দুই মাইল যেতে হবে ওকে।
ওই পাহাড়ের কোলে কোথাও পাওয়া যাবে লেফটেন্যান্ট সাইমনকে। এরি মধ্যে যদি আক্রান্ত হয় ও তবে টহলদলটা এগিয়ে আসতে পারে সাহায্যে। কিন্তু গ্যারিকের বর্ণনায় যদি ভুল থাকে কিংবা যদি অন্য কোথাও সরে গিয়ে থাকে টহলদল-কেউ আসবে না!
ফর্সা হয়ে আসছে পুব দিগন্ত। আকাশের শেষ তারাটাও গেছে হারিয়ে। ঘোড়ার একঘেয়ে চলার শব্দ ছাড়া অন্য কিছু কানে আসে না। চারদিক বেশ কিছুদূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে আবছা ভাবে। স্পষ্ট হয়ে আসছে দূরের পাহাড়টা।
ওটার কোল ঘেঁষে এখনও চাপচাপ অন্ধকার।
খুব তেষ্টা পেয়েছে ইয়াসীনের। কেমন যেন ছমছমে একটা ভয়। বুকের বা পাশে ছটফট করছে হৃদপিণ্ড।
ঘোড়াটাকে প্রায় একমাইল হাঁটিয়ে এনেছে সে। আর মাত্র মাইল খানেক বাকি। এবারে ছুট লাগালে কেমন হয়? খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যাবে।
তবু আচমকা ঘোড়া ছুটাল না ইয়াসীন। চারপাশ দেখতে দেখতে মধ্যম গতিতে চালাচ্ছে সে ঘোড়াটা। এখানে ওখানে ছোট ছোট বালিয়াড়ি আর পাথর। পিছনের সেই গম্বুজ থেকে ক্রমেই ঢাল বেয়ে উতরাইয়ে নামতে হচ্ছে তাকে। শেষ পাঁচশো গজ সমতল ভূমি অতিক্রম করতে হবে।
ঘোড়াটা বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। ওটাকে অভয় দান করার চেষ্টা করল সে। আর বেশি দূর নেই, সাগরেদ। এবারে শুরু করো দৌড়।
ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ সজীব হয়ে উঠল মরুভূমি। এইমাত্র নিথর ঘুমিয়ে ছিল সব। অথচ এখন কী ভীষণ আলোড়ন চারপাশে।
ভোরের প্রথম আলোয় ঝিকিয়ে উঠল একটা রাইফেল…আরও একটা। দ্রুত ওদের সংখ্যা অনুমান করার চেষ্টা করল ইয়াসীন। এক, দুই, চার, সাত-দশ। সবাই চেপে আসছে কাছে।
দুজনের হাতে রাইফেল। দুজনের হাতে ছোট্ট হাতলওয়ালা কুড়াল। বাকি সবার কাছে তীরধনুক।
চারজন রয়েছে বায়ে। তিনজন সামনে, বেশ দূরে। দুজন আছে ডানে। তাদের পিছনে আরও ডানে আর একজন। মাঝখানে ফাঁকটা রাখা হয়েছে ইয়াসীনকে প্রলুব্ধ করতে।
লাভ নেই! ইন্ডিয়ানদের উদ্দেশে চেঁচিয়ে বলল ও বাংলায়। গ্রীন ইন্ডিয়ান ঘুঘু পা দেবে না রেড ইন্ডিয়ান ফাঁদে। তবে ঘোড়া থামাল না সে। ধোকা দেবার জন্য সামান্য এগিয়ে গেল গ্যাপটার ভিতর। তারপর চকিতে বাঁয়ে মোড় নিয়ে ঘোড়ার পেটে গোড়ালি দিয়ে আঘাত করল।
