এক সপ্তাহ পর রনি শহরে ঢুকল ওর সাথে রয়েছে হ্যারি আর শর্টি। স্টার সিটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে ওরা কিছুই পায়নি। ডকি আর বেইলিকে বেশ কিছুদিন কেউ দেখেনি।
অ্যাডামকে কখনও একা দেখা যায় না। রেড সবসময়েই ওর পাশে রয়েছে। ওর হলুদ-কালো চোখ দুটো সর্বক্ষণ ঘুরছে। জানালা, দরজা আর গলির ওপর চোখ রাখছে সে। অ্যাডাম অনেক শুকিয়েছে। ওর ফোলা গালগুলো এখন চুপসে গালের উপরকার হাড় বেরিয়ে এসেছে। ভিড়ের ভিতর ওকে আর সেলুনে দেখা যায় না।
ফিনলে হার্ট শহরে ফিরে এসেছিল। কিছু সাঃ ই নিয়ে মলির আপত্তি সত্ত্বেও আবার বেরিয়ে পড়েছে। লোকটা স্বীকার করেছে এখন পর্যন্ত সে কিছু খুঁজে পায়নি কিন্তু এখন সে সসবে কাজ করছে। পুরো এলাকাটাকে ভাগ করে নিয়ে, প্রত্যেvটা অংশ ভাল করে খুঁজে দেখছে।
রনির সাথে ফিনলের লিভারি আস্তাবলে দেখা হয়েছিল। সেও মাত্র ঢুকেছে আর ফিনলে তখন বেরোচ্ছে। কোন ট্র্যাক দেখতে পেলে, হার্ট?
কাঁধ উঁচাল সে। সম্প্রতি পাইনি। তবে সে বেঁচে আছে। আমার অনুভূতি তাই বলছে।
হ্যাঁ। খড়ের একটা গাটের ওপর বসে সিগারেট ধরাল রনি। ওকে খুঁজে বের করতে হলে তোমাকে মাথা খাটাতে হবে। চাক্ষুষ ট্রেইল নয়-বুদ্ধি খাটিয়ে ওর পিছু নিতে হবে।
ওতে আমি কখনও ভাল ছিলাম না, হার্ট বলল। ট্রেইলের চিহ্ন আমি আর দশজনের মতই পড়তে পারি–কিন্তু ওই পর্যন্তই। চিন্তিত মুখে রনির দিকে তাকাল সে। ও এখন কি করবে বলে তোমার ধারণা?
বলা কঠিন, স্বীকার করল রনি। কিন্তু যদি ধরে নিই ডাক আর ডাকি ওর সাথেই আছে, তাহলে ওরা তিনজন। ওদের খাবার, পানি, গোলা-বারুদ, আর নিরাপদে লুকানোর মত একটা জায়গা দরকার।
ওরা সেভেন পাইনএ নেই এটা নিশ্চিত। এর উত্তরে পুরোটাই রকিঙ কে রেঞ্জ। ওখানে লুকোবার কোন জায়গা নেই। কর্ন প্যাঁচ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ইউনিয়নভিলে ওর অনেক শত্রু আছে, তাই ওখানে সে যাবে না। পোকার গ্যাপ দিনের বেলায় একেবারে খোলামেলা। তাহলে বাকি কি রইল?
বেশি না, ভুরু কুঁচকে স্বীকার করল হার্ট। একটা শব্দে সে ঘুরে দেখল হ্যারি আর শর্টি ধুলোর ওপর ম্যাপ এঁকে মনোযোগ দিয়ে দেখছে।
ফিনলে? প্রশ্ন করল শর্টি, স্টার সিটিতে হাই কার্ড মাইনের ওদিকে তুমি গেছিলে? আগে থেকে না জানলে ওটা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
ওটা কোথায়?
শর্টি ম্যাপের ওপর আঙুল দিয়ে দেখাল। ক্যানিয়নের গভীরে–এখানে।
না, স্বীকার করল ফিনলে। ওট মিস করেছি। পানি আছে ওখানে?
