ওদের তিনজনকে শোয়েব বলেছিলো ঘন্টা দুয়েক ঘুমিয়ে নিতে, ও জেগে পাহারা দেবে। সুমনরা লেপের তলায় গিয়ে শুলেও অনেকক্ষণ কারও চোখেই ঘুম এলো না। ঘন্টা দেড়েক পর বাইরের বারান্দায় মকবুল আর ওর সঙ্গী পাল্লা দিয়ে নাক ডাকা শুরু করলো। কোনও কথা না বলে শোয়েব গায়ে হাত দিতেই ওদের তন্দ্রা কেটে গেলো। বুঝলো যাওয়ার সময় হয়েছে।
শোয়েব খুব সাবধানে বিছানা থেকে নেমে হুড়কো খুলে দরজাটা সামান্য ফাঁক করলো। একটুখানি শব্দ হলো। সামনে দেখলো মকবুলরা দুজন নয়, তিনজন। এমন বিচ্ছিরি ভাবে শুয়ে আছে বেরুতে হলে ওদের গা মাড়িয়ে যেতে হবে। হতাশ হয়ে শোয়েব আবার দরজা বন্ধ করে দিলো। সুমনদের কাছে গিয়ে বললো সিঁদ না কেটে বেরুনো যাবে না।
কিভাবে সিঁদ কাটবে অবাক হয়ে জানতে চাইলো রবি।
ঘরের ভেতর শাবল, খন্তা কিংবা মাটি খোঁড়া যায় এমন কিছু আছে কি না দেখতে হবে।
তিনজন খুব সাবধানে বিছানা থেকে নামলো। হারিকেনের সলতে সামান্য উস্কে দিয়ে তক্তপোষের তলায় ভালো মতো খুঁজলো। ঘরে কেন, আলমারির পেছনে সব কিছু খুঁজেও শাবল জাতীয় কিছু পেলো না। মনে মনে প্রমাদ গুণলো শোয়েব। একটা কিছু খুঁজে বের করতেই হবে। শুধু হাতে মাটি খোঁড়া যাবে না।
অনেকক্ষণ খোঁজার পর বেড়ার গায়ে গোজা একটা খুরপি চোখে পড়লো শোয়েবের। গায়ে জমা মর্চে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো বহুদিন ওটা কেউ ব্যবহার করেনি। নিঃশব্দে বেড়ার গা থেকে ওটা খুলে শোয়েব। ঝন্টু অবাক হয়ে জানতে চাইলো, এতে হবে।
উত্তেজনায় ওর গলায় সামান্য শব্দ হলো। ঠোঠে-আঙুল চেপে শোয়েব ওদের শব্দ করতে বারণ করলো। ফিশ ফিশ করে বললো, এ দিয়েই কাজ চালাতে হবে।
ওরা তিনজন অবাক হয়ে দেখলো বেড়ার নিচে মাটির মেঝেতে শোয়েব খুরপি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মাটি তুলতে লাগলো। ওদের বিস্মিত চোখের সামনে আধঘন্টার ভেতর ও বাইরে যাওয়ার মতো একটা গর্ত কেটে ফেললো। সুমন শুধু একটু পর পর দরজায় কান লাগিয়ে শোনার চেষ্টা করছিলো মকবুলদের নাক ডাকার ছন্দে কোনও পতন হয় কি না। শোয়েবদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত মকবুলরা তিনজন তিন রকম তালে পাল্লা দিয়ে নাক ডাকছিলো।
ঝামেলা বাধালো কুকুরগুলো। বড় রাস্তায় না ওঠা পর্যন্ত দুটো নেড়ি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে তারস্বরে ডাকছিলো। রবি একবার মাটির ঢেলা ছুঁড়ে মারতে নেড়ি দুটো এমন চি ৎকার শুরু করলো যে গ্রামের সব কটা কুকুর ওদের সঙ্গে গলা মেলালো।
প্রথমে ঘুম ভাঙলো মকবুলের। চোখ কচলে উঠে বসে টর্চ জ্বালালো। সঙ্গী দুজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বললো, মনে হচ্ছে চোর এসেছে। বিনা কারণে মাঝ রাতে এভাবে কুকুর ডাকার কথা নয়।
বাইরে তখন রীতিমতো হিম পড়ছে। চৈত্রের শেষে দিনে মোটামুটি গরম থাকলেও শেষ রাতে রীতিমতো শীত পড়ে। মকবুলের সঙ্গী দুজন খুবই অনিচ্ছার সঙ্গে উঠে বসলো। একজন বিড় বিড় করে বললো, কুকুরকে নিশি পেলে এরকম ডাকে।
আরেকজন বললো, হাজি বাড়িতে চুরি করতে আসবে কার এমন বুকের পাটা! জানে না বাড়িতে কটা বন্দুক আছে।
মকবুল বললো, ওঠ তোরা আমি গিয়ে বাড়ির চারপাশটা একটু ঘুরে আসি। তোরা ওখানে বসে থাক।
কাঁচারি ঘরে টাকা পয়সা কিছু থাকে না। যা কিছু চুরি বা ডাকাতি হতে পারে সব গৃহকর্তার শোয়ার ঘরের স্টিলের আলমারি আর লোহার সিন্দুকে রাখা। মকবুল সবার আগে বড় ঘরের চারপাশটা ঘুরে দেখলো। গাছের ওপরও টর্চের আলো ফেলে দেখলো কেউ সেখানে লুকিয়ে আছে কি না। বড় ঘর দেখে বিবিদের ঘর দেখলো। কোথাও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লো না। বুঝতে পারলো না কেন কুকুরগুলো এভাবে চিৎকার করছে।
ভাবতে গিয়ে মকবুলের একাত্তরের কথা মনে হলো। ওদের মনিব বলেন গণ্ডগোলের বছর। তখন গ্রামে যখন পাকিস্তানী সৈন্য কিংবা খাকি পোশাক পরা রাজাকার ঢুকতো কুকুরগুলো এভাবে চিৎকার করতো। হঠাৎ মনে হলো গ্রামে পুলিশ ঢোকেনি তো। ও জানে বাড়িতে এমন সব অস্ত্র আছে যেগুলোর লাইসেন্স পাওয়া যায় না। হুজুরের বড় ছেলে করিম মিয়া একবার বলেছিলো এসব অস্ত্র পুলিশ কিংবা আর্মির নজরে পড়লে বিপদ হবে। যদিও থানার দারোগা মাসে দু একবার এসে জেয়াফত খেয়ে যান তবু সাবধান থাকা ভালো। এই ভেবে মকবুল গৃহকর্তার ঘরের দরজায় সমানে কয়েক বার। টোকা দিয়ে বললো, হুজুর, একটু দরজা খোলেন।
পনেরো কুড়িটা কুকুর যেভাবে তারস্বরে ডাকছিলো গৃহকর্তারও ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। মকবুলের গলা শুনে উঠে দরজা খুললেন তিনি। ঘুম জড়ানো গলায় জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে।
মকবুল সতর্ক গলায় বললো, গ্রামে মনে হয় পুলিশ এসেছে। কুকুরের ডাক শুনে আমি প্রথমে চোর ভেবেছিলাম। উঠে ভালো মতো দেখেছি। চোর টোর কিছু চোখে পড়েনি।
শহর থেকে ছেলেরা যে এসেছে ওগুলো ঠিক মতো আছে তো?