সিগন্যাল বুঝতে পেরে বাঁয়ের চারজন ইন্ডিয়ানের দিকে তীরবেগে ছুটল ঘোড়াটা। একজন রাইফেল তুলছে। দ্রুত গুলি করল ইয়াসীন। আঁকি খেয়ে হাঁটুমুড়ে বসে পড়ল রাইফেলধারী। পিছনে গুলির আওয়াজ! একটা তীর এসে লাগল ঘোড়ার জিনে। কাছের একজন ইন্ডিয়ান কুড়াল চালাল তার পা তাক করে। কিন্তু ঘোড়ার গতি ঠিকমত আঁচ করতে না পারায় ফসকে গেল কোপ। এমন সময় বাঁ দিকের একজন ধনুক ফেলে লাফিয়ে উঠে তার গলা ধরে ঝুলে পড়ল। ঘোড়া থেকে ফেলে দিতে চায়। বাঁ দিকে কাত হয়ে গেল ইয়াসীন। ফলে পিছন থেকে ছুঁড়ে মারা কুড়ালখানা বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে বেরিয়ে গেল ডান কান ঘেঁষে। ঝুলে থাকা লোকটার পাঁজরে বা কনুই চালাল ও। তাতে বিন্দুমাত্র কাবু হলো না ইন্ডিয়ানটা। এদিকে ভয় পেয়ে দিগ্বিদিক ছুটছে ঘোড়া।
জিন থেকে পিছনে নেমে যাচ্ছে ইয়াসীন। পড়ে যাওয়া মানে অবধারিত মৃত্যু। ডান হাতের পিস্তলটা বা বগলের ফাঁকে ঢুকিয়ে ট্রিগার টিপল সে। সামান্য শিথিল হলো গলা আঁকড়ে ধরা হাত। পিস্তলের নল সামান্য ঘুরিয়ে আবার টিপল ট্রিগার। একটা গোঙানির শব্দ করে গলা ছেড়ে দিল ইন্ডিয়ান। পড়ে যাচ্ছিল সেও। কোনমতে ঘোড়ার কেশর খামচে ধরে ঝুলে রইল।
তাল সামলে নিয়ে এক ঝটকায় জিনে উঠে এল ইয়াসীন। তখনি সামনে গজিয়ে উঠল আরও দুজন ইন্ডিয়ান। তাদের বাঁয়ে ডজ দিয়ে ডানে কাটল ও। ঘোড়া ছুটাল সোজা পাহাড়ের দিকে। পিছনে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
পাহাড়ের কোলে ঠিক যে পাথরগুলো আড়ালে টহল দলটাকে দেখবে বলে আশা করেছিল ইয়াসীন, সেখান থেকে বেরিয়ে এল দুজন ইন্ডিয়ান! একজনের হাতে রাইফেল অন্যজনের কাছে তীরধনুক।
গুলি করতে পিস্তল তুলেছিল সে। রাইফেল উঠিয়েছিল ইন্ডিয়ানটাও। কিন্তু তৃতীয় একটা বুলেট ধরাশায়ী করল রাইফেলধারীকে। তাড়াহুড়োয় অপরজনের তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। দ্রুত কাছে চলে আসছে লোকটা। তাকে কাটানোর কোন চেষ্টা করল না ও। সোজা চালিয়ে দিল ঘোড়া। ভয়ার্ত চিৎকারটা শেষ হবার আগেই ধরাশায়ী হলো লোকটা।
ওপাশে আর এক সারি পাথর। একঝলক নীল ইউনিফর্ম! পুরোদমে ঘোড়া ছুটিয়ে পৌঁছে গেল সে ওপাশের পকেটমত জায়গাটায়। সূর্য উঠেছে।
ঘোড়া থেকে নামল ইয়াসীন। একনজরেই বোঝা যাচ্ছে টহলদলের করুণ অবস্থা। আসতে আরও দেরি হলে লাভ হত না এসে।
লেফটেন্যান্ট সাইমন আহত। পা মেলে পাহাড়ের পাথুরে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। ব্যথা আর ক্লান্তিতে কুঁচকে আছে তার গাল।
আহত হয়েছে আরও তিনজন। একজনের মাথায় রক্তাক্ত রুমাল বাঁধা। আর একজনের ট্রাউজারেও কাঁচা রক্ত। যারা আহত হয়নি তাদের অবস্থাও তৃষ্ণা আর পরিশ্রমের ফলে শোচনীয়।
পিছনে তাকাল ইয়াসীন।
কেউ নেই খোলা মরুভূমিতে! একটু আগে যে ছিল, তার বিন্দুমাত্র চিহ্নও নেই। শুধু একটা মৃতদেহ পড়ে আছে দূরে-বালিতে। ওটা ওখানে কীভাবে এল সে-ই যেন এক বিস্ময়।