হ্যাঁ। বেশি ভাল না, তবু পানি,
গম্ভীর ভাবে মাথা ঝাঁকাল হার্ট। আমি তাহলে ওদিকেই রওনা হচ্ছি। রনির দিকে ফিরে সে প্রশ্ন করল, তুমি আসতে চাও?
মাথা নাড়ল ড্যাশার। আমাকে র্যাঞ্চে বেনের সাথে দেখা করতে হবে।
ফিনলে রওনা হয়ে গেল। গলা ভেজাতে সেলুনে ঢুকল ওরা। টেবিলে ড্রিঙ্ক নিয়ে বসে চারদিকে চোখ রেখেছে। অফিসের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে অ্যাডাম। রেড ওর দিকে এগিয়ে কি যেন রিপোর্ট করল। দু’জনেই কিছুক্ষণ উত্তেজিত কথাবার্তার পর বাইরে জানালার নিচে দাঁড়িয়ে মাটি পরীক্ষা করে দেখে ভিতরে এসে অফিসে ঢুকল।
নিজের ড্রিঙ্কটা চট করে শেষ করে উঠে দাঁড়াল ড্যাশার। ওরা কেন এত উত্তেজিত, এটা ওর জানা দরকার। বেরিয়ে জানালার তলায় এসে পঁড়াল সে। ট্রাকগুলো পরিষ্কার। জানালার নিচে দাড়িয়ে ছোট বুট পরা কেউ যে জানালা জোর করে খোলার চেষ্টা করেছিল। জানালার কাঠ আর ধারের দাগ দেখেই তা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু খুলতে পারেনি।
জেরি সমার্স শহরে এসেছিল!
সেলুন রাত দুটো পর্যন্ত খোলা থাকে। সুতরাং চেষ্টাটা তোর-রাতে হয়েছে। তাহলে কোথায় গেছে সে? আর সেলুনেই বা কেন ঢুকতে চেয়েছিল?
আস্তাবলে নিজের ঘোড়ার জিনের ওপর হাত রেখে রনি ভাবছে। একটা চিন্তা ওর মাথায় এল। জেগারের স্টোরের দিকে চেয়ে তার মনে হলো জেগার হয়তো কিছু শুনে থাকতে পারে। লোকটা স্টোরেই ঘুমায়, আর হাইগ্রেড সেলুন থেকে স্টোরের দূরত্ব মাত্র কয়েক ফুট। আস্তাবল ছেড়ে স্টোরের দিকে এগোল সে।
ওকে ঢুকতে দেখে জেগার এগিয়ে এল। কিছু চাই তোমার?
হ্যাঁ। কিছু .৪৪ গুলি। দুই বাক্স দাও। লোকটা গুলি বের করতে কাউন্টারের পিছনে গল। ঘুরেফিরে দেখছে ড্যাশার। পুরোপুরি একটা ওয়েস্টার্ন স্টোর। মাঝের কাউন্টারে পুরুষ আর মহিলাদের নানা ধরনের পোশাক। দেয়াল ঘেঁষে তিনটে দেয়াল জুড়ে ছাদ পর্যন্ত তাক। রেঞ্জে যত রকম জিনিস মানুষের দরকার হতে পারে সবই আছে ওখানে সাথে রকমারি খাবারও।
গুলির বাক্স দুটো রনির সামনে কাউন্টারের ওপর রাখল জেগার। ওর দিকে তাকাল ড্যাশার। ওই ঠাণ্ডা চোখ দুটো দিয়ে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছে দোকানি। তুমি তো এখানেই ঘুমাও, তাই না? আলাপের ছলে প্রশ্ন করল রনি।
আড়ষ্ট হলো জেগার। হ্যাঁ। আর কিছু চাই তোমার? না চাইলে আমি যাই, আমার কাজ আছে।
কাজ একটু পরে করলেও চলবে। রনির চোখ দুটো একটু কঠিন হলো। গত রাতে বিছানায় যাওয়ার পর কিছু শুনতে পেয়েছিলে? এই ধরো, দুটোর পরে?
