দালানের পেছনে এসে অন্ধকার ছায়ায় কাঁধের ওপর থেকে হেলারের অচেতনদেহ নামিয়ে ওর ওপর ঝুঁকে পড়লো কলিন।

বেশি জোরে মেরে ফেললাম না তো। বিব্রত কণ্ঠে বললো জেলারম্যান।

না না, দেখো, এখুনি চোখ মেলে তাকাবে,সোজা হয়ে দাড়িয়ে বললো কলিন। হনডো, ওপাশে চলে যাও তুমি, রাস্তার দিকে কড়া নজর রাখে, ও হাঁটার মতো সামলে উঠুক, ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, বয়ে নিতে গেলে আবার সবার চোখে পড়ে যাবো।

ভূতের মতো নিঃশব্দে চলে গেল হনডো স্টার্ন।

আসলে এত জোরে মারতে চাইনি, আবার বললো জেলার ম্যান।

হাসলে কলিন। ভুলে যাও, টেরি। শিগগিরই আপসোস করবে আরো জোরে মারনি বলে।

অপেক্ষা করতে লাগলো কলিন। অবশেষে ককিয়ে উঠলো হেলার, উঠে বসতে গিয়ে ব্যর্থ হলো প্রথমে, পরের চেষ্টায় উঠে বসতে পারলো, বিড়বিড় করে বকতে লাগলো আপনমনে।

কি অবস্থা? জানতে চাইলে কলিন।

কি অবস্থা মানে? ঢোক গিললো হেলার, বাড়ি খেলাম কিসের সঙ্গে?

গান ব্যারেল। তোমার কপাল ভালো, বুলেটের বাড়ি খাওনি।

অবশেষে সংবিৎ ফিরে পেলো হেলার, ক্রোধে পাথরের মতো কঠিন হয়ে উঠলোতার চেহারা। কলিন, এ-অন্যায়, বর্বরতা! আমি তো কিছুই বুঝছি না!

বুঝবে, বললো কলিন। তা হাঁটতে পারবে এবার?

হাঁটতে-টাটতে পারবো না!

তাই নাকি? ফের মার খাবার সাধ?

সাহস আছে?

দেখতে চাও? ভয় করবো কেন?

লম্বা করে দম নিলো অ্যাটনি, জেলারম্যানের দিকে তাকালো, হাতে পিস্তল নাচাচ্ছে সে।

আমাকে নিয়ে কি করবে, কলিন?

একটু আগে যা বললাম, র‍্যাঞ্চে নিয়ে যাচ্ছি তোমায়, ওখানে একজনকে জেরা করা হবে, ওর জবানবন্দীর সাক্ষী হবে তুমি।

ব্যস?

অন্য কিছু কি বলেছি? বললো কলিন, তা, হেলার, স্বেচ্ছায় ঘোড়ায় চেপে যাবে না বয়ে নিয়ে যেতে হবে?

নিজেই যাচ্ছি, বাবা! বললো হেলার, হাঁটতে পারলে হয়!

ওকে দাড়াতে সাহায্য করলো কলিন, কোণ ঘুরে দেয়াল ঘেষে এগোলো ওরা, হনডো ইশারায় থামালো।

রাস্তার উল্টোদিকের ওই গাছটার আড়ালে কে যেন লুকিয়ে আছে, ফিসফিস করে বললো সে। হ্যারলড নাকি অন্য কেউ বুঝছি না।

গাছটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো কলিন, নিকষ অন্ধকার, কাউকে দেখা গেল না। অস্থির বোধ করলো ও। ঘোড়ার পিঠে চেপে বসার আগেই ধরা পড়ে গেলে মুশকিল, বেশ দুরে রেখে এসেছে ওগুলো।

তোমরা এখানে দাড়াও, বললো হনডে, আমি দেখি ওর পরিচয় বের করা যায় কিনা।

কলিন ভেবেছিলো অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে ঘুরপথে গাছটার দিকে যাবে হনডো, তেমন কিছু করলো না সে, নাক বরাবর হাঁটা ধরলো; বাড়ির সামনে গিয়ে কোণাকুণিভাবে রাস্তার উল্টোদিকে রওনা হলো। চারপাশে অন্ধকার, কিন্তু ওখানে যেই থাকুক হনডোকে ঠিক দেখতে পাবে। পিস্তল বের করে প্রস্তুত হলো কলিন।