একটা পানির বোতল বের করল সে। মনে হচ্ছে এতেই চাঙ্গা হয়ে উঠবে সবাই,’ লেফটেন্যান্টের দিকে বাড়িয়ে দিল বোতলটা।
কাঁপা হাতে বোতলটা নিল লেফটেন্যান্ট। মাত্র একঢোক পানি খেয়ে ফিরিয়ে দিল। বাকিটা অন্যদের জন্যে, বিকৃত স্বরে বলল।
হাতে হাতে ঘুরতে লাগল পানির বোতল। অল্প অল্প করে খাও, বলল ইয়াসীন। একবারে বেশি খেলে অসুবিধা হতে পারে।
সবাই গলা ভিজিয়ে নেবার পর কী হয়েছিল জানতে চাইল ও।
‘গত দু’দিন দু’রাত পানি নেই আমাদের, একজন সৈনিক বলল। ঘোড়াগুলো নিয়ে গেছে ওরা। তুমি সময়মত না এলে আমাদেরও মেরে ফেলত’।
‘এখান থেকে এখনি সরে যেতে হবে আমাদের,’ বলল ইয়াসীন। ‘নইলে আবার ওরা ফিরে আসবে, তখন আর বেরোতে পারব না।’
‘চলার মত শক্তি অবশিষ্ট নেই আমাদের,’ বলল লেফটেন্যান্ট।
‘মাইলখানেক পুবে একটা ওয়াটারহোল আছে।’ বলল ইয়াসীন। আরও একঢোক পানি খাব আমরা। কিছুক্ষণ পরে আরও একঢোক। ফলে ওয়াটার হোল পর্যন্ত যাবার শক্তি ফিরে পাব।’
‘মেজর সাইকের কোন নির্দেশ আছে?’
‘না, সার। আমার মনে হয় সে এখনও জানে না কী হয়েছে আমাদের।’ মার্ল স্প্রিং-এ যাবার ঘটনা বলল ও লেফটেন্যান্টকে। মোকাটো আর গ্যারিকের কথা বলল।
আর এক রাউন্ড পানি পান করা হলো। সামান্য সজীবতা ফিরে আসছে সবার মধ্যে। কোমরের বেল্ট আঁটছে একে একে সবাই। বেঁধে নিচ্ছে জুতোর ফিতে। চলার মত শক্তি নেই, তবু এখানে আটকে পড়তে চায় না কেউ।
বালিতে একটা ম্যাপ আঁকল ইয়াসীন। এখানে আছি আমরা, অফিসারকে দেখাল। এখানে, সেই ওয়াটারহোল। ওখান থেকে মাইল দশেক দক্ষিণ-পুবে, এই হলো কাট স্প্রিং। আমার মনে হয় আজকের ভিতরেই ও-পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। তবে লড়তে হবে আমাদের।
‘সে-ও একটা সমস্যা, সার্জেন্ট। বুলেট ফুরিয়ে গেছে আমাদের।’
‘আমার কাছে শ’খানেক রাউন্ড আছে,’ বলল ইয়াসীন। তবে সেগুলো আপানাদের রাইফেলে ঢুকবে না। তাই আপনাদের জন্যে আলাদা কিছু বুলেট এনেছি। পঞ্চাশ ষাট রাউন্ড হবে।’
সে তো অনেক! আমার দুজন সিপাহীর কাছে একটা বুলেটও নেই। সব মিলিয়ে ত্রিশ রাউন্ড হবে কিনা সন্দেহ।
সোজা হয়ে বসল লেফটেন্যান্ট। কিড তুমি, টোবিন আর বেয়ার্ড-তোমরা সবচেয়ে ভাল শট। তাই দশ রাউন্ড করে বুলেট নেবে তোমরা।
উইলীও ভাল শুটার। কিছু বাড়তি বুলেট তাকেও দেয়া যেতে পারে, প্রস্তাব দিল কিড।
ঠিক আছে, উইলীও পাবে দশ রাউন্ড, বাকি সবাই তোমাদের প্যাক বয়ে নেবে। যাতে গোলাগুলির সময় ঝাড়া, হাতপায়ে থাকতে পারো তোমরা। ইয়াসীনের দিকে তাকাল লেফটেন্যান্ট সাইমন। তোমার ঘোড়াটা কি দুজন লোক নিতে পারবে?
