রনি যখন ঘোড়ার পিঠ থেকে নামল, নেভাডা সেলুন তখন আলোয় ঝলমল করছে। ঘোড়ার পেটি ঢিলে করার অবসরে রাস্তাটা খুঁটিয়ে দেখে নিল। মলির ওখানে এখন আর রাতের খাবার পাওয়া যাবে না-সময় পেরিয়ে গেছে। রাতের বেলা সেলুনের ব্যবসা জমে উঠেছে। পাহাড়ের দিক থেকে ঠাণ্ডা বইছে। তাই রাস্তায় একটা লোকও নেই। সবাই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কেবল একজন অন্ধকার স্যাডল শপের সামনে একটা পোস্টের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর হাত দুটো বুকের ওপর ভঁজ করা। মাইনারদের বুট পরেছে সে। হ্যাটটা সাধারণ।

লিসা যা বলেছে, সেটা স্মরণ করেই মলির খাবার দোকানের দিকে পা বাড়াল সে।

ফিনলে কি তার খোঁজেই শহরে এসেছে? সে কি তাকে সত্যিই মেরে ফেলবে বলেছে? নাকি লিসা তাকে নিছক একটু বিব্রত করার জন্যেই ওকথা বলেছে? লোকটা পারিবারিক লড়াই করা পরিবার থেকে এসেছে। কে বলতে পারে, হয়তো সে আগে গুলি কোরে, পরে প্রশ্ন করবে? রাস্তা পেরিয়ে মলির দোকানের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকল।

ওকে দেখেই মিষ্টি করে হাসল মলি। একাই ছিল সে।

মলি, চট করে জিজ্ঞেস করল সে, ফিনলে কি এখন শহরে?

মুহূর্তে গম্ভীর হলো ওর মুখ। হ্যাঁ, আছে। তোমার সাথে সে কথা বলতে চায়।

লোকটা কেমন?

ইতস্তত করল মলি, তারপর বলল, আমি–আমি জানি না। তিরিশের নিচে ওর বয়স, একটু রুক্ষ হলেও দেখতে ভাল। হাসে কম। জেমস ওকে দেবতার মত ভক্তি করত। আমার কাছে সবসময়ে কেবল ভাইয়ের গল্পই করত। ফিনলে এটা করেছে, ফিনলে সেটা করেছে, এইসব।

এখানে আসার আগে ওরা মিসৌরিতে একটা গৃহযুদ্ধে জড়িত ছিল। ওদের বাবা আর চাচাকে হত্যা করা হলো। প্রতিশোধে ফিনলে বিপক্ষ দলের সবাইকে শেষ করে দিল। তারপর দু’ভাই একসাথেই এখানে চলে এল। কঠিন পরিশ্রম করে সে। আমার বিশ্বাস লোকটা অত্যন্ত সৎ। এবং ভাইকে সে খুব ভালবাসত।

চিন্তাযুক্ত ভাবে মাথা ঝাঁকাল রনি। আমাকে কিছু কফি দাও, বলল সে; তারপর আবার বলল, কফি আর পাই।

হঠাৎ দরজা খুলে গেল। মুখ তুলে তাকাল ড্যাশার। অ্যাডাম আর জেরি সমার্স ভিতরে ঢুকেছে। ওকে দেখে দুজনেই হেসে সামান্য একটু মাথা ঝুঁকাল। হাওডি, রনি, বলল অ্যাডাম। তুমি যে এখানে আছ, সেটা শহরের সবাই জানে। এই শহরে গত ছয় মাসে এটাই সম্ভবত সবথেকে বড় খবর!

স্টজ লুট হওয়ার থেকেও বড়? শুষ্ক স্বরে জিজ্ঞেস করল রনি।

কাঁধ উঁচাল অ্যাডাম। ওগুলো এখন ডাল-ভাত হয়ে গেছে। অহরহই ঘটছে, তাই ওটা আর এখন গরম খবর নয়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ড্যাশারের দিকে তাকাল সে। হ্যাঁ, ভাল খবর। আজ এখানে ইলেকশন হলো। আজ থেকে আমি এই শহরের নতুন মেয়র। শহরে একজন টাউন মার্শাল নিযুক্ত করার জন্যে আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রথমেই তোমার কথা আমার মনে এসেছে। ওই কাজের জন্যে তুমিই সব থেকে উপযুক্ত। তুমি কি বলো?

