পাঁচদিন পর বেশ রাতে নডির বাসায় হাজির হয়ে ওকে ঘুম থেকে ডেকে তুলল জুলিয়াস। মারিয়াও উঠেছে-আগুনটাকে একটু উস্কে কফির জন্যে পানি চাপিয়ে দিল সে।

জারভিস কোথায়? প্রশ্ন করল নডি। ওকে কি বেঁধে রেখে এসেছ?

না, ওর পিস্তল, ঘোড়া আর বুট লুকিয়ে রেখেছি। সাপকে ওর ভীষণ ভয়-জুতো ছাড়া ঘরের বাইরে পা বাড়াতেই সাহস পাবে না ও। ওর সামনেই বাড়ির আশেপাশে পাঁচ-পাচটা র্যাটল স্নেক মেরেছি আমি।

জবাব শুনে হেসে ফেলল নডি। আর যদি আগুন জ্বালায়?

সে ব্যবস্থাও রাখিনি-ম্যাচ নিয়ে এসেছি। ওর কাছে টিনের খাবার খোলার জন্যে একটা ছুরি ছাড়া আর কিছুই নেই। কিন্তু এদিককার কি খবর?

জারভিসের খোঁজে পুরো একটা দিন কাটানোর পর ওকে গিরিপথ দিয়ে পালাতে দেখা গেছে শুনে খোজাখুঁজি বন্ধ করেছে শেরিফ। ওর ধারণা জারভিস ভেগে গেছে।

মেডক কি বলে?

কেমন করে যেন ব্যাটা ঠিকই ব্যাপারটা আঁচ করেছে-শেরিফকেও সে অনেক বোঝাবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পাত্তা পায়নি। ডনকে চেনো না?

হ্যাঁ, জনির খামারে কাজ করে।

ওকে রকিং এইচে কাজের খোঁজে পাঠানো হয়েছিল। কাজে যোগ দিয়ে পার্কের উত্তরে একটা গুপ্ত আস্তানায় তোমাদের দেখা গেছে বলে একটা গুজব ছড়িয়েছে সে ওদের মধ্যে। মেডকের লোকজনকে বিপথে চালানোর জন্যে লোক লাগিয়ে ওখানে কিছু পায়ের ছাপের ব্যবস্থাও করেছে সে। কয়েকদিন ওদিকেই বৃথা খোজাখুঁজিতে ব্যস্ত থাকবে মেডক।

নডির থেকে মারিয়ার দিকে মুখ ফেরাল জুলিয়াস। এমন সত্যিকার বন্ধু কয়জনের থাকে? তোমাদের এই উপকারের কথা কোনদিন ভুলব না আমি।

সে কথা থাক-এখন কি করবে তাই বলো। দাবি জানাল নডি।

একটা মতলব এসেছে আমার মাথায়, সকালেই পেপি আর এডের সাথে দেখা করতে যাব।

এক সপ্তাহ তো এখনও শেষ হয়নি-লোলা কি বলেছিল মনে নেই?

মনে আছে, হেসে ফেলল জুলিয়াস। কিন্তু ওদের সাথে দেখা করাটা খুব জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কবে দেখা করবে ভাবছ?

কাল সকালেই রওনা হব-শহরে কবে যাচ্ছ তুমি?

আগামীকালই যাব।

শহরে খবর ছড়িয়ে দিয়ে যে আমিই চাককে মেরে জারভিকে জোর করে ধরে নিয়ে গেছি, কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা দু’জনে শহরে হাজির হব। কিন্তু সাবধান, কথাটা যে তুমি ছড়িয়েছ এটা যেন কেউ টের না পায়।

চিন্তা নেই, রকিকে কাজটা বুঝিয়ে দিলেই হবে। চুল ছাটার দোকান থেকে আগুনের মতই খবরটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

রাতটা নডির ওখানে কাটিয়ে ভোর বেলাতেই রওনা হয়ে গেল জুলিয়াস। সন্ধ্যার দিকে বাবার শিকারের আস্তানায় পৌঁছুল সে।