জ্বী হুজুর আছে।
চল গিয়ে দেখি।
মকবুলকে সঙ্গে নিয়ে গৃহকর্তা কাঁচারি ঘরে এলেন। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিলো। কয়েকবার ডাকাডাকি করার পর গৃহকর্তা মকবুলকে বললেন, পিছনের জানালা খোলা কিনা দেখ।
কাঁচারি ঘরের পেছনে যেতেই জানালার নিচে কাটা সিঁদ মকবুলের চোখে পড়লো। আর্ত চিৎকার করে বললো, হুজুর জলদি আসেন। সর্বনাশ হয়ে গেছে।
গৃহকর্তা ব্যস্ত পায়ে ছুটে গেলেন সেখানে। সিঁদ দেখে মকবুলকে বললেন, এটার ভেতর দিয়ে ঘরে ঢোক। ছেঁড়াগুলোর জিনিসপত্র বোধহয় সব নিয়ে গেছে।
মকবুল খচমচ করে পাকা চোরদের মতো সিঁদের গর্ত দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে আবার চিৎকার করলো। হুজুর ঘরে কেউ নাই।
গৃহকর্তা ধমকে বললেন, দরজা খোল হারামজাদা।
মকবুল দরজা খুলতেই ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকলেন তিনি। টর্চের আলোয় দেখলেন মস্ত বিছানা খা খা করছে। ওদের ব্যাগ, আলনায় রাখা জামা কাপড় কিছুই নেই। দাঁত কিড়মিড় করে বললেন, ইবলিশগুলো সিঁদ কেটে পালিয়েছে। তোরা নিশ্চয় নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলি। বাস করে মকবুলের গালে এক প্রচণ্ড চড় বসিয়ে দিলেন তিনি। নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলি! বলে মকবুলের সঙ্গে সন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চাকর দুটোকে দুটো লাথি মারলেন।
দূরে তখনও তারস্বরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছিলো। মকবুলকে তিনি ধমক দিয়ে বললেন, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিস নাকি। হোন্ডায় করে জলদি যা বজ্জাতগুলো মনে হয় বেশি দূর যেতে পারেনি।
মকবুল ছুটে বেরুতে যাবে, গৃহকর্তা আবার ওকে ধমক দিয়ে ডাকলেন, খালি হাতে কোথায় যাচ্ছিস হারামি। মতিউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে যা । তোর কাছেও পিস্তল রাখবি। ধাড়িটাকে যেভাবে পারিস আমার সামনে হাজির করবি, শুধু জানে মারবি না।
মতিউর রহমান এ বাড়িতে জায়গীর থাকে, কক্সবাজার কলেজে পড়ে আর সৎ লোকের শাসন চাই বলে কলেজের ছেলেদের হাত পায়ের রগ কাটে।
মকবুলরা চলে যাওয়ার পর হতাশ হয়ে গৃহকর্তা তক্তপোষের ওপর বসলেন। তিনি ভালো মনে করেই ছেলেগুলোকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। ভাগ্যিস রাতে চেয়ারম্যান এসেছিলেন। ধাড়ি ছেলেটা নাকি ইউনিভার্সিটি থেকে ওদের দলের খুবই মূল্যবান আর গোপন দলিল চুরি করে পালাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে উত্তরে ফেণী আর দক্ষিণে কক্সবাজার পর্যন্ত দলের সবগুলো ঘাঁটিতে খবর দেয়া হয়েছে। ওপর থেকে বলা হয়েছে, এই দলিলগুলো উদ্ধার করার জন্য যদি দশটাকেও মারতে হয় মারবে, যে কোনও মূল্যে কাগজগুলো পেতে হবে। এই দলের এটাই একটা সুবিধে। ওপর থেকে আসা যে কোনও হুকুম কর্মীরা বিনা প্রশ্নে তামিল করে।
.
গৃহকর্তা যখন শোয়েবদের কিভাবে কজা করবেন এ নিয়ে আকাশ পাতাল ভাবছেন তখন ওরা চারজন অন্ধকার হাইওয়ে ধরে কক্সবাজারের দিকে দৌড়াচ্ছিলো। মিনিট পনেরো দৌড়োনোর পর অন্যরা ক্লান্ত না হলেও সুমনের হাঁপ ধরে গেলো। ঝন্টু আর। রবির এক ঘন্টা দৌড়ের অভ্যাস আছে। স্কুলে থাকতে শোয়েবও এ্যানুয়াল স্পোর্টস-এ নাম লেখাতো। সুমন মনে মনে ভাবলো ঢাকা ফেরার পর সকালে ঝন্টুর সঙ্গে দৌড় প্র্যাকটিস করবে। বহুদিন ঝন্টু ওকে বলেছে পাত্তা দেয়নি। এখন ওর মনে হচ্ছে বডি ফিট রাখাটা কত দরকার।
শেষের দিকে সুমন যেভাবে টেনে টেনে নিঃশ্বাস ফেলছিলো–ঝন্টুর চোখ পড়লো। দৌড়ের গতি কমিয়ে বললো, একটু বিশ্রাম নেয়া দরকার শোয়েব ভাই।
শোয়েব এত তাড়াতাড়ি বিশ্রাম নেয়ার পক্ষপাতি ছিলো না। মকবুল আর তার দলবল ধাওয়া করছে কি না কে জানে। ওদের সঙ্গে ট্রেইনড কুকুরও থাকতে পারে। এত কিছু ভাববার পরও সুমনের অবস্থা দেখে বাধ্য হয়ে থামতে হলো শোয়েব আর রবিকে। চারপাশে তাকিয়ে শোয়েব বললো আমরা ওই পাথরটার আড়ালে বসতে পারি। হাইওয়ে ধরে কেউ আমাদের খুঁজতে বেরহলেও টের পাবে না।
কথা না বলে সবাই নিরবে শোয়েবেকে অনুসরণ করলো। দূর থেকে ওরা যেটাকে পাথর ভেবেছিলো ওটা ছিলো কারও পরিত্যক্ত বাড়ির উঁচু পাকা ভিটে। শুধু ভিটেটুকুই আছে, দেয়ালের কোনও চিহ্ন নেই। এদিকে জঙ্গলও বেশ ফাঁকা। হাইওয়ে থেকে চোখের আড়াল হলেও শোয়েবের কাছে জায়গাটা নিরাপদ মনে হলো না। কেউ যদি ওদের খুঁজতে বেরোয় এদিকে ঢু মারাটা বিচিত্র নয়। তারপরও রবির অবস্থা দেখে শোয়েব ওর আশঙ্কার কথা বলতে পারলো না।