বর্তমানে একটা চাকরি করছি আমি, হেসে মাথা নেড়ে জবাব দিল ড্যাশার। যাহোক, অফার করার জন্যে ধন্যবাদ।

কিন্তু এই চাকরিতে তুমি ডবল পাবে! প্রতিবাদ জানাল অ্যাডাম। আমরা তোমাকে মাসে একশো-পঞ্চাশ ডলার করে দেব। এছাড়া যত অ্যারেস্ট হবে, তাদের মধ্যে যারা জেলে যাবে, সেই টাকা আমরা আধাআধি ভাগ করে নেব। আরও অনেক উপরি পাওনাও আছে।

আমার চাকরি একটা রয়েছে, পুনরাবৃত্তি করল সে। আসলে আমি একজন র্যাঞ্চাইডার, আইনরক্ষী নই।

দুঃখের কথা! অ্যাডাম বিরক্ত হলো। তোমাকে পেলে আমি নিশ্চিন্ত হতাম।

কফিতে চুমুক দিয়ে মলির দিকে চোখ তুলে তাকাল। ম্যাম, বলল সে, আমি মনে-প্রাণে কামনা করছি, আমি শহর ছাড়ার আগে কোন কাউবয়ের সাথে যেন তোমার বিয়ে না হয়! চমৎকার কফি তৈরি করতে পারো তুমি। টেক্সাস ছাড়ার পর যত কফি খেয়েছি, এর সাথে তার তুলনা হয় না!

আবার দরজা খুলল। খাটো একটা মানুষ ভিতরে ঢুকল। পিপের মত বুক, চওড়া চোয়াল-নাকটা ভাঙা। চোখ দুটো নীল। অনেক মদ খেলেও, ওর চেহারা ঝাঁপসা হয়নি। ওর হাতের পাঞ্জা দুটো বড়। দুটো পিস্তল ঝুলছে ওর কোমরে, বেশ নিচুতে। দুটোই উরুর সাথে ফিতে দিয়ে বাঁধা।

শর্টি, কঠিন স্বরে বলল মলি, আবার মাতাল হয়েছে তুমি!

একটা বিশদ নির্লজ্জ হাসি দিল লোকটা। এখনও হইনি! আমার হাঁটা এখনও স্বাভাবিক আছে, কথাও জড়ায়নি। কিন্তু–অ্যাডাম আর জেরির দিকে তাকাল সে-কেমন যেন একটা বোটকা গন্ধ নাকে আসছে।

শর্টি একদৃষ্টে চেয়ে আছে ওদের দিকে। ঠিক! খাটাসের মত গন্ধ। একটা নয়, দুটো! কপট বিস্ময়ে চারপাশে তাকাল সে। তৃতীয়টা কই?

অ্যাডামের চেহারা কঠিন হলো, ঠোঁট পরস্পারের ওপর চেপে বসল। জেরি সমার্সের চেহারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। চোখ দুটোর পিছনে যেন সাক্ষাত শয়তানের বাসা। রনি আঁচ করতে পারছে, জেরি অপমানিত হওয়ার পরও কেন কিছু করতে ইতস্তত করছে। শর্টি এখানে জনপ্রিয়। জেরির হাতে সে মারা পড়লে, হাটে অনেক হাঁড়িই হয়তো ভাঙবে। এতে ওর ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। আর অ্যাডাম কোন অবস্থাতেই শর্টির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে রাজি নয়। দৃশ্যটা থেকে অনেক কিছুই রনির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। কফিতে চুমুক দিতে দিতে সব খেয়াল করছে সে। শর্টি যে ওদের দুজনের কাউকেই ভয় পায় না, এটা পরিষ্কার। কারণ ওদের খোঁচাতে সে ইতস্তত করেনি। কিন্তু বিবাদে যাওয়াটা অ্যাডাম বা জেরি কারও জন্যেই লাভজনক হবে না।

টেবিলের ওপর বিশাল থাবা দুটো রেখে একটু সামনে ঝুঁকল শর্টি। আমি জিজ্ঞেস করছি অন্য খাটাসটা কোথায়?

