দুর্গ আক্রমণ করতে চায়, হাঁটতে হাঁটতে বলে চললো ত দ্য ববায়েফ। ওরা আবার যেন আপনাকে ধরতে না পারে সেজন্যে পেছন দরজা দিয়ে বের করে দিচ্ছি। বিনিময়ে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে। পারবেন?
কি কাজ?
আপনি নরম্যান জানেন?
এক অক্ষরও না।
তাহলে এই চিঠিটা নিন, পোশাকের ভেতর থেকে একটা চিঠি বের করে সেড্রিকের হাতে দিলো রেজিনা। এটা যত তাড়াতাড়ি পারেন ফিলিপ দ্য ম্যালভয়সিঁর দুর্গে পৌঁছে দেবেন। আমার পক্ষ থেকে ওকে বলবেন চিঠিটা হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন ইয়র্কে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, বুঝতে পেরেছেন আমার কথা?
হ্যাঁ, স্যার নাইট।
যদি কাজটা সময় মতো করে আবার এখানে ফিরে আসেন, দেখবেন শেয়াল কুকুরের মতো মরে পড়ে আছে স্যাক্সন শুয়োরগুলো।
জি।
ইতোমধ্যে ওঁরা পৌঁছে গেছেন দুর্গের পেছনে ছোট্ট একটা দরজার সামনে। দরজাটা খুললো ত দ্য বোয়েফ। তিনটে স্বর্ণমুদ্রা ধরিয়ে দিলো সেড্রিকের হাতে। বললো, চিঠিটা যদি নিরাপদে পৌঁছে দিতে পারেন, আরো পাবেন।
হ্যাঁ-না কিছু বললেন না সেড্রিক। একটু ঝুঁকে বেরিয়ে গেলেন দরজা গলে। দুর্গ থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে আসার পর মুদ্রা তিনটে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন তিনি। দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, শয়তান নরম্যান, তোর সঙ্গে সঙ্গে চুলোয় যাক তোর পয়সাও।
.
হলঘরে ফিরে এলো ফ্ৰঁত দ্য বোয়েফ। এক ভৃত্যকে ডেকে আদেশ করলো, সেড্রিক আর অ্যাথেলস্টেনকে নিয়ে এসো এখানে।
কিছুক্ষণের ভেতর হলঘরে পৌঁছে গেল দুই বন্দী।
তারপর, মহামহিম স্যাক্সন জমিদার ও রাজপুত্র, কৌতুকের সুরে বললো রেজিনান্ড, কেমন লাগছে আমার টরকুইলস্টোন দুর্গে থাকতে?
ওহ দারুণ! চটপট জবাব দিলো সেড্রিকবেশী ওয়া। নিজের বাড়িতেও কখনো এত আরামে থাকিনি।
আচ্ছা! দাঁড়াও এবার তাহলে আসল আরামের ব্যবস্থা করছি। গম্ভীর হয়ে উঠলো রেজিন্যান্ডের কণ্ঠস্বর। তোমাদের যদি মুক্তি দেই কত টাকা আমাকে দেবে? ভালো করে ভেবে তারপর বলো। যদি না দাও তা হলে কি করবো জানো তো? ঐ যে, ঐ জানালার সঙ্গে পা উপরে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলাবো। ও ভাবেই থাকবে যতক্ষণ না কাকে ঠুকরে তোমাদের হাড় পরিষ্কার করে ফেলে। সেড্রিক, তুমি আগে বলো, কত দেবে?
এক পেনিও না, জবাব দিলো ওয়া। জন্ম থেকেই আমার মগজ উল্টো হয়ে আছে। এখন তুমি যদি উল্টো করে ঝুলাও তাহলে বোধ হয় এতদিন পরে ওগুলো একটু সোজা হওয়ার সুযোগ পাবে।
এত বড় স্পর্ধা! চিৎকার করে উঠে ভয়ানক বেগে এক চড় কষালো ফ্ৰঁত দ্য ববায়েফ ওয়াম্বার মাথায়। সময়মতো মাথাটা নিচু করে নিলো ওয়া। ফলে চড়টা লাগলো না, কিন্তু সেড্রিকের টুপিটা উড়ে চলে গেল তার মাথা থেকে। এবার আরো রেগে গেল রেজিনাল্ড। লাফ দিয়ে উঠে হ্যাচকা টানে ছিঁড়ে ফেললো ওয়ার কোট। অমনি বেরিয়ে পড়লো তার গলার দাসত্বের প্রতীক পেতলের আংটাটা।
এই কুত্তার দল, কাকে নিয়ে এসেছিস তোরা? ভৃত্যদের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠলো ফ্ৰঁত দ্য বোয়েফ।
ঠিক সেই সময় ঘরে ঢুকেছে দ্য ব্রেসি।
আমি বোধহয় বলতে পারি কে ও, জবাব দিলো সে। এ হচ্ছে সেড্রিকের ভড়।
আসল সেড্রিককে নিয়ে আয়, হতভাগার দল, ভৃত্যদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করলো রেজিনান্ড।
যাও যাও, ওয়াম্বা বললো, সেড্রিককে তো পাবে না, আরো কয়েকজন ভড়কে পাবে, ধরে নিয়ে এসো তাদের।
বলতে চাইছে কি বদমাশটা? দ্য ব্রেসিকে জিজ্ঞেস করলো ত দ্য ববায়েফ।
আমি বুঝতে পেরেছি। পাদ্রীর পোশাক পরে একটু আগে যে লোকটা বেরিয়ে গেল সে-ই সেড্রিক।
হায় হায়, আমিই তো তাকে গুপ্ত পথে প্রাসাদের বাইরে রেখে এলাম! হতাশার সুর ফ্ৰঁত দ্য বোয়েফের গলায়। পর মুহূর্তে গর্জে উঠলো সে, ঠিক আছে, এর ফল তুই পাবি, ব্যাটা ভাঁড়! তোকে আমি মিনারের ওপর থেকে ছুঁড়ে ফেলবো। তখন কেমন ভাঁড়ামি করতে পারিস দেখবো!