এয়ার ব্যাগটা মাথার নিচে দিয়ে সুমন হাত পা মেলে শুয়ে পড়েছে। নিঃশ্বাস ফেলছে জোরে জোরে। শোয়েবের মনে হলো মিনিট পনেরো বিশ্রাম না নিলে ও হাঁটতে পারবে না।
পাঁচ মিনিটও হয়নি ওরা বিশ্রাম নেয়ার জন্য বসেছে দূরে মটর সাইকেলের শব্দ শোনা গেলো। একটু আগে শোয়েব ঘড়ি দেখেছে। রাত তখন আড়াইটা। এ সময় কোনও সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরুবে না। যে আসছে সে নিশ্চয় ওদের বন্ধু নয়। তবু কিছুই করার নেই। ভরসার কথা একটাই। হোন্ডায় করে দুজনের বেশি আসতে পারবে না। শোয়েবরা রয়েছে চারজন। কথাটা মনে হওয়াতে ও একটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে যাবে। তখনই ওর চোখের সামনে ভেসে উঠলো গভীর রাতে ছাত্রদের হল-এ ছাত্র শিবিরের গুণ্ডাদের অস্ত্র হাতে ছুটোছুটির দৃশ্য। হোন্ডায় যারা আসছে তাদের হাতে মেশিন পিস্তল না থাকুক দুটো রিভলভারও যদি থাকে শোয়েবরা নিরস্ত্র চারজন কিছুই করতে পারবে না।
নিজেকে এক রকম ভাগ্যের হাতে সপে দিয়ে কাঠ হয়ে বসেছিলো শোয়েব। শিবিরের ছেলেদের নৃশংসতার কথা সুমন, ঝন্টু আর রবি অতটা জানে না, যতটা জানে শোয়েব। তবে সুমনরা এটা বুঝে ফেলেছে শোয়েবকে যদি ওরা ধরতে পারে নির্ঘাত খুন করবে। শোয়েবের সঙ্গী হওয়ার জন্য ওদেরও ছেড়ে দেবে না।
ওদের সবাইকে সাময়িকভাবে উদ্বেগ থেকে রেহাই দিয়ে ভট ভট শব্দ করে হোন্ডাটা কক্সবাজারের দিকে চলে গেলো। বুকের ওপর তো চেপে বসা আতঙ্কের ভারি বোঝা থেকে কিছুক্ষণের জন্যে মুক্ত হলো শোয়েব। সুমন লম্বা একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো, এই যাত্রা জানে বেঁচে গেছি–কী বলো শোয়েব ভাই?
শোয়েব শুকনো হেসে বললো, কক্সবাজার না পৌঁছা পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না।
সুমন বললো রাতটুকু আমরা বনের ভেতর বিশ্রাম নিয়ে কাটাতে পারি। সকালে একবারে গাড়ি নিয়ে কক্সবাজার চলে যেতাম। আমার মনে হয় রাজা আলী মেকানিক নিয়ে সকালের আগে আসতে পারবে না।
ওদের কাছে দিন রাত সব সমান। শোয়েব শান্ত গলায় সুমনকে বললো, তুমি যা ভাবছো, ওরাও তোমার মতোই ভাববে। গাড়ির আশে পাশে ওদের পাহারাওয়ালা থাকবে। গাড়িতে বোমা জাতীয় কিছু ফিট করে রাখাটাও অসম্ভব নয়।
রবি ভয় পাওয়া গলায় জানতে চাইলো–তাহলে আমরা কক্সবাজার যাচ্ছি। কিভাবে?
হেঁটে। শোয়েব জবাব দিলো–রাতে যতটা পারি হাইওয়ে থেকে নেমে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এগিয়ে থাকবো। বাকি পথ দিনে ম্যানেজ করা যাবে।
মাঝ রাতে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটার প্রস্তাব রবির পছন্দ হলো না। কত দিনের পুরোনো জঙ্গল কে জানে। গাড়িতে আসার পথে লক্ষ্য করেছে কোনও কোনও গাছ এত পুরোনো যে গায়ে পুরু শ্যাওলা জমেছে। হিংস্র জন্তু জানোয়ার আর সাপখোপের কথা বাদ দিলেও এ ধরনের জঙ্গলেই অপদেবতারা থাকে। ওদের স্কুলের শুভদারঞ্জন স্যার বলেছেন বনের ভেতর অপদেবতারা কেউ গাছের চেহারা ধরে কেউ পাথর কিংবা পাহাড়ের চেহারা ধরে পড়ে থাকে। সিদ্ধ পুরুষ ছাড়া কেউ ওদের চিনতে পারেন না। বাগে পেলে ওরা মানুষের ঘাড় মটকে দেয় রক্ত শুষে নেয়। এসব কথা অবশ্য রবি সুমনরা বিশ্বাস করে না। গত কয়েক ঘন্টায় শোয়েবের সঙ্গে যতটুকু পরিচয় হয়েছে সেও শুনলে হেসে উড়িয়ে দেবে। খুবই অনিচ্ছার সঙ্গে অসহায় রবি ওদের সঙ্গী হলো।
বনের ভেতর দিয়ে হাঁটলেও ওরা দূরে হাইওয়ের দিকে লক্ষ্য রাখছিলো। হোন্ডায় চেপে যারা কক্সবাজারের দিকে গেছে ওরা যে কোন সময় ফিরে আসতে পারে। এবার এলে হয়তো দল আরও ভারি করে আসবে। চেয়ারম্যান যখন জামাতী গ্রামে ওদের ঘাঁটি বেশ শক্তই বলতে হবে। শোয়েব পত্রিকায় পড়েছে, নিজেও জানে চট্টগ্রাম আর পার্বত্য চট্টগ্রামে ওরা যথেষ্ট শক্তিশালী। ওকে যেভাবে ওরা খুঁজছে কতক্ষণ ওদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচবে আল্লা মালুম।
ও যা ভেবেছিলো–মিনিট দশেক পরই দক্ষিণের কক্সবাজারের দিক থেকে একটা হোন্ডা বেশ মন্থর গতিতে উত্তর দিকে গেলো। শব্দ শুনে ওরা বুঝতে পেরেছিলো এই হোন্ডাটাই একটু আগে ওদের পাশ কাটিয়ে কক্সবাজারের দিকে গিয়েছে।
হোন্ডার শব্দ মিলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝন্টু উত্তেজিত গলায় বললো, একটা জিনিস তোমরা লক্ষ্য করোনি। কী জিনিস? অবাক হয়ে জানতে চাইলো সুমন আর রবি। কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার সময় হোন্ডার লোক ছিল তিনজন, এখন দেখছি মাত্র একজন।
কি বলতে চাইছিস তুই?