শর্টি! ধমকের সুরে তীক্ষ্ণ স্বরে চ্যাঁচাল মলি। শর্টি, এদিকে এসে তোমার কফি খাও! ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে?

মাতাল লোকটা অ্যাডাম আর জেরির দিকে চেয়ে একটু ইতস্তত করল, তারপর ধপাস করে বসে পড়ল। মাথা নেড়ে সে বিড়বিড় করে বলল, নারী! নারী! ওরা পুরুষকে কোনদিনই শান্তি দিল না। কেবলই বাধ সাধে। ওদের জালায় একটা ভাল ফাইটও কেউ করতে পারে না। দুটো খাটাসের সাথে একটু মারপিট করব, ওটাও ওরা সহ্য করবে না। এক জোড়া খাটাসের সাথে লড়ব, তারও উপায় নেই!

দরজা বন্ধ হওয়ার মৃদু শব্দে রনি তাকাল। দেখল ওরা দুজন বেরিয়ে গেছে। বাইরে থেকে কথাবার্তার মৃদু আওয়াজ আসছে। তেতো কথা কাটাকাটি। অ্যাডাম সত্যিই রনিকে টাউন মার্শাল হিসেবে চেয়েছিল, এটা ওর মনে হয় না। কেউ তাকে রকিঙ কে থেকে সরাতে চাইছে। কিন্তু কে? এবং কেন?

পাই খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিল রনি। পাই শেষ করে মুখ তুলে দেখল, শার্ট স্থির দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে আছে।

নিচু স্বরে রনি বলল, বেন আমাকে তার ফোরম্যান করেছে। ঝামেলা সামলানো আমার কাজ।

এমন একজন ওর দরকার, শর্টি শুষ্ক স্বরে বলল। ওর স্বরে মাতাল ভাবটা আর নেই।

তা ঠিক। ওর সাথে একমত হলো ড্যাশার। হিউবার্টরা ওর রেঞ্জ দখল করে নিতে চাচ্ছে।

হিউবার্টদের সেই শক্তি আছে, মন্তব্য করল শর্টি।

ওদের একজনের সাথে আজ আমার মোকাবিলা হয়েছে। বিকেলের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিল সে। ওরা এখন লড়াইয়ে নামবে সন্দেহ নেই। আমার এখন কিছু ভাল কাউহ্যাণ্ড দরকার। শুনেছি তুমি মারপিট পছন্দ করো। তোমাকে আমার এই কাজের জন্যে উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে। তোমাকে আমি চাই। তোমার কি মত?

ইতস্তত করল শর্টি। তারপর ধীরে মাথা নাড়ল। বুড়োর সাথে কথা কাটাকাটির পর আমি শপথ করেছি এই র‍্যাঞ্চে আর কখনও কাজ করব না।

যে কেউ মত পাল্টাতে পারে, বলল রনি। বেন কেসি জানে সে কোন ফাইটার নয়, কিন্তু লড়াই আসন্ন। ওকে পছন্দ করি আমি। তাই লড়াইয়ের দিকটা আমি দেখছি। তোমাকে আমার প্রয়োজন।

নীরবে কফিতে চুমুক দিল মাইক। শেষে সে বলল, রজার আর হেনরি এখনও ওখানে আছে?

আছে।

তাহলে আমি নেই।

ওদের পছন্দ করো না?

উঠে দাঁড়াল শর্টি মাইক। রজারকে হয়তো সহ্য করা যায়। আর সবার মত হেনরি কেন শনিবার শহরে আসে না? কোথায় যায় সে?

কৌতূহলী চোখে শর্টিকে খেয়াল করে দেখছে। এই লোকটাকে তার চাই। ওর সম্পর্কে যা শুনেছে, আর আজ যা দেখেছে, তাতে বুঝেছে মারপিটে শর্টি একাই ছয়জনের সমান। কোথায় যায় সে?