টেরি, বললো ও। হেলারের দিকে চোখ রাখো।

দ্রুত সামনে এগোলো ও, হনডো এভাবে ঝুঁকি নেয়ায় কিছুটা ক্ষুব্ধ, ওকে বাধা দেয়া উচিত ছিলো, ভাবছে।

হঠাৎ কে যেন নড়ে উঠলো সেই গাছটার নিচে, অন্ধকার ছেড়ে বেরিয়ে এলো একটা ছায়ামূতি, হনডোর দিকে এগিয়ে এলো, এবার হ্যারলড লেভিটকে চিনতে পারলো কলিন, হাঁপ ছাড়লো ও।

হনডো আর হ্যারলড ফিরে আসার অপেক্ষা করলে কলিন। ওরা আসার পর বললো, এটা কি করলে, হনডো, হ্যারলডের জায়গায় শত্রুপক্ষের কেউ হতো যদি?

জানি না, বললো হনডো, কিন্তু হ্যারলডের বেলায় লুকোচুরি খেলার চেয়ে এরকম ঝুঁকি নেয়া ঢের ভালো অন্ধকারে হ্যারলডের সঙ্গে লুকোচুরির মানে সেধে ঝামেলায় জড়ানো।

খামোকা তেল দিয়ো না, বললো হ্যারলড, সপ্রতিভ কণ্ঠ।

হাতের পিঠে মুখ মুছলে কলিন, ঘামে ভিজে গেল হাত।

লেন হডসনের বাসায় এখন বিল ওয়ারেন, জানালো হ্যারলড।

বাড়িটা কোথায়?

বেশি দূরে না, চলো নিয়ে যাচ্ছি।

আর কেউ নেই ওখানে?

মায়ের কাছে থাকে মেয়েটা। মহিলা দর্জির কাজ করে, তুমি এখানে থাকতে মিসেস ফিশার একটা দোকান চালাতো, মনে আছে? সেটাই এখন চালায় ওরা।

হনডোর বাহুতে চাপড় দিলো কলিন, ‘তুমি’ আর টেরি হেলারকে ঘোড়ার কাছে নিয়ে যাও, দুজনের মাঝখানে রাখবে ওকে, লিভারি আস্তাবল পেরিয়ে গিয়ে তারপর রাস্তা পার হবে। আমি আর হ্যারলড যাচ্ছি বিল ওয়ারেনকে ধরে আনতে। হেলার যদি ঝামেলা করে ব্যবস্থা নেবে, মায়া দেখতে যেয়ো না।

হেলার যাতে শুনতে পায় সেজন্যে শেষের কথাগুলো একটু জোরেই বললো কলিন। দম দেয়া পুতুলের মতো হলো আর জেলারম্যানের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলে হেলার।

এখনো কোনো ঝামেলা বাধেনি, বললো হ্যারলড।

মাথা দোলালো কলিন। কিন্তু এখানে আসল কাজ বাকি।

শহরের প্রায় শেষ সীমায় একটা ছোট্ট বাড়ি, এখানেই মায়ের সঙ্গে থাকে এলেন হডসন। উঠোনের বেড়ার সঙ্গে একটা ঘোড়া বাধা আছে দেখতে পেলো কলিন, বিল ওয়ারেনের ঘোড়া। জানালায় পর্দা টানানো, ভেতরে আলো জ্বলছে বোঝা যায়।

সোজা গিয়ে দরজায় টোকা দেবো আমি, বললে কলিন। এলেন কিংবা ওর মা যদি দরজা খোলে, আমাকে চিনতে পারবে, আমি বলবো, বিলের কাছে একটা খবর পৌঁছে দিতে এসেছি। ওরা অবিশ্বাস করবে না; বিল দরজা খুলে বেরোলে সাথে সাথে ওর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বের করে নিয়ে আসবে।

শুনে তো মনে হচ্ছে পানির মত সহজ, বললো হ্যারলড।

দরজা পর্যন্ত একসঙ্গে এগোলো ওরা। কবাটে টোকা দিয়ে অপেক্ষায় রইলো কলিন, ডানহাত পিস্তলের বাটে। দেয়ালের সঙ্গে মিশে গেছে হ্যারলড।

ভেতর থেকে চাপা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, বিল। আমি দেখছি, মিসেস হডসন।