পেপি আর এড এখনও এখানেই আছে বোঝা যাচ্ছে। কেবিনের কাছেই ওদের ঘোড়া দুটো বাধা রয়েছে লক্ষ করল জুলিয়াস। হঠাৎ চোখে পড়ল তার বোন হাসতে হাসতে ছুটে পালাচ্ছে, পিছনে খেলার ছলে ওকে তাড়া করেছে এড। পেপি ধরা পড়তেই হেসে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল দু’জনেই। ওরা যে সুখী তা ওদের দেখলেই বোঝা যায়। থমকে দাঁড়াল জুলিয়াস-ইতস্তত করছে, ওদের আনন্দে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে চায় না সে।

কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। এড দেখে ফেলেছে ওকে। পেপিকে জড়িয়ে থেকেই সে বলে উঠল, দেখো কে এসেছে! এখনও হাসছে সে।

তৃপ্ত আবেশে এডের বুকে মাথা গুঁজে রেখে চোখ বুজেই সে জবাব দিল, ওকে বলে দাও আমরা কেউ বাড়ি নেই।

এড চিৎকার করে বলল, যাও, বিরক্ত কোরো না, দেখছ না আমরা বাড়ি নেই?

হাসতে হাসতেই উঠে দাঁড়িয়ে পেপিকেও টেনে তুলল এড।

পেপির চোখে মুখে খুশি উপচে পড়ছে। গাল দুটোয় গোলাপী রঙ ধরেছে। আনন্দে হাসছে ওর সারা অঙ্গ।

অসময়ে এসে পড়ে তোমাদের রস-ভঙ্গ করলাম, বিব্রত ভাবে বলল জুলিয়াস।

না, তুমি আসবে বলেই আশা করছিলাম, জবাব দিল এড। সেইজন্যেই তো আমরা কোথায় থাকব জানিয়ে এসেছিলাম।

একটু দুশ্চিন্তার ছায়া দেখা দিল পেপির মুখে, বাবা কেমন আছেন? উদ্বিগ্ন কণ্ঠে প্রশ্ন করল সে।

আগের মতই-কোন পরিবর্তন নেই।

আর জারভিস?

লোলাদের ব্যাঙ্কে একা রেখে এসেছি ওকে। ভয় নেই, ও যেন কোথাও না যায় সে ব্যবস্থা করে এসেছি। বিয়ের রাতে ওকে আনার সময়ে চাক মারা পড়েছে।

ক্ষতি নেই, দুশমন আর একজন কমল, নির্বিকার গলায় মন্তব্য করল এড।

জুলিয়াসকে কিছুতেই ছাড়ল না ওরা। বাধ্য হয়েই থাকতে হলো ওকে। অনেক রাত অবধি ওরা দু’জন কত আনন্দ উপভোগ করছে সেই বৃত্তান্তই শুনতে হলো ওকে। মাঝে মধ্যে যে ওর, একটু আধটু হিংসে হয়নি এমন নয়-মনে হয়েছে যেন ওরা দু’জনেই পৃথিবীর সব আনন্দ লুটে শেষ করে ফেলেছে, জুলিয়াসের জন্যে আর কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না। তবু খুশিতে মনটা ভরে থাকল-কাজের কথাটা সে কিছুতেই পাড়তে পারল না।

শেষ পর্যন্ত এই সুযোগ করে দিল, বলল, বুঝতে পারছি একটা প্ল্যান তোমার মাথায় ঘুরছে-শুনি কি প্ল্যান করেছ?

ঠিকই ধরেছ তুমি, কিন্তু এতে পেপির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

মুখ তুলে জুলিয়াসের দিকে চাইল পেপি। তোমরা যা ভাল মনে করো সেইমতই চলব আমি।

কবে ফিরছ তোমরা?

ফিরতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু কথামত আগামীকালই বিকেলে ফিরতে হবে।

তোমাদের ওই দুশমনদের খপ্পরে ফিরে যেতে দিতে মন সরছে না আমার, কিন্তু অন্য কিছু করতে গেলেই মেডকের লোকজনের সাথে সামনাসামনি মোকাবিলা করতে হবে-অনেক লোক হতাহত হবে। বাড়ি ফিরে তোমরা সবদিক সামলাতে পারবে বলে মনে করো?