হাসল শর্টি। ঘোড়ায় চেপে লম্বা রাইডে যায়। বুঝে নাও কোথায় যেতে পারে এবং কেন। তাহলেই বুঝবে কেন ওকে আমি অপছন্দ করি।

তার পিছনে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শর্টি বেরিয়ে গেল। চিন্তাযুক্ত মনে সিগারেটে টান দিয়ে রনি বলল, দারুণ ভাল একটা লোক। ওকে পেলে আমি খুশি হতাম।

পাবে। মলি নিশ্চিত। ওটা আমার আর শর্টির নিজের ওপরই তুমি ছেড়ে দাও। মারপিট ওর প্রিয়, আর আমি জানি এটাতে ঢোকার জন্যে সে পাগল। তাছাড়া, তোমাকে ওর পছন্দ হয়েছে।

আমাকে? অবাক হয়ে মলির দিকে চাইল সে।

হ্যাঁ, তোমাকে। শর্টিকে আমি চিনি। এখন সে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। আজ লঙ হিউবার্ট আর তোমার মাঝে কি ঘটেছে। যা শুনবে, সেটা যদি ওর পছন্দ হয়, কাল সকালেই সে কাজে যোগ দেবে। কেবল সে যখন আসবে, কোন প্রশ্ন তুলো না।

বাইরে বেরিয়ে রাস্তাটা খুঁটিয়ে দেখল রনি। স্যাডল শপের সামনে যে লোকটা দাড়িয়ে ছিল, সে এখন আর একটু দূরে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। কেবল ওর পা দুটো দেখা যাচ্ছে।

ধীর পায়ে রাস্তা ধরে এগোল রনি। পিছন ফিরে না তাকিয়েও সে বুঝতে পারছে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে। লোকটা তাকে গুলি করার কয়েকটা ভাল সুযোগ পেয়েছে; সুতরাং হয় সে কথা বলতে চায়, অথবা গুলি করে গোপনে পালিয়ে যাবার মত সুযোগ খুঁজছে।

হঠাৎ লোকটা দ্রুত য়ে এগিয়ে এল। ঘুরে দাঁড়াল রনি। তৈরি।

ড্যাশার? প্রশ্ন নয় বক্তব্য। আমি কাৰ্প। তোমার সাথে নির্জনে কথা বলার সুযোগ খুঁজছিলাম আমি।

কেন?

আমি রাসলার হওয়া সত্ত্বেও আমাকে ফাঁসি না দিয়ে তুমি আমাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছিলে। তাই তোমাকে ফাঁদ থেকে সাবধান করতে এসেছি।

কেমন ফাঁদ?

অ্যামবুশ! রোউজবাড ক্যানিয়নে। ওখানে সাত বা আটজন লোক প্রস্তুত হয়ে লুকিয়ে থাকবে। তোমারই একজন লোক তোমাকে ওখানে নিয়ে যাবে। ওরা সবাই একসাথে গুলি করে তোমাকে ঝাঁঝরা করে দেবে আউটল দল।

ধন্যবাদ, কার্প। একটু ইতস্তত করল ড্যাশার। তুমি কি করবে?

শুকনো একটু হাসল কার্প। আমি? আমি কাল সকালেই মনট্যানার পথ ধরব। যখন শুনলাম তুমি এখানে এসেছ, বুঝলাম রাসলিঙের খেলা শেষ।

রাস্তা ধরে কয়েকজন আরোহীকে এগিয়ে আসতে দেখে দেয়াল ঘেঁষে একটা অন্ধকার জায়গা বেছে নিয়ে দাঁড়াল রনি। দেখল, ওরা পাঁচজন। ওদের মধ্যে লঙ হিউবার্ট আর টাকমাথা কাউহ্যাণ্ডকে চিনতে পার।

রাস্তার উল্টো পাশে অন্ধকারে সামান্য নড়াচড়া লক্ষ করে খুব খেয়াল করে দেখার চেষ্টা করল সে। চিনতে পারল–ওটা শর্টি মাইক।

কাউহ্যাণ্ড হিউবার্টদের পিছুপিছু হাই-গ্রেড সেলুনে ঢুকল। একটু ভেবে নিয়ে রাস্তা পার হয়ে ঘুরে পিছন দিকে চলে এল রনি।

