প্রতি পদক্ষেপে প্রাণ বেরিয়ে যেতে চাইছে ক্লিফের, দেহের প্রতি ইঞ্চিতে চোট পেয়েছে, অসাড় হয়ে গেছে পেশীগুলো, তারপরও ব্যথা লাগছে। নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাঁজরে ভাঙা হাড়ের খোঁচা লাগছে।
জ্যাকব ফ্যারেলের রাস্তা বরাবর এগোল ওরা। আক্রান্ত হওয়ার জায়গাটা পেরোনোর সময় রাগে কেঁপে উঠল ক্লিফ। বাবার উদ্দেশে বলল, আচ্ছা বাবা, শহরের লোকজন হঠাৎ এমন শুরু করল কেন?
কাঁধে শয়তান চেপেছে, বলল জ্যাকব ফ্যারেল।
জনতার এমন জঙ্গী চেহারা আগে দেখেছ?
হ্যাঁ।
কোথায়, এখানে?
না, মেক্সিকোয়।
কী ঘটেছিল?
যা হয়, তিক্ত শোনাল জ্যাকব ফ্যারেলের কণ্ঠস্বর, একটা মেয়েকে হত্যার অভিযোগে শহরের লোকজন মিলে এক লোককে ফ্লাগ পোলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। কাঁধ ঝাঁকাল জ্যাকর ফ্যারেল। লোকটা সত্যিই অপরাধী কিনা তা আর জানা যায় নি। জানার চেষ্টাও করে নি কেউ, আমি নির্দোষ! আমি নির্দোষ! বলতে বলতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিল লোকটা।
ওকে যারা ফাঁসি দিয়েছিল তাদের কিছু হয় নি?
শাস্তি পেয়েছে কিনা? না, কারোই সাজা হয় নি, কিন্তু অনুশোচনায় জ্বলে মরেছে সবাই। পর পর তিনদিন খুঁটির সঙ্গে ঝুলেছিল বেচারার লাশ, কারো নামানোর সাহস হয় নি।
জেলহাউসের দিক থেকে চিৎকার ভেসে এল, অস্পষ্ট।
জলদি চলো! উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল ক্লিফ। একটানে হোলস্টার থেকে পিস্তল বের করল ও, ধুলো ঝাড়ল, ফু দিয়ে ব্যারেল পরিষ্কার করল।
ভেবেছে, আবার বলল ক্লিফ, আমাকে পথ থেকে সরানো গেছে! ওরা ভালো করে জানে, ওদের ঠেকানোর মুরোদ স্টোনের নেই।
তীব্র ব্যথা উপেক্ষা করে দ্রুত এগোল ক্লিফ, তাল মিলিয়ে চলার গতি বাড়াল জ্যাকব ফ্যারেল।
দেরি হয়ে গেল কিনা কে জানে! বলল ক্লিফ।
প্রয়োজনে ওদের ওপর গুলি চালাতে পারবে? জানতে চাইল বুড়ো ফ্যারেল।
ক্লিফ বুঝতে পারছে, বাবা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। একশো বার! তিক্ত কণ্ঠে জবাব দিল ও। এক ঘণ্টা আগে হয়তো পারতাম না, কিন্তু এখন পারব।
মার খেয়েছ বলে?
মাথা নাড়ল ক্লিফ। চিন্তিত কণ্ঠে বলল, সে জন্যে নয়। আমাকে মারার সময় ওদের চেহারা দেখেছি, সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছে তাই।
মোড় ঘুরে রাস্তায় উঠল জন। জনতাকে দেখা যাচ্ছে এখন জেলহাউসের সামনে এক থোকা জমাট অন্ধকার, মৃত জানোয়ারের লাশের ওপর জেঁকে বসেছে যেন সহস্র কীট। কয়েকজনের হাতে হারিকেন আছে। দূরত্ব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভীতিকর হয়ে উঠছে জনতার চিৎকার। অ্যাই, স্টোন। দরজা খোলো, হারামজাদা! ডেপুটি ব্যাটাকে তক্তা বানিয়ে দিয়েছি! একা কী করবে তুমি! ভেঙে চুরমার করার আগে জলদি দরজা খোলো!