ঠিক এই সময় রাস্তায় ঘোড়ার খুরের শব্দ শুনলে কলিন, এদিকেই আসছে। ঝট করে কাধের ওপর দিয়ে পেছনে তাকালো, ঠিকই, কে যেন আসছে। অন্ধকারে একজন ঘোড়সওয়ারের অবয়ব দেখা গেল, ধীরে সুস্থে এগোচ্ছে এ-বাড়ির দিকে।

ধরা পড়া গেল কি? বিল আর নবাগত ঘোড়সওয়ারের মাঝখানে পড়ে যাচ্ছে। বিল দরজা খোলার আগেই সটকে পড়া যায়, কিন্তু নিরাপদ দূরত্বে যাবার আগেই ওই ঘোড়সওয়ার দেখে ফেলবে। কলিনের মাথায় চিন্তার ঝড়। ও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ঘোড়সওয়ার নিজের পথে চলে গেলে চিন্তা নেই, কিন্তু এখানে হাজির হলেই মুসিবত। কিন্তু নাহ, এখন অার পালানো সম্ভব নয়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে খেলায় নেমেছে ওর, বিল ওয়ারেনকে যেভাবেই হোক ধরে নিয়ে যেতে হবে।

হ্যারলড, ফিসফিসিয়ে বললো কলিন, ওই কোণে চলে যাও তুমি। ঘোড়াঅলাকে কাভার করবে, পারলে দুর করো ব্যাটাকে।

কথা মতো কোণের দিকে গেল হ্যারলড, এখন দরজা খুললে ঘরের আলো ওই পর্যন্ত যাবে না। গেটের কাছে পৌঁছুলো ঘোড় সওয়ার, ঠিক এই সময় ঘোরা শুরু করলো দরজার হাতল। ঘাড় ফেরানোর সাহস হলো না কলিনের, পেছন থেকে ওকে না-ও চিনতে পারে আগন্তুক। কিন্তু বিল ওয়ারেন ঠিকই চিনবে, তার মানে ওকেই সামলাতে হবে।

পিস্তলটা শরীরের সঙ্গে চেপে ধরলো কলিন। দরজা খুলে দাড়া লো বিল ওয়ারেন, বিস্ময়ে বিকৃত হয়ে গেল তার চেহারা, রক্ত সরে গেছে। হোলসটারের দিকে হাত বাড়াতে গিয়েও হাল ছেড়ে দিলো। ফোর্বস! প্রায় ককিয়ে উঠলো সে, আর কোনো কথা বের হলো না তার মুখ থেকে।

অ্যাই, বিল! গেট থেকে ডাকলো নবাগত ঘোড়সওয়ার। তোমার বাবা যেতে বলেছে, এখুনি। তোমার সঙ্গে ওটা আবার কে?

ওকে বিদেয় করো, অস্পষ্ট কণ্ঠে নির্দেশ দিলো কলিন, বলে দাও একটু পড়ে যাচ্ছে।

ঠোঁটজোড়া নড়ে উঠলো বিলের, কোনো শব্দ বেরোলো না। ঘর থেকে বেরিয়ে আসা লণ্ঠনের ম্লান আলোয় অসুস্থ দেখাচ্ছে, যেন পান্ডু রোগি। কপাল আর ঠোঁটে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

আরে, হলো কি, কি হচ্ছে? গেট থেকে সন্দিহান কণ্ঠে জানতে চাইলে আগন্তুক, ব্যাপারটা কি, বিল?

এখুনি পিস্তল বের করবে লোকটা, ভালো কলিন। পেটের ভেতর গুড়গুড় করে উঠলো, গলার কাছে মনে হচ্ছে কিযেন আটকে রয়েছে। ঘাম জমে উঠেছে কপালে। হ্যারলড, বললো ও, ওই ব্যাটাকে দূর করে।

কোণের আবছা অন্ধকার ছেড়ে এলে হ্যারলড লেভিট, হাতে উদ্যত পিস্তল। ফিরে যাও, রয়েস! বিলকে নিয়ে একটু পরেই আসছি আমরা।

নিমেষে উঠে এলো হ্যারলডের পিস্তল, আগুন ওগরালো। গেটের ওখান থেকে ছোড়া গুলির শব্দ শুনতে পেলো কলিন। তীব্র কর্কশ কণ্ঠে আর্তনাদ করে উঠলো রয়েস। আগেই ঘোড় ঘুরিয়ে নিয়েছিলো বোধ হয়, কারণ পরক্ষণে ছুটন্ত ঘোড়ার খুরের শব্দ উঠলো, মিলিয়ে গেল ক্রমশ।