হাই-গ্রেড শহরের প্রধান হোটেল। দোতালা কাঠের দালানে বার, আর জুয়া খেলার টেবিল রয়েছে একতালায়, আর দোতালায় করিডোরের একপাশে রয়েছে পর্দা দেয়া বুথ-অন্যপাশে এক-সারি ছোটছোট কামরা। পিছন দিকের সিঁড়ি দিয়ে দোতালায় ওঠা যায়। একতালাতেও পিছনের একটা দরজা আছে।

ড্যাশার সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় উঠে এল। করিডোর ধরে হালকা পায়ে এগিয়ে শেষ বুথে ঢুকে পর্দাটা একটু ফাঁক করে দিল। নিচের বাটা ওখান থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

থ্রী এইচ র‍্যাঞ্চের লোজন বারের সাথেই সার বেঁধে দাঁড়িয়েছে। লঙকে সে চেনে, জনিকেও অল্পক্ষণের মধ্যেই চিনল ওকে নাম ধরে ডাকতে শুনে। লোকটার চওড়া কাধ আর বুক, একটু মোটাসোটা, লালচে গোঁফ আর ছোটছোট দুটো নিষ্ঠুর চোখ। সিলভারও জনির মতই বিশাল, কিন্তু মেদ বলতে ওর দেহে কিছু নেই। সবটাই পেশী। পরিষ্কার করে কামানো মুখ। তিনজনেরই শক্ত চেহারা, সবার কোমরেই দুটো করে পিস্তল ঝুলছে।

শর্টি মাইক ভিতরে ঢুকেছে। ধীর পায়ে ওদের পাশ দিয়ে এগোচ্ছে সে। টাক মাথা লোকটার পাশে এসে থামল। ঝুঁকে ওর বিকৃত ফোলা মুখটা খুঁটিয়ে দেখল। ঘুরে তাকাল টেকো। ভিতরে ভিতরে রাগ তেতে উঠছে ওর।

ঘটনাটা কি? জানতে চাইল সে।

কিছু না। শর্টির বুড়ো আঙুল দুটো বেল্টের পিছনে গোঁজা, আমি কেবল অবাক হয়ে ভাবছিলাম।

কি বিষয়ে? সন্দিগ্ধ হয়ে প্রশ্ন করল সে।

একটা নিষ্পাপ হাসি দিল শর্টি। কোন এমন জন্তু আছে যে মাড়িয়ে তোমার মুখের এমন অবস্থা করতে পারে। ঘোড়ায় টেনে নিলে চামড়া উঠত আর আঁচড় পড়ত।

শাট আপ! খেকিয়ে উঠল বডি। ইটস নান অব ইওর বিজনেস!

খুবই সত্যি কথা, বিনীত ভাবে স্বীকার করল শর্টি। ইট শিওর ইজ নান অব মাই বিজনেস। কিন্তু কথা হচ্ছে কেউ কি বন্ধুসুলভ কৌতূহলও ব্যক্ত করতে পারবে না? তুমি মানুষকে কিউরিয়াস হওয়ার জন্যে দোষ দিতে পারো না। আমি টুম্বস্টোনের একজনকে চিনি গাধার লাথি খেয়ে লোকটার চেহারা ওইরকম হয়েছিল।

ওই চোখ, বলে চলল শর্টি, ওটার কাটাটা বেশ গভীর। ওটা খচ্চর বা গাধার লাথিতে হয়ে থাকতে পারে, এটা ঠিক। তোমার ঠোঁট আর মুখ যেভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছে–মনে হয় না ওটা

শাট আপ! বলডি খেপে উঠল। চুপ করো, নইলে আমিই তোমার মুখ বন্ধ করাচ্ছি!

ভয় পাওয়ার ভান করে দু’পা পিছিয়ে গেল শর্টি। এই! কি ব্যাপার? আমি গোল পাকাতে চাইনি, বলডি! কেবল জানতে চেয়েছিলাম কি ঘটেছে।

অনেক বকরবকর করেছ। যথেষ্ট হয়েছে! বারের শেষ-মাথা থেকে হঠাৎ ধমকে উঠল অ্যাডাম। আমরা এখানে ঝামেলা চাই না, শর্টি। আমি সেটা সহ্য করব না!