হয় ওরা দুজন পথের দু পাশে অস্ত্র হাতে আমাদের আপেক্ষা করবে, নইলে সামনের যে গ্রামগুলো ওদের ঘাঁটি–সেখানে আগের মতো ইনফর্ম করবে।
তাহলে আমরা সামনে যাচ্ছি কেন?
শোয়েব বললো, ওদের চোখ এড়িয়ে যেভাবেই হোক আমাদের কক্সবাজার পৌঁছাতে হবে।
সুমন আবারও বললো, রাতটুকু অপেক্ষা করে সকালে গেলে হয় না শোয়েব ভাই? সকালে আমরা রাজা আলীকে না পেলেও বাসে কিংবা ট্রাকে লিফট নিয়ে কক্সবাজার যেতে পারি।
তোর কি হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে সুমন? জানতে চাইলো ঝন্টু।
হ্যাঁ, পা ব্যথা করছে?
সুমনের কথায় রবিও সায় জানালো, রাতটা মনে হয় বনের ভেতর কাটানোই ঠিক হবে।
শোয়েব বললো, ঠিক আছে, সামনের ওই কড়ই গাছের নিচে বসে রাতটুকু কাটিয়ে দেয়া যাবে। তবে সকালেও হাঁটতে হবে। সুমন হাইওয়েতে ওঠা আমি নিরাপদ মনে করছি না।
সুমন বললো, রাতে বিশ্রাম নিতে পারলে সকালে হাঁটতে মোটেই কষ্ট হবে না।
ঝন্টু আর সুমনের ব্যাগে চাদর ছিলো। ঝকড়া পুরোনো কড়ই গাছের নিচে ঘাসের ওপর চাদর বিছিয়ে বসলো সবাই। গাছের চেহারা দেখে অবশ্য রবির মনের ভেতর খুঁত খুঁত করছিলো। তবে রাতের বেলা জঙ্গলের ভেতর হাঁটতে গিয়ে পথ হারিয়ে যদি অশুভ কোনও শক্তির কোপে পড়ে সেই ভয়ে পুরোনো গাছ হলেও কড়ই তলাটাই নিরাপদ ওর মনে হলো। হাত ব্যাগের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লো রবি। ওর মনে হলো ঝন্টুরাজেগে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়া উচিৎ। সুমনের মতো ক্লান্ত না হলেও রবি আর ঝন্টুরও ঘুম পাচ্ছিলো। রাত যদিও শেষ হতে চলেছে–ঘুম ছিলো না শুধু শোয়েবের চোখে। সুমনদের কথা ভেবে নিজেকে ওর অপরাধী মনে হচ্ছিল। বেচারারা কক্সবাজার যাচ্ছিলো বেড়াতে। ও যদি পথের মাঝখানে ওদের গাড়িতে লিফট না নিতো এত সব ঝামেলা হতো না। এতক্ষণে ওদের কক্সবাজারের সার্কিট হাউসের নরম গদি মোড়া বিছানায় ঘুমোনোর কথা। একটু ইতস্তত করে শোয়েব মৃদু গলায় বললো, তোমরা কি আমার ওপর রাগ করেছে সুমন?
সুমন অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলো, এ কথা কেন বলছো শোয়েব ভাই?
আমার জন্য তোমাদের এত সব ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে দেখে আমার খুব খারাপ। লাগছে।
আমার কাছে পুরো ব্যাপারটা খুব রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে।
ঝন্টু সায় জানিয়ে বললো, কতগুলো গুণ্ডা, আউটল আমাদের খুঁজছে–ওয়েস্টার্ণ কাহিনীর মতোই রোমহর্ষক মনে হচ্ছে।
শুকনো হেসে শোয়েব বললো, ব্যাপারটা মোটেই রোমাঞ্চকর কিংবা ওয়েস্টার্ণ কাহিনীর মতো রোমহর্ষক নয়। জামাত শিবিরের গুন্ডাদের তোমরা চেনো না। আল্লার নাম নিয়ে এরা যে কোনও জঘন্য কাজ করতে পারে। মানুষ খুন করা, নয়তো হাত পায়ের রগ কেটে দেয়া এদের কাছে খুবই মামুলি ব্যাপার।
ঝন্টু ভয় পাওয়া গলায় বললো, ধরতে পারলে তোমাকে ওরা খুব মারধোর করবে, তাই না শোয়েব ভাই? শুধু মারধোর করে যদি ছেড়ে দেয় তাহলে বুঝতে হবে বনের বাঘ মাংশ ছেড়ে ঘাস খাওয়া শুরু করেছে। কথাটা বলে শোয়েব সবার মুখের ওপর একবার চোখ বুলিয়ে নিলো–ওরা মারধোর খুব একটা করে না। কম শাস্তি দিতে হলে হাত আর পায়ের রগ কেটে ছেড়ে দেয়, চিরজীবন যাতে পঙ্গু হয়ে থাকতে হয়। শাস্তির মাত্রা সামান্য বাড়লে কবজি থেকে হাত কেটে আলাদা করে ফেলে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওদের শত্রুদের ওরা প্রাণে মেরে ফেলতেই পছন্দ করে।
শোয়েবের কথা শুনে সুমন আর ঝন্টু আঁতকে উঠলো। ভাগ্যিস রবি ঘুমিয়ে পড়েছিলো। নইলে কয়েক রাতের জন্য ওর ঘুম হারাম হয়ে যেতো।
.
৬.
ভোরে শোয়েবের ডাকে সুমন, ঝন্টু আর রবির ঘুম ভাঙলো। ঝন্টু লক্ষ্য করলো শোয়েবের চোখে রাত জাগার ছাপ। বললো, তুমি নিশ্চয় সারা রাত এক ফোঁটাও ঘুমোওনি শোয়েব ভাই?
শোয়েব ম্লান হেসে বললো, ঘুম না এলে ঘুমোবো কিভাবে? একটু থেমে আপন মনে বললো, মনে হয় না আর কখনও স্বাভাবিক পরিবেশে ঘুমোতে পারবো।
শোয়েবের কথা হেসে উড়িয়ে দিলো ঝন্টু, তুমি যে কী বলল শোয়েব ভাই! তোমার সঙ্গে আমরা আরও তিনজন আছি, রাজা ভাইকে ধরলে চার জন। এটা কি মগের মুলুক!