কি শুনব? পাল্টা প্রশ্ন করল সে। একটু অস্থির। রাত দুটোয় হাই গ্রেড সেলুন বন্ধ হয়। এরপর শহরটা কবরের মত হয়ে যায় তিরিশ মিনিটের মধ্যেই।
স্টোরের ভিতর আবার চোখ বুলিয়ে এক বাক্স বাটালির ওপর ওর চোখ পড়ল। এগিয়ে একটা হাতে তুলে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখল। এই রকমই কিছু জানালা খোলার চেষ্টায় ব্যবহার করা হয়েছিল। চওড়াতেও জানালার দাগের সাথে মেলে। হঠাৎ চোখ তুলে চেয়ে জেগারের চোখে ভয়ের চিহ্ন দেখতে পেল। এই রকম বাটালি কি ইদানীং বিক্রি করেছ। তুমি?
না…করেছি বলে মনে পড়ছে না। জেগারের কথা বেধে যাচ্ছে।
গত রাতে একটা বেচেছ? কিংবা তোমার থেকে জোর করে কেউ নিয়েছে?
না! প্রায় চেঁচিয়ে উঠল দোকানি। গত রাতে আমার দোকান বন্ধ ছিল। বেশ আগেই বন্ধ করেছিলাম আমি! যদি করতাম, তাহলে কি তোমাকে বলতাম না?
হয়তো বলতে, কিংবা নাও বলতে পারতে। যদি করে থাকো তাহলে বলে ফেলাই ভাল।
কিছুক্ষণ নীরব থাকল জেগার। ওর চোখ দুটো সরু হলো, চোয়াল শক্ত হয়েছে। বিরক্ত স্বরে সে বলল, যদি করেও থাকি, সেটা আমার ব্যাপার-তোমার কি? আর কিছু কেনার না থাকলে এবার তুমি যাও আমার কাজ আছে।
জেগার–বুক কেঁপে ওঠার মত ঠাণ্ডা রনির স্বর–আমি তোমার শত্রু নই। সম্পর্কটা ওই রকম রাখাই তোমার জন্যে ভাল হবে। এখন থেকে রকি কে আর মাইনগুলোই হবে তোমার সব থেকে বড় খদ্দের-যেমন আগে ছিল। হিউবার্টরা এখন আর বড়-মুখে কথা বলবে না। জেরি সমার্সের দিনও ফুরিয়েছে। মননস্থির করে নাও তুমি কোন দলে থাকতে চাও।
এবং গুলি খেয়ে মরি? খেকিয়ে উঠল জেগার।
হয়তো। কিন্তু সৎ মানুষকে মাঝেমাঝে এমন ঝুঁকি নিতে হয়। তোমার কাছে গত রাতে যদি কেউ এসে থাকে, তুমি না বললেও সেটা আমি জানতে পারব। আর, যদি সৎ মানুষদের দলে যোগ না দাও, তবে দোকান বন্ধ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবো।
ইতস্তত করছে জেগার। চোখ দুটো কুৎসিত হয়ে উঠেছে। ঠিক আছে, তেতো স্বরে বলল সে। গতরাতে জেরি এখানে এসেছিল। আমাকে জাগিয়ে একটা নতুন রাইফেল আর গুলি কিনেছে সে। তারপর একটা বাটালি তুলে নিয়ে আমাকে বলল, নিজের ভাল বুঝলে আমি যেন মুখ বন্ধ করে রাখি। বাটালি দিয়ে কিছুক্ষণ সেলুনের জানালা খোলার চেষ্টা করল, কিন্তু পেরেক দিয়ে আটকানো থাকায় ওটা খুলল না। রাস্তা দিয়ে কিছু আরোহী এসে পড়ায় ওকে বাধ্য হয়ে সরে পড়তে হলো।
ওকি একাই ছিল? না, ওর সাথে আরও দু’জন ছিল। ওদের একজন ডাকি। আর কি নিয়েছে সে?
খাবার জিনিসপত্র–অনেক খাবার! রনির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল দোকানি। তোমার আর কিছু জানার আছে?
এখান থেকে বেরিয়ে সে কোথায় গেছে?