আহা, উত্তেজিত হয়ো না, অ্যাডাম। হাসি মুখে প্রতিবাদ করল শর্টি। আমি একটু হাসি-ঠাট্টা করছিলাম মাত্র! দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে জেনে থ্রী এইচের সবাইকে আমি বিদায় জানাতে এসেছি।

বারে যারা ছিল তাদের সবার কথা বন্ধ হয়ে গেল। কান খাড়া করে শুনছে সবাই। চলে যাচ্ছে? অবাক হয়েছে অ্যাডাম। লঙের দিকে চেয়ে সে প্রশ্ন করল, তল্পিতল্পা গুটাচ্ছ নাকি তোমরা?

না! রাগে ফেটে পড়ল হিউবার্ট। স্তম্ভিত হয়েছে সে। এমন একটা উদ্ভট আইডিয়া তুমি কোথায় পেলে, শর্টি?

কেন, আমি শুনলাম ড্যাশার এখন রকিঙ কে-র ফাইটিঙ সেগুলো। তাই ধরে নিলাম তোমরা এখন লেজ তুলে ছুটে পালাবে। আমি ভাবিনি, গম্ভীর ভাবে বলল সে, তোমরা ওর মোকাবিলা করার মত বোকামি করতে পারো!

ওহ, কি দুঃসাহস! গ্লাসটা সশব্দে ঠুকে বারের ওপর রাখল সে। ওর মত তুচ্ছ একজন গানফাইটারকে আমরা যথাড়াই কেয়ার করি, শার্ট! আমরা এখানে থাকতে এসেছি, এবং বিশ্বাস করো, আমরা থাকব।

সমর্থন করে মাথা কঁকাল শর্টি। স্লিম, বারটেণ্ডারকে বলল সে, থ্রী এইচের সবাইকে আমার নামে এক রাউণ্ড ড্রিঙ্ক দাও। একটা সোনার মুদ্রা বারের ওপর ফেলল মাইক। তারপর ওদের গ্লাস ভরা হলে নিজের গ্লাস শূন্য তুলে টোস্ট করল। থ্রী এইচ আউটফিটের সম্মানে! যারা সংগ্রামী মনোভাব নিয়ে লড়ে বুট পায়েই মারা পড়বে, তবু পিছাবে না!

রাগে লাল হয়ে শর্টির দিকে ফিরল লঙ। তুমি ভাবছ এটা খুব ফানি, মাইক? ওর চোখ থেকে যেন আগুন ঝরছে। আমার ইচ্ছে করছে তোমাকে ছিঁড়ে দেখি কোন যন্ত্র তোমাকে চালাচ্ছে!

ভুলেও চেষ্টা কোরো না, লঙ! শর্টি সাবধান করল। হঠাৎ ওর স্বরটা সিরিয়াস হলো। তোমার সেই মুরোদ নেই! তাছাড়া-হাসল সে-অ্যাডাম এটা পছন্দ করবে না। ওর মেঝে রক্তাক্ত হোক এটা সে মোটেও চাইবে না।

জনি হিউবার্ট বোকা নয়। সে জানে শর্টি আগে যেসব ইঙ্গিত দিয়েছে, সেটা শ্রোতারা মনে রাখবে। সে এটাও বোঝে যে জনমত উপেক্ষার জিনিস নয়।

আমরা ট্রাবল চাচ্ছি না, বলল সে। সাবধানে শব্দ-চয়ন করছে জনি। এটা ঠিক যে আমরা রকিঙ কে র‍্যাঞ্চের কিছু জমিতে আমাদের গরু চরাচ্ছি। কিন্তু বুজ থেকে অ্যান্টিলৌপ পর্যন্ত জমি যতক্ষণ খালি পড়ে রয়েছে, আমি এতে কোন অন্যায় দেখি না।

কথাটা যে মিথ্যা, এটা সে জানে। কিন্তু এটাও জানে যে শ্রোতাদের কেউ বুড়ো কেসি মরার পর ওদিকে যায়নি। তাই ওর বক্তব্যের প্রতিবাদ কেউ করতে আসবে না। রকিঙ কে র‍্যাঞ্চ ওর চাই। যদি শক্তি প্রয়োগ করতে হয় তাও সে করবে, কিন্তু সবটার দখল তার চাই।