রাতের অন্ধকারে কোনও সাধারণ বিপদকেও অনেক বড় মনে হয়, যা দিনের আলোয় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায়। তারপরও শোয়েব কিছুতেই দুশ্চিন্তার ভারি বোঝ মাথার ওপর থেকে নামাতে পারছিলো না। সুমন বললো, আমাদের এখনই রওনা হওয়া দরকার। কক্সবাজার পৌঁছে বাবাকে ফোন করে সব জানাতে হবে। আমাদের গাড়িটা উদ্ধারের জন্য ডিসিকে বলতে হবে।
রবি বললো, গাড়ির ভেতর শোয়েব ভাইর দরকারী সব কাগজ রয়েছে।
কাগজগুলো নিয়ে শোয়েব খুবই চিন্তিত ছিলো। ওর ভয় হচ্ছিলো টের পেলে ওরা গাড়িটা আস্ত রাখবে না। ভয়ের ভাবনা চেপে রেখে ঝন্টুদের বললো, চলো সবাই। সুমন ঠিকই বলেছে। দুপুরের আগেই আমাদের কক্সবাজার পৌঁছাতে হবে। তৈরি হওয়া মানে পাশের খালের পানিতে মুখ হাত ধুয়ে ব্যাগটা কাঁধে ফেলে দক্ষিণে যাত্রা আরম্ভ করা। আধঘন্টার ভেতর ওরা খিদে পেটে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ মুখো হাঁটা আরম্ভ করলো।
ঘন্টা খানেক হাঁটার পরও ওদের চোখে কোনও জনবসতি চোখে পড়লো না। ঝন্টু বলেছিলো বড় রাস্তার কাছাকাছি হাঁটতে। শোয়েব আপত্তি করেছে। বড় রাস্তা দিয়ে ওদের লোকজন নিশ্চয় সকাল থেকে যাওয়া আসা করছে। ওদের কারও চোখে পড়লে পালাবার আর উপায় থাকবে না।
রবি জিজ্ঞেস করলো, শোয়েব ভাই, আমরা ঠিক পথে যাচ্ছি তো? ক্ষিদের চোটে পেটের নাড়িভুড়ি হজম হয়ে যাচ্ছে।
শোয়েব চিন্তিত গলায় বললো, এদিকে আমি আগে কখনো আসিনি। তবে ম্যাপ সম্পর্কে আমার ধারণা খারাপ না। দক্ষিণে হাঁটলেই কক্সবাজার পৌঁছানো যাবে।
জঙ্গলের ভেতর উত্তর দক্ষিণ সবই আমার কাছে সমান মনে হচ্ছে। মন্তব্য করলো সুমন।
সকাল বেলা দক্ষিণে হাঁটতে গেলে সূর্য তোমার বাঁ পাশে থাকবে। বিপদ হবে সূর্য যখন মাথার ওপর থাকবে। তার আগে কোনও না কোনও গ্রাম চোখে পড়বেই। জঙ্গলের ভেতর গাছপালা কোথাও ঘন, কোথাও হালকা। মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গাও ওদের পেরুতে হচ্ছিলো। বোঝা যায় এক কালে সেখানে জঙ্গল ছিলো, লোকজন গাছ কেটে সাফ করে ফেলেছে। কাটা গাছের গোড়া দেখে মনে হয় কিছু সদ্য কাটা। সুমন বললো, জঙ্গলের ভেতর যারা চুরি করে গাছ কাটে ওদের গুলি করে মারা উচিৎ।
শোয়েব মৃদু হেসে বললো, গুলি পরে করলেও চলবে। আপাতত ওদের কারও বাড়িতে আশ্রয় পাওয়া দরকার। ক্ষিদে আমারও কম পায়নি।
সুমন ভুরু কুচকে বললো, তুমি বলতে চাইছে গাছ কাটা শয়তানদের বাড়িতে আশ্রয় নেবে?
শোয়েব কিছু বলার আগে রবি বললো, যে শয়তানই হোক যদি খেতে দেয় আমি ওর বাড়ি যেতে রাজি।
আমি কোনও চোরের বাড়িতে খাবো না।
ঠিক আছে, তুই কক্সবাজারে গিয়ে পোলাও কোর্মা খাস। আমরা সামনে যাকে পাবো তার কাছেই খাবার চাইবো।
ক্ষিদে সুমনেরও লেগেছিলো। তারপরও খাওয়ার জন্য রবির হ্যাংলায়মা ওর ভালো লাগলো না। ঝন্টুর ভাব সাব দেখে মনে হচ্ছে সেও রবির দলে। সুমন এ নিয়ে আর কথা বাড়িয়ে শোয়েবের পেছনে চুপচাপ হাঁটতে লগালো।
ঘন জঙ্গল পেরিয়ে ওরা খোলা এক মাঠে নেমেছে, ঠিক তখনই দূরে বন্দুকের গুলির শব্দ হলো। চারজন এক সঙ্গে থমকে দাঁড়ালো। সকলের চোখে প্রশ্ন। বুঝতে পারলো না আর সামনে এগুনো ঠিক হবে কি না। মিনিট খানেক পর আবার গুলির শব্দ হলো। শোয়েব চাপা গলায় বললো, পিছিয়ে এসো। খোলা জায়গায় থাকা ঠিক হবে না।
সুমন, ঝন্টু আর রবি কোনও কথা না বলে শোয়েবকে অনুসরণ করলো। সূর্য তখন ঠিক মাথার উপর। বাতাস না থাকাতে বেশ গরমই লাগছিলো। চৈত্রের রোদে অনেকক্ষণ একটানা হাঁটার পর থমকে দাঁড়ানোতে সবাই কুল কুল করে ঘামতে লাগলো। সবচেয়ে বেশি ঘামছিলো রবি যত না গরমে তার চেয়ে বেশি ভয়ে। কেউ কোনও কথা বলছে না দেখে ও চাপা গলায় বললো, তোমার কী মনে হচ্ছে শোয়েব ভাই? কারা গুলি করছে?
বুঝতে পারছি না কারা বিভ্রান্ত গলায় জবাব দিলো শোয়েব।
সুমন বললো কোনও শিকারী টিকারী নয়তো?
এই জঙ্গলে শিকার করার মতো কোনও জন্তু নেই। পূর্ব দিকের পাহাড়ের ওপার থেকে গুলির শব্দ এলে না হয় বুঝতাম কেউ শুয়র মারতে বেরিয়েছে।
পাহাড়ের ওপারে কারা শুয়র মারবে? প্রশ্ন করলো ঝন্টু।
পাহাড়ের উপজাতিদের অনেকে শুয়র খায়। ওরাই মারে।
গুলির শব্দ আসছিলো পশ্চিম দিক থেকে। মিনিট পাঁচেকের ভেতর আরও চার রাউন্ড গুলির শব্দ হলো। শোয়েব বললো, চলো আমরা পুব দিকে সরে যাই।
পুব দিকে মাইল দুয়েক দূরে উঁচু পাহাড়। জঙ্গল ওদিকে ক্রমশঃ ঘন হয়ে গেছে। জঙ্গলের ভেতর বুনো লতা, বেতের কাটা আর ঝোঁপ ঝাড় ঠেলে হাঁটতে হাঁটতে সুমন বললো, আমরা যে উল্টো দিকে যাচ্ছি আবার পথ চিনে ফিরে আসতে পারবো তো শোয়েব ভাই?