ইয়েস, সার।
দুজনের জখম বেশ মারাত্মক। ঘোড়ায় চড়ে যাবে তারা। কখন শুরু করব আমরা, সার্জেন্ট?
এখনি সবচেয়ে ভাল সময়। সূর্য মাথার উপরে উঠে আসতে কিছু সময় নেবে। ততক্ষণে পুবের ওয়াটারহোল হয়ে কাট স্প্রিং-এ চলে যেতে পারব আমরা। সেখানে-রাইফেলে গায়ের জ্যাকেট টানিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিশ্রাম শেষে আবার যাত্রা করা যাবে।
সবার আগে চলল ইয়াসীন। ওর পিছনে কিড আর উইলী। সবার পিছনে আসছে টোবিন আর বেয়ার্ড। লেফটেন্যান্ট সাইমন চলেছে ইয়াসীনের পাশাপাশি। পায়ে চোট লাগায় সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটছে সে।
পথে কোন ইন্ডিয়ান দেখা গেল না। ওয়াটাহোলের চারপাশের বালিতে অনেক পায়ের ছাপ। কিন্তু সেখানেও নেই কোন ইন্ডিয়ান। বোতলে পানি ভরে নিল সবাই। ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো। এবারের গন্তব্য কাট স্প্রিং।
এযাত্রাও ইন্ডিয়ানদের দেখা মিলল না। কাট প্রিং-এ নির্বিঘ্নে পৌঁছে গেল দল।
এতটুকু পথ এসেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সৈন্যরা। গত দুদিনের তৃষ্ণা দুর্বল করে দিয়েছে ওদের। রাতের জন্যে এখানে বিশ্রাম নেবার সিদ্ধান্ত নিল ইয়াসীন। ঘোড়াটাকে খুব কাছে রাখতে হবে আমাদের। লেফটেন্যান্টকে বলল সে। রাতের আঁধারে ওটা যদি চুরি করে নিয়ে যায় ওরা-বিপদে পড়ব সবাই।
ঝলসানো দুপুরের পর দীর্ঘস্থায়ী হলো না বিকেল। রাত নামল। শীতল, পরিচ্ছন্ন এবং নীরব একটা রাত। হাওয়া নেই। আশেপাশে ছড়িয়ে আছে ছোটবড় গ্র্যানিট পাথর। ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হলে কভার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে ওগুলো।
ছোট্ট একটা চুলো জ্বালানো হলো কফি এবং সুপ তৈরি করার জন্যে। খাওয়া-দাওয়া সেরে নিভিয়ে দেয়া হলো আগুন। ঘুমিয়ে পড়ল সবাই।
কিছুক্ষণ পর ঘুম ভেঙে গেল ইয়াসীনের। উঠে পাহারারত সৈনিক দুজনকে দেখতে গেল সে ও একজন ঝিমাচ্ছে। তাকে ঘুমোতে পাঠাল। নিজেই পাহারা দেবে বাকি রাত।
একটা পাথরখণ্ডের গায়ে ঠেস দিয়ে বসল ইয়াসীন। পাশেই আর একটা পাথরখণ্ডে হেলান দিয়ে বসে আছে উইলী। কোন শব্দ শুনতে পেয়েছ? জিজ্ঞাসা করল তাকে।
না…তবে আমার মনে হয় কাছে পিঠেই আছে ওরা।
আছে, বলল ইয়াসীন। অস্বস্তি তাড়াতে প্রসঙ্গ পাল্টাল ও। মিনেসোটায় কী করতে তুমি?