তা আমি কিভাবে জানব? রাগের সাথে বলল জেগার। ও কোথায় গেছে তা জানি না, জানতে চাইও না। আমাকে নির্বিঘ্নে থাকতে দিলে ও যা করে করুক, আমি কেয়ার করি না।
স্টোর থেকে বেরিয়ে বর্তমান সমস্যা নিয়ে ভাবতে ভাবতে মলির রেস্টুরেন্টের দিকে এগোল রনি। জেরি যে অ্যাকশনের জন্যে তৈরি হচ্ছে, এটা ওর কেনাকাটার বহর দেখেই বোঝা যায়। লোকটা দেশ ছেড়ে পালাবার পাত্র নয়। পরাজয় যন্ত্রণাদায়ক, এবং দেশ ছেড়ে যেতে ছোট হলেও একটা জিত ওর চাই। অবশ্য সে আদৌ যাবে কিনা সন্দেহ।
লোকটার সেলুনে ঢোকার চেষ্টা দেখে বোঝা যায় অ্যাডামের সাথে তার সম্পর্ক ভাল নয়। তাছাড়া অ্যাডাম ওকে খুন করবার চেষ্টা করেছিল। অ্যাডামের দুশ্চিন্তায় শুকিয়ে যাওয়ার কারণটাও এখন পরিষ্কার। যাহোক, জেরির এখন যা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে একটা নতুন হাইডআউট।
মলির রেস্টুরেন্টের দরজা ঠেলে ঢুকেই দেখল, ভিতরে সিলভার হিউবার্ট বসে আছে। কিন্তু ওর হাবভাবে সে ঝামেলা চায় মনে হলো না।
কঠিন চেহারার লোকটা ওকে ঢুকতে দেখে নড় করল। হাওডি, ড্যাশার! এসো, বসো।
ধীর পায়ে এগিয়ে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসল রনি। কি ব্যাপার, সিলভার?
বিশাল লোকটা একটু ইতস্তত করল, তারপর মুখ তুলে চাইল। ওর চেহারা নতি স্বীকার করার লজ্জায় একটু লাল হয়ে উঠেছে। তোমার জন্যেই আমি এখানে অপেক্ষা করছিলাম। আসলে এসব বড়াই করার পর কথাটা নিজের মুখে উচ্চারণ করতে বাধে ড্যাশার। শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলল সে, আমি শান্তি চাই। বিবাদ আমি আর চাচ্ছি না।
অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কথা, সায় দিল রনি। ঝামেলা আমিও চাই না।
হিউবার্ট আশ্বস্ত হলো। কেসিরও কি একই মত?
নিশ্চয়! সে তো প্রথম থেকে শান্তিই চেয়েছিল।
তা ঠিক। ভুলটা আমাদেরই। জনিই আমাদের উস্কে এর মধ্যে ঢুকিয়েছিল। অবশ্য আমি ওকে দোষ দিচ্ছি না। আমি নিজেও কোন অংশে ভাল ছিলাম না। আমরা ভেবেছিলাম বুড়ো কেসি মরে যাওয়ার পর বেন হাল ছেড়ে দেবে। ওর ভিতরে যে লড়ার সাহস আছে, এটা আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা ঝামেলা চেয়েছিলাম–পেয়েছি। যা চেয়েছিলাম তারচেয়ে বেশিই পেয়েছি।
আর তোমার আউটফিট? বিশেষ করে ট্রয়। ওই লোকটা খুব খারাপ, সিলভার।
হ্যাঁ। সিলভারের ঠোঁট দুটো এঁটে বসল। ওকে নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না, রনি। সে আর এতে জড়াতে আসবে না। একটু ইতস্তত করল সে, তারপর বলল, আমি এমন কিছু না। জেল খেটেছি, মানুষও মেরেছি। কিন্তু বলডি আর আমি যখন ঝগড়া করছিলাম, তার মধ্যে নাক গলিয়ে বলডিকে পিছন থেকে গুলি করা…এটা অসহ্য।
শেষে কি ঘটল?