আকাশের সূর্য দেখে দিক ঠিক করবো। জবাব দিলো শোয়েব। আমি দেখতে চাই গুলি যারা ছুঁড়ছে তারা ওদের লোক কি না।
ওদের মানে?
কেন, জামাতীদের।
তোমার কি মনে হয় ওরা জঙ্গলের ভেতর আমাদের অনুসরণ করছে?
করাটা বিচিত্র কিছু নয়।
ওরা জানবে কী করে আমরা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছি।
ওদের আন্ডার এস্টিমেট কোরো না। ওরা এতক্ষণে বুঝে গেছে আমরা হাইওয়ে ধরে কক্সবাজার বা চট্রগ্রাম যাচ্ছি না। তাহলে সম্ভাবনা একটাই, আর সেটা হলো জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাওয়া। এটা ওদের না বোঝার কথা নয়।
ওরা যত হাঁটছিলো থেমে থেমে গুলির শব্দ ক্রমশঃ এগিয়ে আসছিলো। ঝন্টু বললো, ওরা আমাদের নিশ্চয় দেখতে পায়নি। অকারণে ওরা গুলি ছুড়ছে কেন?
ঝন্টুর কথা শুনে শোয়েব থমকে দাঁড়ালো। ওর চেহারা দেখে মনে হলো ভীষণ ভয় পেয়েছে। ফিশ ফিশ করে বললো, দাঁড়াও, মনে হচ্ছে ওরা আমাদের পুব দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। ওরা নিশ্চয় টের পেয়েছে। আমরা যে এদিকে কোথাও আছি।
উত্তেজিত গলায় সুমন বললো, ওরা যদি আমাদের পুব দিকে সরিয়ে নিতে চায় আমরা সেদিকে যাচ্ছি কেন? আমাদের উচিৎ দক্ষিণে যাওয়া।
দক্ষিণে গেলে ফাঁকা মাঠে গিয়ে পড়বে। তখন আর ওদের কষ্ট করে খুঁজতে হবে না।
ঝন্টু বললো, এখানে একটু দাঁড়াও শোয়েব ভাই। বুঝতে দাও গুলি করতে করতে কেউ এদিকে আসছে কিন না।
শোয়েব মাথা নেড়ে সায় জানালো। বেশ কিছুক্ষণ গুলির শব্দ শোনা গেলো না। রবি হাঁপ ছেড়ে বললো, মনে হচ্ছে যারা গুলি করছিলো ওরা চলে গেছে।
শোয়েব বললো, চলে যেতে পারে, আবার এদিকেও আসতে পারে। যদি মনে করে …..।
শোয়েবের কথা শেষ না হতেই, মনে হলো পুব দিক থেকে শুকনো পাতা মাড়িয়ে ঝোঁপ ঝাড় ঠেলে কি যেন ওদের দিকে এগিয়ে আসছে। ওদের চারজন সভয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইলো। মোটা এক সেগুন গাছের আড়ালে ছিলো ওরা। শব্দ শুনে মনে হচ্ছিলো কোনও বন্য প্রাণী ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। রবি কি যেন বলতে যাচ্ছিলো, শোয়েব ইশারায় ওকে চুপ থাকতে বললো।
কিছুক্ষণ পর সামনে ঝোঁপ ঠেলে যাকে বেরিয়ে আসতে দেখলো তার জন্য ওরা বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলো না। শোয়েবেরই বয়সী হবে, হালকা পাতলা রোগাটে গড়নের এক তরুণ ভীত সন্ত্রস্ত চোখে পেছনে আর ডাইনে বাঁয়ে তাকাতে তাকাতে ওদের দিকে এগিয়ে আসছিলো।
পরনে কালো প্যান্ট, গায়ে নীল জিনসের জ্যাটেক, চোখে বেশি পাওয়ারের চশমা, চুল উসকো খুসকো, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি–ছেলেটা সেগুন গাছের গায়ে ধাক্কা খেতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিলো। থমকে দাঁড়িয়ে প্রথমে চোখের সামনে গাছটাকে দেখলো। তারপরই শোয়েবদের ওপর চোখ পড়লো। শোয়েবরা চার জন বিস্মিত চোখে ছেলেটাকে দেখছিলো। ওদের চোখের সামনে ছেলেটার মুখ কাগজের মতো ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। মনে হলো চিড়িয়াখানার হিংস্র বাঘের খাঁচায় বুঝি ওকে কেউ নামিয়ে দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে যেন ও জ্ঞান হারাবে।
প্রথমে কথা বললো শোয়েব–আমাদের দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মনে হচ্ছে আপনি বিপদে পড়েছেন?
ছেলেটা কোনও রকমে ঢোক গিলে বললো, হ্যাঁ, আমাকে কিছু বাজে লোক তাড়া করছে।
বাজে লোক মানে ডাকাত?
সাধারণ ডাকাত নয়। তার চেয়েও ভয়ঙ্কর।
খুলে বলুন। অধৈর্য গলায় জানতে চাইলে শোয়েব। একটু ইতস্তত করে ছেলেটা বললো, এরা একটা পালিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে জড়িত।
পার্টি মানে? জামাতের কথা বলছেন?
হ্যাঁ জামাত শিবিরের গুন্ডারা আমাকে ধাওয়া করছে। ওর কথা শুনে ঝন্টু, রবি আর সুমন নিজেদের ভেতর দৃষ্টি বিনিময় করলো। শোয়েব বললো, শিবির কেন আপনাকে ধাওয়া করবে? আপনি কে?
আমার নাম মাহবুব। আমি কক্সবাজার কলেজের ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। দুদিন আগে ওরা আমাকে জোর করে ধরে এনে রাবেতা কমপ্লেক্স-এ একটা ঘরের ভেতর আটকে রেখেছিলো। আমি কাল রাতে জানালার শিক আলগা করে পালিয়ে এসেছি।
আপনাকে ধরে এনেছিলো কেন?
ওরা আমাদের কলেজের শহীদ মিনার ভেঙে ফেলেছিলো। তারপর আমরা অন্য সব ছাত্র সংগঠন মিলে ওদের মেরে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছিলাম। আমাকে একা বেকায়দায় পেয়ে ধরে এনেছিলো। একটু থেমে মাহবুব বললো, আপনারা কারা?