ফ্রী রেঞ্জ, বলে চলল সে, এটা যতক্ষণ ওই জমিতে গরু চরানো হবে, ততক্ষণই কোন নির্দিষ্ট আউটফিটের দখলে থাকে।

বুথ ছেড়ে নিঃশব্দে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল রনি। সবার চোখ শর্টি আর হিউবার্টদের ওপর থাকায় কেউ ওর নেমে আসা খেয়াল করল না।

এবার সে মুখ খুলল।

তুমি ভুল ধারণা করেছ, শান্ত স্বরে বলল সে। রকিঙ কে কোন অধিকারই ছাড়েনি। আমাদের গরু এখনও ওই রেঞ্জে চরছে এবং ভবিষ্যতেও চরবে। আরও বলছি, তোমাকে তোমাদের গরু রুর ওপাশে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেয়া হয়েছিল। এখন সবার সামনে সেই আদেশের পুনরাবৃত্তি করছি আমি,

মুহূর্তের জন্যে বারটা একেবারে নীরব হলো। জনি হিউবার্ট ভিতরে ভিতরে প্রচণ্ড রেগেছে। কিন্তু আর সবার থেকে সে ভাল বুঝছে কিভাবে ড্যাশার পুরো ব্যাপারটাই উল্টে তার বিপক্ষে নিয়ে গেছে। এখন তার কোন কাজে যদি দাঙ্গা হয়, তবে সবাই তাকেই দুষবে। তিক্ত মনে বারের দিকে চেয়ে রইল সে। একটু পরে মুখ তুলে চাইতেই অ্যাডামের চোখে চোখ পড়ল ওর। দেখল অ্যাডামের চোখ হোটেলের অফিসের দিকে সামান্য কাত হলো।

ওর সাথে অ্যাডামের মৌখিক আলাপের বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল না। লোকটাকে তার পছন্দ হয় না। এখন নতুন করে পছন্দ করারও কোন কারণ সে দেখছে না। তবু ওই ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল, যা ওকে আকৃষ্ট করল। দু’এক মুহূর্ত অপেক্ষা করে ঘুরে দরজার দিকে রওনা হলো। রনির নীল চোখ দুটো ওকে অনুসরণ করল। ইশারাটা সেও লক্ষ করেছে। ওপাশে কি আছে সে জানে না। তবে এর মানে যে বাড়তি ঝামেলা, এটা নিশ্চিত।

শর্টি মাইক রনির পাশে সরে এল। মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত তোমার ইচ্ছাই টিকল, বলল সে। সকালে আমি কাজে রিপোর্ট করলে ঠিক আছে?

অবশ্যই। সেটা তুমিও জানো! জোর দিয়ে বলল রনি।

শর্টি বলল, একটা কথা, যতক্ষণ থ্রী এইচ আউটফিট, এবং আরও কিছু লোককে শেষ না করা হচ্ছে, ততক্ষণ এখানে শান্তি আসবে না।

ঠিকই বলেছ, আমি ভাবছি। চিন্তাযুক্ত ভাবে ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে বলল, মনে হচ্ছে আমার কিছু রাইডিঙ করার সময় এসেছে।

কামরা ছেড়ে বেরোবার জন্যে ঘুরে রওনা হলো ড্যাশার। শর্টি ওর পিছু নিল। আমাকে সকালে র‍্যাঞ্চে না পেলে বেন কেসিকে বোলো আমি তোমাকে কাজে নিয়েছি। তারপর কাজ শুরু কোরো। তুমি তো জানো র‍্যাঞ্চে কোথায় কি করা দরকার।

তুমি কোথায় যাবে? জানতে চাইল মাইক।

একটু ইতস্তত করল রনি। ভাবছি কর্ন প্যাচের ওদিকে যাব। আমি নিজের চোখে দেখতে চাই ওখানে কি ঘটছে।

মাথা নাড়ল শর্টি। রনি, তুমি সাবধান থেকো। ওই লোকগুলো একেবারে বিষাক্ত। বিশেষ করে ওই বিল ওয়াটসন। ওকে এক ফোঁটা বিশ্বাস কোরো না। মাছি মারার মতই নির্বিকার ভাবে সে মানুষ মারতে পারে।

<

Super User