সাড়া নেই স্টোনের। জেলের ভেতর অন্ধকার। কল্পনার চোখে দেখছে ক্লিফ, অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দরজা খুলবে কিনা ভেবে দ্বিধায় ভুগছে স্টোন। সেলে আটক আসামী দুজনের চেহারাও আন্দাজ করতে পারছে, ওদের চার চোখে এখন মৃত্যুর ছায়া।
বিষণ্ণ হাসি দেখা দিল ক্লিফের ঠোঁটে। রেগানের চেহারায় ভয়ের ছাপ, ভাবতেই আনন্দ বোধ করছে। কিন্তু জনতার হাতে তার মৃত্যু চায় না ও। ফিরিয়ে না এনে মরুভূমিতে হত্যা করলে রেগানের মৃত্যু কত আরামের হত আবার সেটা উপ্পলব্ধি করল ক্লিফ। এখানে, এখন নরক যন্ত্রণায় ভুগছে শয়তানটা, যেমন সোনিকে ভুগিয়েছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এরকম মানসিক উদ্বেগের মধ্যে কাটাতে হবে তাকে প্রতিটি মুহূর্ত।
জেলহাউস আর আধ ব্লক দূরে। যথাসম্ভব দ্রুত হাঁটছে ক্লিফ, ব্যথায় মনে হচ্ছে মরে যাবে।
এতক্ষণে বাবার অস্ত্রটার দিকে চোখ গেল ওর। পুরোনো একটা ডাবল ব্যারেল্ড শটগান। জ্যাকব ফ্যারেলের মুখের দিকে তাকাল ও। হারিকেনের ফ্যাকাসে আলোয় দেখল, হতাশার ছাপ মুছে গেছে ওর চেহারা থেকে, চোখ ছোট করে তাকিয়ে আছে সামনে, নিষ্পলক দৃষ্টি। ক্রুদ্ধ দেখাচ্ছে।
গুলি আছে? জানতে চাইল ক্লিফ।
হ্যাঁ।
তা হলে এক্ষুনি ওদের মাথার ওপর একটা ব্যারেল খালি করো!
শটগানের মাল উঁচু করল জ্যাকব, টিপ দিল ট্রিগারে। ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেল নলের মুখে, পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে গেল গোলা, জেলখানার দোতালার দেয়ালে লাগল, প্রতিধ্বনি উঠল চারদিকে। ঝনঝনাৎ শব্দে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল সবগুলো জানালার কাচ। চিৎকার ছাড়ল ক্লিফ, সরে এসো সবাই!
একসঙ্গে ঘুরে ফ্যারেলদের মুখোমুখি হলো জনতা, ওর কথায় আমল দিল না।
আবার চেঁচাল ক্লিফ, কই, এসো!
তবুও অবিচল জনতা, নির্মম। পাল্টা চিষ্কার করে উঠল কে যেন, ওকে পাত্তা দিয়ো না। ব্যাটাকে অ্যায়সা ধোলাই দিয়েছি, এখন কি করতে পারবে না…আর জ্যাকভ তো একটা অপদার্থ!
ওদের মাথার ওপর দিয়ে ওপাশের দালানটার দিকে আবার গুলি করো, বাবা। সঙ্গে সঙ্গে আবার রিলোড় করে নিয়ে বহুকটা।
ঘাড় ফিরিয়ে চাইল জ্যাকব ফ্যারেল, তারপর কাঁধের ওপর তুলল শটগান, গুলি করল। ফের ধোঁয়া দেখা দিল মালে। রাস্তার উল্টো দিকের দালানের দেয়ালে লাগল গোলাটা। আবার কাঁচ ভাঙার ঝনঝন শব্দে পিলে চমকে উঠল সবার।
এক মুহূর্ত অপচয় না করে শটগান রিলোড করল জ্যাকব ফ্যারেল। আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল প্রতিধ্বনির শব্দ।
আরও একবার হুঙ্কার ছাড়ল ক্লিফ। আবারও বলছি, জেলের সামনে থেকে সরে এসো! এরপর ঠিক ভিড়ের মাঝ বরাবর গুলি করব। যারা পেছনে রয়েছ, তাদের কিছু না হলেও সামনের, সবাই হাওয়ায় মিশে যাবে!