শোয়েব সামান্য হেসে মাহবুবের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো আমি আর আপনি একই নৌকার যাত্রী। আমার নাম শোয়েব। চিটাগং ইউনির্ভাটিতে পড়ি। শিবিরের গুন্ডারা আমাকেও খুঁজছে।
কেন? অবাক হয়ে জানতে চাইলো মাহবুব।
ওদের মৃত্যুবাণ আমার হাতে। এই বলে শোয়েব ওকে সংক্ষেপে ওর পালাবার কারণ বললো। তারপর সুমন, ঝন্টু আর রবিকে ওর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো।
মাহবুব সবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সামান্য হেসে বললো, এমন দুঃসময়ে আপনাদের পেয়ে মনে হচ্ছে আল্লা বুঝি আকাশ থেকে ফেরেশতা পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শোয়েব দু পা এগিয়ে মাহবুবকে বুকে জড়িয়ে ধরলো এখন থেকে আমরা বন্ধু। কী বলল মাহবুব?
মাহবুব আবেগ রুদ্ধ গলায় বললো, আমাকে বন্ধু ভাবার জন্য অনেক ধন্যবাদ শোয়েব।
সুমন মৃদু হেসে ঝন্টুকে বললো, আমরা তাহলে শোয়েব ভাইর মতো মাহবুব ভাইকেও তুমি বলবো।
নিশ্চয়ই তুমি বলবে। মাহবুবের মুখেও হাসি ফুটলো–আমার এখনও মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি।
রবি হেসে বললো, স্বপ্নের ভেতর ক্ষিদে পায় না মাহবুব ভাই। তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে দুদিন তুমি কিছু খাওনি।
ঠিক ধরেছো। কাল সন্ধ্যায় শুধু এক কাপ চা আর দুটো রুটি খেতে দিয়েছিলো।
তুমি সকালে ওদের নাশতার জন্য অপেক্ষা না করে রাতে পলিয়ে গেছে। তোমাকে উপোষ রাখার জন্য ওদের দায়ী করতে পারতে না মাহবুব।
আল্লা মালুম, আজ সকালে নাশতা দিতো-না হাত পায়ের রগ কেটে রাস্তার ধারে ফেলে রাখতো।
ওদের হাতে ধরা পড়লে আমাদেরও একই দশা হবে।
মাহবুবের দেখা পাওয়ার আগে থেকেই গুলির শব্দ থেমে গিয়েছিলো। শোয়েব ওকে প্রশ্ন করলো ওরা কি জেনে ফেলেছিলো তুমি যে এই জঙ্গলে লুকিয়েছ?
মনে হয় না। আমি তো শেষ রাতে পালিয়েছি। ওদের কারও নজরে পড়ার কথা নয়। হতে পারে ওরা ধারণা করেছে আমি জঙ্গলে লুকিয়েছি।
শোয়েব মাথা নাড়লো–তাই হবে। সাড়া শব্দ না পেয়ে ওরা ভেবেছে তুমি বোধহয় অন্য কোথাও লুকিয়েছে।
ঝন্টু বললো, এখন কী করবে শোয়েব ভাই? সুমন বললো, দলে যখন ভারি হয়েছি হাইওয়ের দিকেই যাই না কেন শোয়েব ভাই?
মাহবুব ভীত গলায় বললো, না সুমন। দলে আমরা যত ভারিই হই না কেন, আমদের কাছে অস্ত্র নেই। ওদের সবার কাছে অটোমেটিক পিস্তল নয় বন্দুক রয়েছে।
হাইওয়েতে নিশ্চয় এখন গাড়ি চলাচল করছে। পেট্রল পুলিশও থাকতে পারে।
ম্লান হেসে মাহবুব বললো, পুলিশের ভেতরও ওদের লোক রয়েছে। কে জানে ওরা আমাকে খোঁজার জন্য পুলিশ লাগিয়েছে কি না।
মাহবুবের কথা সমর্থন করলো শোয়েব তুমি ঠিক বলেছো মাহবুব। আমরা এখানে আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিশ্চিত হতে চাই ওরা জঙ্গলে আছে না চলে গেছে। ওরা চলে গেলে আমরা জঙ্গলের ভেতর দিয়েই কক্সবাজারের দিকে হাঁটবো।
কক্সবাজার এখান থেকে কত দূর হবে মাহবুব ভাই? জানতে চাইলো রবি। বেচারা ক্ষিদেয় একেবারে অস্থির হয়ে পড়েছিলো।
একটু ভেবে মাহবুব বললোঃ তিন চার মাইলের মতো হবে। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গেলে ঘন্টা দুয়েক লাগবে।
তার আগে পথে কি কোনও গ্রাম-টাম পড়বে না?
তা পড়বে। স্কুলে থাকতে এদিকে স্কাউটিঙে আসতাম।
তুমি স্কাউট ছিলে? উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো ঝন্টু।
মাথা নেড়ে সায় জানালো মাহবুব–তার মানে তুমিও স্কাউট?
হাঁ মাহবুব ভাই। গর্বিত গলায় ঝন্টু বললো, আমাদের হচ্ছে ফিফথ ঢাকা ট্রুপ।
শোয়েব হেসে বললো, তাহলে স্কাউটরা, তোমরাই আমাদের পথ দেখাও।
ওর কথার ধরনে মাহবুবও হেসে ফেললো–মনে হচ্ছে তুমি দলপতির দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে যেতে চাইছো শায়েব?
অসহায় ভাব করে শোয়েব বললো, দু দুটো জলজ্যান্ত স্কাউট থাকতে আমি কি করে দলনেতা হই।
তাহলে চলে যাওয়া যাক। দলপতির মতো গলাটা গম্ভীর করে বললো মাহবুব।
তথাস্তু। বলে শোয়েব ওকে অনুসরণ করলো। সুমন, ঝন্টু আর রবি মৃদু হেসে নিজেদের ভেতর দৃষ্টি বিনিময় করলো। ওরা লক্ষ্য করেছে মাহবুবকে পেয়ে শোয়েবের ভয় অনেক কেটে গেছে।
ঘন্টা খানেক হাঁটার পর ওরা দূরে খানিকটা ফাঁকা জায়গায় দুটো ছনের ঘর দেখতে পেলো। মাহবুব বললো, তোমরা এখানে অপেক্ষা করো। বেশি লোক দেখলে ওরা ঘাবড়ে যেতে পারে।
শোয়েবদের দাঁড় করিয়ে রেখে মাহবুব গেলো খাবারের খোঁজে। দূর থেকে ওরা লক্ষ্য করলো মাহবুবকে দেখে ঘরের ভেতর থেকে মঙ্গোলিয়ান চেহারার মাঝবয়সী এক লোক বেরিয়ে এলো। মাহবুব লোকটার সঙ্গে মিনিট পাঁচেক দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে কি যেন বললো। তারপর লোকটা ঘরের ভেতরে গিয়ে একটা পলিথিনের ব্যাগ ভর্তি কিছু জিনিস এনে মাহবুবের হাতে তুলে দিলো। দুজন আরও কিছুক্ষণ কথা বললো। মাহবুব পকেট থেকে সম্ভবত টাকা বের করে দিলো লোকটাকে। তারপর শোয়েবদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।
রবি উত্তেজিত গলায় বললো, মাহবুব ভাই ঠিকই ম্যানেজ করে ফেলেছে।
কাছে এসে মাহবুব বললো, কিছু চিড়া আর বুনো কলা পাওয়া গেছে।
দারুণ বলেই হাত বাড়িয়ে দিলো রবি–জলদি বের করো মাহবুব ভাই। ক্ষিদের চোটে জান বেরিয়ে যাচ্ছে।
শোয়েব বললো, আগে কলা খাওয়া যাক। চিড়া খেলেই পানির তেষ্টা লাগবে।
ওপাশটায় একটা পাহাড়ী ঝর্ণা আছে। পুব দিকে ইশারা করে মাহবুব বললো, ওদিকে চলল। এখানে থাকা নিরাপদ নয়।
মাহবুবের সঙ্গে ঝর্ণার দিকে হাঁটতে হাঁটতে শোয়েব বললো, নিরাপদ নয় কেন বলছো মাহবুব?