অ্যাথেস্টেনের দিকে ফিরলো সে, এবার তুমি বলো, কত টাকা দেবে যদি তোমাকে ছেড়ে দেই?
এক মুহূর্ত ভাবলো অ্যাথেলস্টেন। তারপর বললো, আমাকে এবং আমার সব সঙ্গীদেরকে যদি ছেড়ে দাও, এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা তোমাকে দেবো।
বেশ তাতেই আমি রাজি, তবে একটা শর্ত আছে, বাইরের ঐ গুণ্ডাগুলোকে তুমি সরাবে এখান থেকে, যেভাবে পারো।
চেষ্টা করবো, কথা দিচ্ছি।
বেশ, আমি তোমাকে ছেড়ে দেবো। তবে ইহুদী আইজাক কিন্তু তোমার সঙ্গীদের ভেতর পড়বে না।
ওর মেয়ে রেবেকাও না, বলে উঠলো বোয়া-গিলবার্ট।
লেডি রোয়েনাও না, বললো দ্য ব্রেসি।
এই বোকা ভাঁড়টাও না, যোগ করলো রেজিনাল্ড নিজে। ওকে আমি নিজের হাতে ধাক্কা মেরে ফেলবো মিনারের ওপর থেকে।
তাহলে আর বাকি থাকলো কে? বললো অ্যাথেস্টেন। ইহুদী দুটোর কথা জানি না, লেডি রোয়েনা আমার ভবিষ্যৎ স্ত্রী। ওকে তো আমি কিছুতেই এখানে ফেলে রেখে যেতে পারি না। আর এই বোকা ভাঁড় ওর মনিব মানে, আমার অত্যন্ত সুহৃদ একজনকে বাঁচিয়েছে। ওকেও যদি না ছেড়ে দাও, এক পেনিও তোমরা পাবে না আমার কাছ থেকে।
তোমার মতো একজন স্যামন দাসের ভবিষ্যৎ স্ত্রী লেডি রোয়েনা! সবিস্ময়ে উচ্চারণ করলো দ্য ব্রেসি।
দেখ, হে নরম্যান, মুখে তুমি আমাকে দাস বলো আর যা-ই বলো, বংশমর্যাদায় আমি যে তোমার মতো কাপুরুষ গুণ্ডার চেয়ে অনেক উপরে তা আমার চেয়ে তুমিই ভালো জানো, গর্বিত কণ্ঠে বললো অ্যাথেস্টেন। আমার পূর্ব পুরুষরা এদেশের রাজা ছিলেন। চারণ কবিরা তাদের মহিমা কীর্তন করে বেড়াতো গ্রামে গঞ্জে। তাদের কবরের ওপর তৈরি হয়েছে গির্জা।
জবাবটা ভালোই দিয়েছে স্যাক্সনের বাচ্চা, কি বলো, দ্য ব্রেসি? হাসতে হাসতে বললো বোয়া-গিলবার্ট।
যা মনে আসে বলতে থাকো, বাবা স্যাক্সন, অ্যাথেলস্টেনকে বললো দ্য ব্রেসি! তোমার মহান বাক্যে মুক্তি পাবে না লেডি রোয়েনা।
এই সময় এক পার্শ্বচর এসে ত দ্য বোয়েফকে বললো, স্যার, এক পাদ্রী এসেছে ফটকে, ভেতরে ঢুকতে চাইছে।
সত্যি সত্যি পাদ্রী? ওর কাপড় চোপড় সব ভালো করে পরীক্ষা করে দেখ। যদি না হয়, ওর চোখগুলো উপড়ে ফেলবি।
সত্যিই পাদ্রী, স্যার। আমি চিনি ওকে। আপনিও চেনেন। জরভক্স মঠের প্রায়োর অ্যায়মারের সাথে অনেকবার এসেছেন আমাদের দুর্গে। নাম ব্রাদার অ্যামব্রোজ।
নিয়ে আয় ওকে, আদেশ করলো রেজিনাল্ড। আর এই স্যাক্সন দুটোকে নিয়ে যা এখান থেকে। যেখানে ইলো সেখানেই আটকে রাখ।
ওয়াম্বা যখন ঘর থেকে বেরোচ্ছে ব্রাদার অ্যামব্রোজ তখন ঢুকছে। তাকে দেখেই অনাবিল এক হাসি ফুটে উঠলো ওয়াম্বার মুখে।
এই তো একজন আসল প্যাক্স ভবিসকাম! মন্তব্য করলো সে।
রুদ্ধশ্বাসে ঘরে ঢুকলো ব্রাদার অ্যামব্রোজ। উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছে যেন।