জটলা আর ফ্যারেলদের মাঝে এখন দশ ফুট ব্যবধান। সবচেয়ে কাছের লোকটার উদ্দেশে চেঁচিয়ে উঠল ক্লিফ। অ্যাই, তুমি!…হ্যাঁ, তোমাকে বলছি! এখন শটগানের একটা গোলা খেলে তোমাদের কি হবে জানো!
জনতার সামনে আলোড়ন দেখা দিল, সরতে শুরু করল ওঁরা। পেছনের লোকেরা পুতুলের মত অনুসরণ করল তাদের।
মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে গেল জেলের সামনের ফুটপাত। বিনা বাধায় জেলের সামনে এসে দাঁড়াল জ্যাকব ফ্যারেল আর ক্লিফ। সজোরে দরজায় লাথি হাঁকাল ক্লিফ। হাট করে খুলে গেল কবাটটা। আঁতকে উঠল ও। ঠেলে আগে জ্যাকবকে ঢুকিয়ে চট করে নিজেও ঢুকে পড়ল।
দরজা বন্ধ করে বলল, বাতি জ্বালো, স্টোন।
সাড়া নেই। পিস্তল হোলস্টারে রেখে দেশলাই বের করে দেয়ালে ঘষে জ্বালাল ক্লিফ। স্টোনকে দেখা গেল না কোথাও। ডেস্কের কাছে এসে হারিকেন জালাল ও। এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল, আসামীদের সঙ্গে সেলে আছে বোধ হয়।
স্টোনকে ঠিক বিশ্বাস করে না ও। কিন্তু সে আসামীদের সঙ্গে থাকলে, বুঝতে হবে ওদের বাঁচানোই তার উদ্দেশ্য; জনতার হাতে ছেড়ে দিতে চাইলে এখানেই বসে থাকত। এগিয়ে গিয়ে সেলরকের দরজা খুলল ক্লিফ। দেশলাই জ্বেলে জ্বলন্ত কাঠি উঁচু করে ধরল। দুপাশের দুটো সেলে রেগান আর হেলম্যান বসে, দুজনই আতঙ্কে শাদা হয়ে গেছে। কিন্তু স্টোন নেই।
অফিস রুমে ফিরে এল ক্লিফ। সেলরকের দরজা বন্ধ করল অস্বস্তি বোধ করছে ও। পরাজয় মেনে নেয়ার জন্যে তৈরি হয়েই ছিল জেস স্টোন। ক্লিফ আর জ্যাকবের আগমনে জনতার মনোযোগ অন্য দিকে সরার সুযোগে সটকে পড়েছে। কোথায় গেছে কে জানে!
স্টোন ভেগেছে, জ্যাকব ফ্যারেলের উদ্দেশে বলল ও।
দরজা খোলা দেখেই বুঝে নিয়েছি।
আরও দুটো হারিকেন জ্বালল ক্লিফ। ব্ল্যাক থেকে শটগান নামিয়ে গুলি ভরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বাইরে বেরিয়েই চট করে একপাশে সরে দাঁড়াল, যাতে ভেতরের আলোয় রাস্তা দেখা যায়।
জেল ভাঙার কথা ভুলে যাও! বজ্রকণ্ঠে হঙ্কার ছাড়ল ও। কেউ জেলে ঢোকার চেষ্টা করলে, লাশ ফেলে দেব! রেগানের জন্যে প্রাণ দিতে রাজি থাকলে এসো, যে কোনও সময়, আমার আপত্তি নেই!