বলছি! আগে গলাটা ভিজিয়ে নিই। অল্প কিছুক্ষণ হাঁটার পরই ঝর্ণাটা ওদের চোখে পড়লো।
ঝর্ণার চেহারা দেখে সুমন, ঝন্টু, রবি কেউই খুশি হতে পারলো না। ঝর্ণা না বলে সরু নালা বললেই ঠিক হতো। মাহবুব নিচে নেমে এক আজলা পানি তুলে মুখে দিয়ে বললো, চমঙ্কার ঠান্ডা পানি। এসো সবাই।
ওরা চারজন কয়েক আজলা ঝর্ণার পানি গিলে, মুখ হাত ধুয়ে ঠাণ্ডা হয়ে বসলো। মাহবুব যে কলাগুলো এনেছিলো–আকারে ছোট হলেও খেতে বেশ মিষ্টি। চিড়ার সঙ্গে কলা খেতে খেতে মাহবুব বললো, লোকটা বললো সকালে নাকি দুজন লোক এসে তোমাদের খোঁজ করে গেছে।
মানে? অবাক হয়ে জানতে চাইলো শোয়েব।
বেলা দশটার দিকে দুটো লোক এসেছিলো। ওদের বাড়িতে। লোক দুটোর মুখে চাপদাড়ি আর সঙ্গে বন্দুক ছিলো। জিজ্ঞেস করেছে তিনটা কমবয়সী আর একটা জোয়ান ছেলেকে ওরা কেউ এদিক দিয়ে যেতে দেখেছে কিনা। বলেছে যদি খবর দিতে পারে তাহলে একশ টাকা বখশিশ দেবে।
বলো কি মাহবুব? শোয়েবের গলা দিয়ে চিড়া নামতে চাইলো না। কোথায় খবর দিতে বলেছে?
দক্ষিণে আধ মাইল দূরে ওদের ক্যাম্প আছে। লোকটা চেনে। বললো, ক্যাম্পে নাকি জোয়ান ছেলেরা অস্ত্র চালানো শেখে।
কী সাংঘাতিক! আঁতকে উঠলো রবি–আমরা তো একটু হলে ওদের ক্যাম্পে গিয়ে উঠতাম!
এখন কী হবে মাহবুব? উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্ন করলো শোয়েব।
আমাদের আরও পুব দিকে সরে যেতে হবে। এই ঝর্ণা ধরে মাইল খানেক গেলে একটা সুরু রাস্তা পড়বে। কাঠুরিয়ারা ওই পথ দিয়ে শহরে যায়।
পথের আশেপাশে শিবিরের ক্যাম্প নেই তো?
লোকটা তো বললো নেই।
তাহলে চলল, বসে থেকে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। বেলা থাকতে থাকতে আমাদের কক্সবাজার পৌঁছানো দরকার।
চিড়া আর কলা খেয়ে ওদের সবার পেট ঠান্ডা হয়েছিলো। আরেক দফা ঝর্ণার পানি খেয়ে ওরা পুব দিকে হাঁটলো। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে।
মিনিট পনেরো হাঁটার পর জঙ্গল আবার ফাঁকা হয়ে এলো। আশে পাশে গাছ কাটার চিহ্ন চোখে পড়লো। সুমন বললো, এই জঙ্গলে গাছ কাটা নিশ্চয় বেআইনি মাহবুব ভাই?
মাহবুব বললো, ঠিক ধরেছো। এগুলো চোরদের কাজ।
আরও কিছুক্ষণ হাঁটার পর ওদের চোখে পড়লো কয়েকটা লম্বা ছন আর বেড়ার ঘর। বেশ দূরে ফাঁকা জায়গায় ইতস্তত ছড়ানো। তবে আশেপাশে কোনও মানুষ নেই।
মাহবুব বললো, তোমরা এখানে দাঁড়াও। দেখে আসি গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়াটা নিরাপদ হবে কি না।
আগের মতো ওদের দাঁড় করিয়ে রেখে মাহবুব গ্রামের দিকে এগিয়ে গেলো। সুমনরা লক্ষ্য করলো এদিকের ঘরগুলো সব মাচার ওপর। তলাটা ফাঁকা। শোয়েবের কাছে রবি জানতে চাইলো, ঘরগুলো মাটির অতো ওপরে কেন?
বন্য জন্তু জানোয়ারের হামলা থেকে বাঁচার জন্য উপজাতীয় লোকেরা এভাবে ঘর বানায়।
সুমন লক্ষ্য করলো মাহবুব ইতস্তত না করে সোজা একটা ব্যারাকের মতো ঘরে সিঁড়ি বেয়ে তর তর করে উঠে গেলো, যেন ওর অনেক পরিচিত। ও ঘরে ঢুকেছে এক মিনিটও হয়নি তীব্র শব্দে একটা হুইসেল বেজে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েকটা হুইসেল বাজলো।
শোয়েব, সুমন, ঝন্টু আর রবি হতবাক হয়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখলো, যেন মাটি কুঁড়ে উঠে এসেছে দশ বারো জন ভয়ঙ্কর দর্শন লোক। সবার হাতে স্টেনগান ধরা, পরনে কালো পোষাক,মুখে দাড়ি। একজন চিৎকার করে বললো, সবাই হাত তুলে দাঁড়াও। নইলে মেশিন গানের গুলিতে শরীর ঝাঁঝড়া হয়ে যাবে।
শোয়েবরা কোনও কথা না বলে মাথার ওপর হাত তুলে দাঁড়ালো। চারজন লোক এসে ওদের শক্ত করে পিছ মোড়া করে বেঁধে ফেললো।
<