প্রেম জান না, প্রেমের হাটে বোলাবোলা
ও তার কথায় দেখি ব্রহ্ম-আলাপ
মনে গলদ ষোলকলা।।
বেশ করে সে বোস্টমগিরি,
রস নাহি তার গুমর ভারি
হরিনামের ঢুঢু তারি
তিন গাছি তার জপের মালা।।
খাঁদা-বাঁধা ভূত চালানি
সেইটে বটে গণ্য জানি
ও তার সাধুর হাটের ঘুসঘুসানি
প্রেম গুণে পাও জ্বালা।।
তার মন মেতেছে মদন-রসে
সদাই থাকে সেই আবেশে|
লালন বলে, মিছে মিছে
লবলবানি প্রেম উতলা।। ——————–
লালন গীতিকা, পৃষ্ঠা ১১৭-১৮
কথান্তরঃ
প্রেম জানি না, প্রেমের হাটে বুলাবুলা
মুখে বলে কৃষ্ণ-আলা,
মনে মনে খায় মনকলা।।
ছান্দা বান্ধা ভূত চালানি
ঐটা বটে ঘোর না জানি
সাধুর হাটে ঘুসঘুসানি
একি রে আলাজালা।।
সঙ্গ করে রে বৈরাগ্যগিরি
রস নাই তার যষ্ঠি ভারি
হরির নামে ঢুঢু চারি
তিন গাছি জপের মালা।।
মন মাতোয়াল মদন-রসে
সদায় মরি ঐ আবেশে
লালন বলে, শুদ্ধ বেশে
রাবরাবানী প্রেমতলা।। –হারামণি, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১-৬২
হারামণি ৭ম খণ্ডে গানটি ৩৮৭ ও ৪১৯ পৃষ্ঠায় দুবার সংকলিত হয়েছে। উভয় খেত্রে কিছু কথান্তর আছে। যেমন সঞ্চারীর ১ম চরণ “সাধু করে রে বৈরাগীগিরি”, ভনিতা “লালন বলে, কত দরবেশ/রাবরাবানী প্রেমতলা”।
‘বাংলার বাউল ও বাউল গানে’ও বেশ কয়েক স্থানে কথান্তর আছে। এজন্য গানটি সম্পূর্ন উল্লেখ করা হল :
প্রেম না জেনে প্রেমের হাটে বুলাবুলা।
ও তার কথায় দেখি ব্রহ্ম আলাপ
মনে গলদ ষোলকলা।।
খাঁদা বাঁধা ভূত-ছাড়ানি
সেইটে বড় ভাল জানি
ও তার সাধুর হাটে ঘুসঘসানি
মিছে সে আলাপনা।।
বেশ করে সে বোস্টমগিরি
রস নাই তার গুমর ভারি
মুখে হরিনামে ডুবায় তরী
তিলক নেয় আর জপের মালা।।
তার মন মেতেছে মদন-রসে
সদায় থাকে সেই আবেশে
লালন বলে, মিছে মিছে
লোক-জানানী প্রেম-উতালা।। —ঐ, পৃষ্ঠা ১০৪-০৫
<