ওহ, শেষ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে পেরেছি, বললো সে। আপনারা তো প্রায়োর অ্যামারের বন্ধু। উনি… দম নেয়ার জন্যে থামলো ব্রাদার অ্যামব্রোজ।
হ্যাঁ, কি হয়েছে প্রায়োর অ্যায়মারের? জলদি বলো নষ্ট করার মত সময় নেই আমাদের।
গুপ্তারা ওকে ধরে নিয়ে গেছে। ওঁর কাছে যত সোনা দানা ছিলো সব নিয়ে নিয়েছে। তার পরও ছাড়েনি, বলছে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা না দিলে ছাড়বে না। প্রায়োর আপনাদের সাহায্য চেয়েছেন।
আমরা সাহায্য করবো? কি ভাবে? বললো দ্রুত দ্য বোয়েফ। আমাদেরই কে সাহায্য করে তার ঠিক নেই, আর আমরা করবো সাহায্য আমরা যে কজন এখানে আছি তার বিশগুণ লোক আমাদের ঘিরে রেখেছে, যে কোনো মুহূর্তে আক্রমণ করে বসবে।
হ্যাঁ, এ সম্পর্কেও আমি বলতে যাচ্ছিলাম, ব্রাদার অ্যামব্রোজ বললো। শয়ে শয়ে রাজদ্রোহী গুণ্ডা জড় হয়েছে বনের প্রান্তে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুর্গ আক্রমণ করবে…
এক্ষুনি চলো, বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বললো ত দ্য বোয়েফ, দেয়ালের ওপর উঠে দেখি কি করছে ওরা!
তাড়াতাড়ি হলঘর থেকে বেরিয়ে দেয়ালের ওপর গিয়ে উঠলো সবাই। ব্রাদার অ্যামব্রোজ সত্যি কথাই বলেছে। শয়ে শয়ে গুণ্ডা, এখন আর বনের প্রান্তে নেই, দুর্গের সামনে এসে গেছে। আক্রমণ করার জন্যে তৈরি।
দ্য ব্রেসি, বোয়া-গিলবার্ট, আর তো দেরি করা যায় না…, শুরু করলো রেজিনান্ড।
স্যার নাইট! স্যার নাইট! তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলো ব্রাদার অ্যামব্রোজ। প্রায়োর অ্যায়মারের অনুরোধ…
এই, কে আছিস, এই মূখটাকে তালাচাবি দিয়ে রাখ তো! চিৎকার করে বললো রেজিনাল্ড, লড়াই শেষ হওয়ার আগে ছাড়বি না। হ্যাঁ, যা বলছিলাম, দ্য ব্রেসি তোমার যে দুচারজন লোক আছে তাদের নিয়ে তুমি পুব দিকের দেয়াল সামলাবে; বোয়া-গিলবার্ট, তুমি পশ্চিমের দেয়াল, আর আমি নিজে থাকবো সামনের ফটকে। এই, কে আছিস ছুঁড়ে মারার জন্যে তেল গরম করা হয়েছে?
দেয়ালের ওপর দিয়ে একটু ঝুঁকে তাকালো বোয়া-গিলবার্ট। তারপর দ্য ব্রেসির দিকে ফিরে বললো, বেশ শৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে ব্যাটাদের ভেতর। নিশ্চয়ই যোগ্য কেউ নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভেবে পাচ্ছি না কে-হতে পারে।
আমি দেখতে পাচ্ছি লোকটাকে, বললো দ্য ব্রেসি। ঐ যে দেখ, ঐ দিকে। ব্ল্যাক নাইট। অ্যাশবিতে আমাদের বিপক্ষে লড়েছিলো।
কই? আমি তো দেখছি না!
ঐ যে। সবচেয়ে বড় দলটার সামনে।
হ্যাঁ, এবার দেখেছি। দাঁড়াও, বাবা ব্ল্যাক নাইট, সেদিনের পরাজয়ের শোধ আজ নেবো।
নিজের নিজের লোকদের নিয়ে যার যার জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো নাইটরা। প্রস্তুত আক্রমণ ঠেকানোর জন্যে।
<