আবার জেলের ভেতরে ঢুকল ক্লিফ, সশব্দে দরজা আটকে হুড়কো বসিয়ে দিল।
দরজার সঙ্গে শটগানটা ঠেস দিয়ে রাখল ও বাইরে নিরাপদ দূরত্ব থেকে চেঁচামেচি করছে জনতা।
এগিয়ে এসে খাটে বসল ক্লিফ। মলিন হাসি ফুটল ঠোঁটে, জ্যাকব ফ্যারেলের দিকে তাকাল। মেজাজটা একদম তেতে গেছে। এখনও কঠিন একটা রাত পড়ে আছে।
আর বোধ হয় ঝামেলা হবে না। এবার সবাই ঘরে ফিরে যাবে।
কাঁধ ঝাঁকাল ক্লিফ। গেলেই ভালো। এমনিই হয়রান হয়ে গেছি, তার ওপর রাত জাগতে হলে স্রেফ মারা পড়ব!
ক্লিফ জানে, মাত্র একটা কারণে জনতা হতোদ্যম হয়েছে জেক সরাসরি গুলি করবে শুনে অবিশ্বাস করে নি ওরা। সবাই জানে জেকের পক্ষে তা সম্ভব। জেলে ঢোকার চেষ্টা করলে মরতে হবে, এ কথাও বিশ্বাস করেছে জনতা।
চোখ বুজে ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করল ক্লিফ। ঘণ্টাখানেক ঘুমাতে পারলে হত। কিছুটা উপশম হত যন্ত্রণার, ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তাভাবনা করা যেত।
কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না ক্লিফ। হঠাৎ ধড়মড় করে উঠে বসল।
নাহ্, সব ঠিক আছে। বাতিগুলো জ্বলছে, দরজা আটকানো। ডেস্কে বসে রয়েছে জ্যাকব ফ্যারেল।
ক্লিফ জেগেছে দেখে উঠে দাঁড়াল প্রাক্তন শেরিফ। ককিয়ে উঠল চেয়ারটা। হঠাৎ বুঝতে পারল ক্লিফ, নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে বাইরে।
চলে গেছে ওরা? বাবাকে জিজ্ঞেস করল ও।
হ্যাঁ। ঘণ্টাখানেক হলো আওয়াজ নেই।
ঘুমিয়ে পড়েছি কতক্ষণ?
ঘড়ি দেখল জ্যাকব ফ্যারেল। এই ধরো, আড়াই ঘণ্টা?
স্টোনের কী খবর?
কোনও খবর নেই।
কফির গন্ধ পাচ্ছি যেন?
হ্যাঁ। বসো দিচ্ছি।
ঘরের কোণে পেট মোটা চুলোর দিকে এগোল জ্যাকব। কেতলি থেকে কাপে কফি ঢালল। পকেট হাতড়ে কাগজ আর তামাক বের করে সিগারেট রোল করতে শুরু করল ক্লিফ। মারামারির সময় কাগজ কুঁকড়ে গেছে, সমান করে নিতে হচ্ছে আঙুল দিয়ে। দরদর করে ঘামছে ও।
কফির পেয়ালা ক্লিফের হাতে দিল জেক। চুমুক দিল ও। হঠাৎ ঘোড়ার খুরের শব্দ ভেসে এল বাইরে থেকে। জেলহাউসে সামনে থামল ঘোড়াটা।
জ্যাকবের দিকে এক নজর চেয়ে ঘাড় ফিরিয়ে দরজার দিকে তাকাল। ক্লিফ। কে যেন ধাক্কা দিল বাটে!
উঠে দাঁড়াল ক্লিফ, দরজায় ঠেস দিয়ে রাখা শটগানটা তুলে নিল। দরজা খুলল প্রাক্তন শেরিফ। এক অচেনা লোক দাঁড়িয়ে বাইরে, বিশালদেহী, শশ্রুমণ্ডিত চেহারা। অনুমতির তোয়াক্কা না করে ভেতরে ঢুকে পড়ল সে। চট করে তার পেছনে এসে দরজা আটকে দিল জ্যাকব ফ্যারেল।
চুপচাপ দাঁড়াও, বলল ক্লিফ বাবা, কোমর থেকে ওর পিস্তলটা খুলে নাও।
আলগোছে আগন্তুকের পিস্তল বের করে নিল বুড়ো ফ্যারেল।
কে তুমি? জিজ্ঞেস করল ক্লিফ, কী চাও?