ঘুরে তাকানোর ইচ্ছে বহু কষ্টে দমন করে রেখেছে কলিন। বিল কে কাভার করতে হচ্ছে, চোখ সরানোর উপায় নেই। বিলের পেছনে এলেন হডসন আর তার মায়ের উপস্থিতি টের পেয়েছিলো কলিন, গোলাগুলি শুরু হবার আগ মুহূর্তে সরে গেছে। এখন হয়তো কোনো এক কোণে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে কিংবা পেছন দরজা গলে বেরিয়ে গেছে।

এবার এখান থেকে পালানো উচিত, ভাবলো কলিন, সম্ভব হলে ওয়াগোনার ছেড়েই চলে যেতে হবে। দরজার কাছ থেকে সরে এলো ও, ইশারা করলো বিলকে, চলো, বললো, আমাদের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছো তুমি।

আমি–কোথায়? এভাবে বাঁচতে পারবে না, ফোর্বস।

চেষ্টা করতে দোষ কি, বললো কলিন। এখন বলে ফেলো, এখানে মরতে চাও, নাকি বেঁচে থাকার একটা সুযোগ নেবে? জলদি।

পিস্তল উঁচু করলো ও, ট্রিগারে চেপে বসলো তর্জনী। কলিনের চেহারা দেখে বিলের স্থির বিশ্বাস জন্মালে ঠিক ট্রিগার টেনে দেবে ও। বিনা বাক্যব্যয়ে বারান্দায় বেরিয়ে এলো সে। ওর হোলসটার থেকে পিস্তল বের করে পকেটে ঢোকালে কলিন, পাশে এসে দাঁড়ালো হ্যারলড।

হেনরী রয়েস এসেছিলো, বললো সে, আমার গুলিটা লেগেছে যদিও, কিন্তু তেমন চোট পায়নি বোধ হয়, তাহলে স্যাডল থেকে পড়ে যেতো। বেশি সময় নেই হাতে, একটু পরেই ফিরে আসবে ব্যাটা।

তার আগেই আমরা ভাগছি, বললে কলিন। বিলের ঘোড়া থেকে দড়িটা নিয়ে এসো, ওর হাত দুটো পেছনে নিয়ে বাঁধে, তারপর ঠেলে তুলে দাও স্যাডলে। ওকে নিয়ে শহর থেকে প্রথমে পুবে যাবো আমি, তারপর ঘুরে নদীর পশ্চিম কিনারে আসবো। তুমি অন্যদের সঙ্গে করে ওখানে চলে এসো। আসার পথে যেখান টায় নদী পার হয়েছি ওখানেই একসঙ্গে জড়ো হব আমরা।

বিলের ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেল হ্যারলড।

বাবা, তোমাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে, গজগজ করে বললো বিল। বাবাকে চেনো না। তোমার সঙ্গে ওর—

চলো, মিয়া, বললে কলিন, পিস্তল দিয়ে খোঁচা দিলো বিলের কিডনিতে।

মাঝরাতের অনেক পরে দুই বন্দীসহ ফোর্বস র‍্যাঞ্চে পৌঁছুলো ওরা। একটা দল ওদের ধাওয়া করার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু ওরা শেষ পর্যন্ত কোথায় খসে পড়েছে জানে না কলিন। বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে ওর। সকাল হলেই ওদের ট্রেইল পেয়ে যাবে ওয়ারেনরা, এখানে পৌঁছে যেতে দেরি হবে না। সম্ভবত দুপুরের আগেই এসে পড়বে অতিথিরা, অবশ্য ততক্ষণে এখান থেকে ওরা উধাও হয়ে যাবে।

আকাশে মেঘ জমছে। বাতাসে, ঠাণ্ডা একটা ভাব। আবার ঝড় আসতে পারে, তবে তার দেরি আছে, বৃষ্টিতে আবার ট্রেইল মুছে যাবার আশা না করাই ভালো।

উঠোনে ওদের সঙ্গে মিলিত হলো শেরিডান। কলিনকে এক পাশে নিয়ে এলো সে। একটা কাজ করে ফেলেছি, ঠিক হয়নি বোধ হয়, উৎকণ্ঠার সঙ্গে বললো, কিন্তু কি করবো ওকে আটকে রাখা ছাড়া উপায় ছিলো না, ভদ্রমহিলা ব্যাপারটা সুনজরে দেখছে না।

ভদ্রমহিলা? কাকে আবার?