উত্তর দিতে অনেকক্ষণ সময় নিল উইলী। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ছেলেবেলায় কাজ করতাম একটা মিলে। তারপর নিজের চেষ্টায় একটা স্টোর গড়ে তুলেছিলাম। ভালই আয় উন্নতি হত। কিন্তু ধ্বংস হয়ে গেল সব। লিটল ক্রো একদিন পাদ্রীর ছদ্মবেশে এল শহরে। গির্জায় সকালের প্রার্থনায় সবার সাথে অংশ নিল। প্রার্থনা শেষে ফিরে গিয়ে রংচং মেখে প্রস্তুত হলো গোত্রের সবাইকে নিয়ে। বিকেলের দিকে সিউ ইন্ডিয়ানদের প্রচণ্ড আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গেল আমাদের শহরটা। অধিকাংশ লোক মারা পড়ল। আমার স্টোরটা ছাই হয়ে গেল পুড়ে। আমি আর আমার স্ত্রী আশ্রয় নিয়েছিলাম গির্জার নীচে একটা গোপন কুঠুরিতে। নইলে বাঁচতে পারতাম না।
তোমার স্ত্রী কি এখনও মিনেসোটায়?
না। ইন্ডিয়ানদের আক্রমণে ভীষণ ভয় পায় সে। আমাকে ছেড়ে তার মায়ের কাছে ফিরে যায়, পুবের একটা শহরে। অনেক সেধেছিলাম আমার সাথে থাকার জন্যে। কিছুদিনের মধ্যে আরও বড় একটা স্টোর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুতেই আমার ওপর ভরসা রাখতে পারল না মেয়েটা। চলে গেল। কপর্দকহীন কোন মানুষের ওপর ভরসা রাখতে পারে না মেয়েরা।
তারপর থেকে আর্মিতেই আছ, তাই না?
কী করব বলো। আবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল উইলী। মানুষকে কিছু একটা নিয়ে বাঁচতে হয়। তবে আর বেশিদিন থাকব না আর্মিতে। সোনার নদীটা যদি খুঁজে পাই..বড় একটা স্টোর গড়ে তুলব। মেয়েটাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেব কী ভুলটাই না সে করেছিল!
আনমনে হাসল ইয়াসীন। ভাবল: প্রতিটি সৈনিকেরই নিজস্ব কিছু স্বপ্ন থাকে।
উইলীর কাছ থেকে উঠে গেল ও। ঘুরে দেখতে হবে চারপাশ। যে কোন দিক থেকে হামলা চালাতে পারে ইন্ডিয়ানরা।
বারবার মনে আসছে উইলীর কথাগুলো। সে-ও তা হলে সোনার নদীটা নিয়ে স্বপ্ন দেখছে!
হঠাৎ কেমন যেন খটকা লাগল মনে। কিছু একটা যেন বারবার এড়িয়ে যাচ্ছে সে। চকিতে মনে পড়ল সেই ম্যাপটার কথা।ঠিক এই জায়গাটার উল্লেখ আছে ম্যাপে। সব কিছু বিশদভাবে দেখানো হয়নি ম্যাপটাতে। কিন্তু স্পষ্ট বুঝতে পারল ইয়াসীন, কাছেই কোথাও আছে সোনার একটা নদী। হয়তো আরও কিছুটা পুবে।
<