আমি ওকে দুটো পথের একটা বেছে নেয়ার সুযোগ দিলাম। বললাম, হয় দেশ ছাড়ো, নইলে পিস্তল বের করো। খুব খেপেছিল সে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে ঘোড়ায় জিন চাপাল। তারপর হঠাৎ পিস্তল বের করল। হয়তো ভেবেছিল আমি পিছন ফিরেছি। আমি ওকে লক্ষ করছিলাম এবং–যাক, সে হেরে গেল।
ঠিক আছে, সংক্ষেপে বলল রনি। কেসির সাথে আমি এই বিষয়ে আলাপ করেছি। তোমাদের গরু রুর পুবে চরবে–এবং পশ্চিমে। কিন্তু তোমাকে মানতে হবে ওরা রকিঙ কে রেঞ্জে আছে। একটা জিনিসই আমরা অপছন্দ করি সেটা হচ্ছে, কেউ যদি আমাদের ঠেলে সরিয়ে জবর-দখল করতে চায়। এখানে আমাদের সবার জন্যেই যথেষ্ট পানি আর ঘাস রয়েছে। পরিষ্কার?
আশ্বস্ত হলো সিলভার। নিশ্চয়। এটা আমাদের জন্যে খুব ন্যায্য ব্যবস্থা হয়েছে। চেয়ার পিছনে ঠেলে উঠে পড়ল সে।
রনি তাকিয়ে ওর যাওয়া দেখল। একটা সমস্যার ভাল সমাধান হলো। কিন্তু জেরি সমার্সের সমস্যাটা রয়ে গেল, এবং ওটাই গুরুতর। লোকটা যে ভয়ানক, সেটা অ্যাডামের চেহারা দেখলেই বোঝা যায়।
কাপ হাতে উঠে রান্নাঘর থেকে ওটা আবার ভরে নিয়ে বিল হ্যারিংটনের পাশে এসে দাঁড়াল সে।
মাইনের মালিক মুখ তুলে চাইল। হাওডি, রনি। বসো।
হা। কফিতে একটা চুমুক দিয়ে কাপটা টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল সে। গতরাতে জেরি সমার্স শহরে এসেছিল।
বিস্ময়ে হ্যারিংটনের চোখ দুটো বড় হয়ে গেল। শহরে? এখানে?
হ্যাঁ, তাই। তুমি এখানকার এলাকা সব ভাল করে চেনো?
নিশ্চয়। পুরো ছেলেবেলা আমি এখানেই কাটিয়েছি। বড় হয়ে পুবে পড়তে গেছিলাম। কিছু ঘোরাঘুরির পর আবার এখানেই ফিরেছি। কিন্তু কেন বলো তো?
জেরি যতদিন আশপাশে আছে, এখানকার কেউই নিরাপদ নয়।
হার্ট ওকে খুঁজে বের করবে।
সময়ে, কিন্তু হাতে সময় খুব কম। অ্যাডাম এখন নিজের ছায়া দেখেও ভয়ে লাফিয়ে উঠতে শুরু করেছে। রেড এমনভাবে হাঁটে মনে হয় যেন ডিমের খোসার ওপর হাঁটছে। আমি জানতে চাই, একটা লোক এখানে কোথায় লুকোতে পারে? ওর কাছে খাবার আছে, গোলা বারুদও আছে, কিন্তু ওর পানির প্রয়োজন হবে। সাথে এমন একটা জায়গা যেখানে হঠাৎ করে কারও ওকে দেখে ফেলার সম্ভাবনা নেই। আমার ধারণা এখান থেকে সে খুব একটা দূরে নেই।
বেশির ভাগ ওয়াটার হোল তো তুমি নিজেই চেনো। হ্যারিংটন হাত দিয়ে নিজের চোয়াল ঘষছে। জেরি জীবিত, আর কাছেই কোথাও আছে শুনে সে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। তার টাকার প্রয়োজন, এবং সোনার একটা বড় চালান পাঠাবার কথা ভাবছে সে। উত্তরে আর দক্ষিণে লুকোবার মত কোন জায়গা নেই। পুবের এলাকাটা তুমি চেনো, পোড়া কর্ন প্যাঁচ, ইউনিয়নভিল, আর স্টার সিটি।
স্টার সিটিতে সে ছিল, বলল রনি। কিন্তু ওটা ছেড়ে সে কাছে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। মনে হয় একটা আঘাত হানার মতলব আঁটছে সে। আচ্ছা, পশ্চিমে কি আছে?