ম্যাট রেগান, ভারি এবং কর্কশ কণ্ঠস্বর। তোমরা আমার ভাইকে আটকে রেখেছ। ওর সঙ্গে দেখা করতে চাই। শার্টের পকেট থেকে একটা দোমড়ানো কাগজ বের করে ক্লিফকে দিল সে। ল্যুকের পাঠানো টেলিগ্রামটা।
মৃদু কাঁধ ঝাঁকাল ক্লিফ। অ বলল ও।
ক্লিফকে জরিপ করল ম্যাট রেগান। তোমার এই দশা কে করল?
ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ক্লিফ, শীতল দৃষ্টি। তোমার ভাইয়ের অপকর্মে এ শহরের লোকজন খেপে গেছে, ওকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে ওরা, আমি বাধা দিয়েছি।
বিচার হয়ে গেছে নাকি?
হয় নি, তবে হবে।
নাও হতে পারে।
সেল ব্লকের দরজা খুলে দিল ক্লিফ। যাও। একটা হারিকেন রেগানকে দিল। তারপর আটকে দিল দরজাটা।
কাউচে এসে বসল ও রেগানের সেল থেকে গলার আওয়াজ ভেসে আসছে।
আমার মতে, বলল জ্যাকব ফ্যারেল, নিরাপত্তার খাতিরে একেও আটকে রাখা উচিত। শহরবাসীরা পরিচয় জানতে পারলে
জবাব দিল না ক্লিফ, অপেক্ষা করতে লাগল। মিনিট দশেক পর বেরিয়ে এল ম্যাট রেগান, ডেস্কের ওপর হারিকেন রেখে জ্যাকবের দিকে তাকাল। আমার পিস্তল?
পিস্তলটা ছুঁড়ে দিল জ্যাকব, নিপুণ হাতে লুফে নিল ম্যাট। হোলস্টারে রেখে বলল, ক বলছে ও নির্দোষ।
এছাড়া আর কী বলবে? ব্যঙ্গঝরল ক্লিফের কণ্ঠে।
দোষ করলে আমার কাছে নিশ্চয়ই মিথ্যে বলত না?
কর্কশ কণ্ঠে হেসে উঠল ক্লিফ। তা বটে!
ও-ই দোষী প্রমাণ করতে পারবে?
সেটা আদালতেই দেখা যাবে।
দরজার দিকে পা বাড়াল ম্যাট রেগান, দোরগোড়ায় থেমে ঘাড় ফিরিয়ে ক্লিফের দিকে তাকাল। একটা কথা শোনন, ডেপুটি, ওকে ছেড়ে দাও, সকালের আগেই আমরা হাওয়া হয়ে যাব। আর না ছাড়লে…
শীতল দৃষ্টিতে ম্যাটের দিকে তাকাল ক্লিফ, মৃদু কণ্ঠে বলল, আমার হবু স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে ল্যুক। এত সহজে ওকে ছেড়ে দেব ভেবেছ? আমাকে হুমকি দিতে এসো না, স্রেফ আটকে রেখে দেব, বুঝেছ?
হুড়কো সরিয়ে দরজা খুলল ম্যাট রেগান, আবার থামল। আমাদের পরিবারটা বেশ বড় ডেপুটি, বলল সে। আমি ছাড়াও ল্যুকের আরও চারটে ভাই আছে। ওরাও আসবে। শিগগিরই।
ভয় দেখাচ্ছ? বলল ক্লিফ।
ভয়েরই কথা, ডেপুটি, ভয় পাওয়া উচিত। বেরিয়ে গেল রেগান।
দরজা আটকে হুড়কো বসাল ক্লিফ। ঘুরে বাবার মুখোমুখি হলো।
মেরুদণ্ডের কাছটায় শিরশির করছে।
<