জবাব দেয়ার আগে একটু চিন্তা করে নিল এড। মেডক আমাকে সন্দেহ করতে আরম্ভ করেছে বলেই মনে হয়। কিন্তু আমাকে ছাড়া ওর চলবে না। মনে হয় বাড়ি ফেরার ঝুঁকি নেয়া যায়।

বাড়ি ফিরে একটা দিন অপেক্ষা করবে তোমরা। শুনতে পাবে আমি চাককে মেরে জারভিসকে জোর করে ধরে নিয়ে গেছি। শুনে পেপির এমন ভাব দেখাতে হবে যেন আমাকে সামনে পেলে খেয়েই ফেলবে।

মাথা ঝাঁকাল পেপি। তারপর?

আরও শুনবে মঙ্গলবার দুপুর বারোটায় শেরিফের কাছে আমি আত্মসমর্পণ করব। এই খবর শুনে মেডক কি করবে বলে মনে হয়, এড?

আরও কিছুটা কফি কাপে ঢেলে নিয়ে এড বলল, স্বভাবতই মেডকও তার লোকজন নিয়ে উপস্থিত থাকবে সেখানে। কিন্তু এতসব করে কি লাভ হবে? হাতের মুঠোয় পেলে শেরিফ সোজা জেলে ভরবে তোমাকে।

না, তা সে চাইলেও পারবে না। কিন্তু সে-কথা থাক, পেপিকে সেদিন ওখানে উপস্থিত দেখতে চাই আমি। বাবা অসুস্থ, জারভিস নিরুদ্দেশ এই অবস্থায় পেপিই রকিং এইচের মালিক। সবার সামনে মেডক আর তার লোকজনকে বরখাস্ত করবে পেপি। পেপির নির্দেশই গ্রাহ্য হবে-এতগুলো সাক্ষীর সামনে মেডকের আর করার কিছুই থাকবে না।

মেডক যদি না মানে, জোর খাটায়?

মাথা নাড়ল জুলিয়াস, এতটা সাহস সে পাবে না। তাহলে আইনের বিরুদ্ধে যেতে হবে তাকে।

ব্যাপারটা এতে মিটবে বলে মনে হয় না, মন্তব্য করল এড। চেষ্টা করতে দোষ নেই, তবে আমি জানি এত সহজে হাল ছাড়বে না মেডক। রাতটা পেপিদের সাথে কাটিয়ে ভোর বেলাতেই বিদায় নিল জুলিয়াস। ওদেরও আজই রকিং এইচে ফিরে যাবার কথা। হানিমুনের সময়টাকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করে বিকেলের দিকে ফিরবে ওরা। নডির র‍্যাঞ্চে যাবার পথে সমস্যাটা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবল জুলিয়াস। প্ল্যানটা ভালই, কিন্তু কিছুই বলা যায় না, হাজারো কারণে বানচাল হয়ে যেতে পারে ওর প্ল্যান। কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছে না সে। সন্ধ্যা নাগাদ নডির ওখানে পৌঁছে গেল ও।

মঙ্গলবার দুপুরে শেরিফের অফিসের সামনে একটা নাটকের ব্যবস্থা করে এসেছি। জুলিয়াস তার প্ল্যানের কথা নডিকে খুলে বলল। সাহায্যের দরকার হতে পারে আমার, তুমি ওইদিন বন্ধুবান্ধবকে ওখানে উপস্থিত থাকতে বলে রেখো। তাছাড়া মেডককে তার লোকজন সহ বিদায় করার পর রকিং এইচে কাজ করার জন্যেও ডজনখানেক লোক দরকার হবে। এসবের ব্যবস্থা আমাদের আগে থেকেই করে রাখতে হবে।

চিন্তা কোরো না, সব ব্যবস্থা আমি করব। তুমি কি এর মধ্যে আর শহরে যাচ্ছ?

আগামীকাল জারভিস নিরাপদ আছে কিনা দেখে রাতের বেলা শহরে পৌঁছব আমি। একটা থাকার জায়গা খুঁজে নিতে হবে আমাকে।

লোলাদের ওখানেই তো থাকতে পারো তুমি? মুচকি হেসে প্রস্তাব দিল নডি। দরকার হলে ওখানে থাকার কথা লোলাই বলছিল।

<

Super User