সমস্যাটা মনেমনে ভেবে দেখল হ্যারিংটন। সোজা পশ্চিমে আছে জমাট বাধা লাভা সোত। কিন্তু ওর ওপরে হাঁটা খুব ঝুঁকির কাজ। ওই পাথরে বেশ কিছু বুদ্বুদ আছে, যেগুলোর ওপরটা খুবই পাতলা। ভুল করে ওগুলোর একটার ওপর পা ফেললে নিচে পড়ে নিশ্চিত মৃত্যু। দেয়াল এত মসৃণ যে বাইরের সাহায্য ছাড়া কারও বেরিয়ে আসা অসম্ভব। তাছাড়া ওই পাথরগুলো খুরের মত ধারাল। বুট পরে হাঁটলেও ফালি-ফালি করে কেটে অল্পক্ষণের মধ্যেই শেষ করে ফেলে।
পানি নেই?
হ্যাঁ, ওটার ধারে পানি আছে। পুবে, সামান্য উত্তর ঘেঁষে একটা ঝর্না আছে। লাভার কিনার ধরে এগোলে ওটা মিস করার উপায় নেই। জানা মতে লাভার ভিতরে কিছুই নেই। লাভা স্রোতটা দশ মাইল লম্বা, আর দুই থেকে তিন মাইল চওড়া। কিছু উঁচু পাহাড়ও আছে ভিতরে।
হ্যারিংটন চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতিটা নিয়ে ভাবছে রনি। যতই ভাবছে, লাভা স্রোতের ভিতরেই জেরি আশ্রয় নিয়েছে বলে তার মনে হচ্ছে। বাইরে বেরিয়ে পানি সংগ্রহ করা কঠিন কাজ নয়। তাছাড়া হয়তো ভিতরেও পানি থাকতে পারে।
পরদিন সকালে মলির রেস্টুরেন্টে ঢুকে রনি দেখল ফিনলে ভিতরে বসে কফি খাচ্ছে।
শর্টি ঠিকই বলেছিল, বলল সে। ওরা হাই কার্ড মাইনেই ছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে ওটা ছেড়ে আর কোথাও গেছে।
কাছে এগিয়ে চেয়ার টেনে বসল রনি। আমার মাথায় একটা আইডিয়া খেলছে। শুনতে চাও?
নিশ্চয়। আমার মাথায় আর কিছুই আসছে না।
কফির কাপ ভরে দেয়ার সময়ে মলির দিকে চেয়ে হাসল ফিনলে। মনে হয় এখানে থাকার সময় আমার ফুরিয়ে আসছে, বলল সে। তুমি পাহাড়ে বাস করার কথা কখনও ভেবেছ, মলি?
বাস করার জন্যে ওটাও ভাল জায়গা, সায় দিল মলি। আমি অনেক জায়গার কথাই ভেবেছি।
এই অভিযান থেকে ফিরে এসে আমি বাড়ির পথ ধরব। হয়তো আমাকে একাই ফিরতে হবে, হয়তো না।
দাঁত বের করে হেসে কফির কাপ তুলল রনি। আড়চোখে দেখল, মলি ওর দিকে সন্দিগ্ধ চোখে চেয়ে আছে। চোখ টিপল রনি, তারপর মন্তব্য করল, পাহাড়ে কারও একা থাকা ঠিক না। বেশিদিন তো নয়ই। মানুষের সঙ্গ দরকার।
তোমরা দুজনে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছ? হাসি চেপে জানতে চাইল মলি। ধাঁধার ভাষায় কথা বলছ। রান্নাঘরের দিকে রওনা হয়ে একটু ইতস্তত করল সে। তারপর বলল, কারও যদি পাহাড়ে বাস করার ইচ্ছে থাকে, তবে তার তাড়াতাড়ি সব ব্যবস্থা করা দরকার। বেশি অপেক্ষা করলে ফল শুভ হয় না।
<