বেলিনডা গ্রেবার।

বেলিনডা, এখানে?

হ্যাঁ, র‍্যাঞ্চ হাউসে। এখন ঘুমাচ্ছে অবশ্য, কিন্তু যতক্ষণ জেগে ছিলো এক মুহূর্তের জন্যেও থামেনি, গালাগালি করে ভূত ছাড়িয়েছে আমার। যতটা মনে হয় তত সোজা মানুষ না ও।

এখানে এলো কিভাবে? চার্লস-এর র‍্যাঞ্চ থেকে শহরে যাচ্ছিলো, যাবার পথে ডার্ক পিটের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলো-ডাক পিট এক সময় গ্রেবারের ওখানে কাজ করতো বুঝতেই পারছে ডার্ক পিটের চেহারা দেখে সন্দিহান হয়ে ওঠে সে, আমি টের পেয়ে ভাবলাম আটকে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নইলে হয়তো ওয়াগোনারে গিয়ে যার তার কাছে বলে বসতো।

গলা খুলে হাসতে ইচ্ছে করছে কলিনের, তবু গম্ভীরভাবে মাথা দোলালো, বেচারা শেরিডান। কাজটা অবশ্য খারাপ করেনি।

বারান্দার দরজা খোলার শব্দ পেলো কলিন, ম্লান আলোয় বেলিনডার ছিপছিপে কাঠামো চোখে পড়লো। বারান্দার কিনারে এসে কোরালের দিকে তাকালো সে। ওখানে ঘোড়ার পিঠ থেকে স্যাডল খসাচ্ছে সবাই।

ফোর্বস। চিৎকার করে ডাকলো বেলিনডা, ফোর্বস, তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই আমি।

আসছি! বললো কলিন।

আবার কোরালে ফিরে গেল ও, হ্যারলডকে খুঁজে বের করলো। হেলার আর বিলকে ঘরে নিয়ে জেরা করার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু বেলিন্ডা থাকায় এখন আর তা সম্ভব নয়।

বেলিনডা আবার কোত্থেকে উদয় হলো! গজগজ করে উঠলো হ্যারলড।

চার্লস রেডফিলডের র‍্যাঞ্চ থেকে, শহরে যাবার পথে এখানে ঢু মারতে এসেছিলো। ওয়ারেন আর হেলারকে বরং বার্ন-এ নিয়ে যাও তোমরা, বাধন খুলে দিয়ো না যেন। বেলিনডার সঙ্গে কথা বলেই আসছি আমি।

বিল ওয়ারেনকে ধোলাই শুরু করবো?

কেন নয়?

ঠিক জানো হামলার সময় সে ছিলো।

লিনডা বলেছে।

সেরাতে টম ক্রসেন নামে একটা ছেলেও মারা গিয়েছিলো–মাত্র সতেরো বছরের টগবগে তরুণ, এতো ভালো ছেলে আর হয় না, খুব মন দিয়ে কাজ করতো। কোনো সময় ‘না’ করতো না। বুদ্ধিমান, ধীর-স্থির স্বভাবের ছিলো ও; ছেলেটাকে আমার খুব ভালো লাগতো, সবাই পছন্দ করতো ওকে–বেচারা–জীবন শুরু করার আগেই ওকে হত্যা করা হলো।

হাত বাড়িয়ে হ্যারলডের কাধ স্পর্শ করলে কলিন।

সামলে। আমি নিরেট তথ্য চাই, যেটা প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগানো যাবে। বদলা নেবার সময় এখনো আসেনি।

জানি।

কথাটা একটু খেয়াল রেখো।

ওয়ারেন রাইডাররা আসার আগে কতটা সময় পাবো আমরা?

কাঁধ ঝাঁকালো কলিন।

ঠিক আছে। যাও, তাড়াতাড়ি বেলিনডার সঙ্গে কথা সেরে আসো।

আচ্ছা, বললো কলিন।

ঘুরে ধীর পায়ে র‍্যাঞ্চ হাউসের দিকে এগিয়ে গেল কলিন, বেলিনডার ছায়ামূতির দিকে তাকিয়ে মৃদু উত্তেজনা বোধ করলো।

<

Super User