চুপচাপ থাক, তাহলে জখম হবে না, ড্রাইভারের সিট থেকে বলল খাটো লোকটা।
পেছনের সিটে গাদাগাদি করে বসেছে চারজনে, দৈত্যটার একপাশে মুসা, আরেক পাশে রবিন আর কিশোর। পেছনের জানালার পর্দা টেনে দেয়া হয়েছে।
আরেকটা ছেলে কোথায়, মিস্টার হিউগ? দানবটা জিজ্ঞেস করল।
পার্টি তো বলল শুধু এই তিনজনের কথাই, খাটো লোকটা জবাব দিল। এদেরকে চুপ করিয়ে রাখ, বিগ, অন্য কাউকে নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আরও ছেলে থাকলে থাকুক গে।
ঠিক আছে, বিগ জবাব দিল।
চুপ করে রইল ছেলেরা। গাড়ি চালাচ্ছে হিউগ, খুব সাবধানে, গতি বাড়াচ্ছে, অযথা পুলিশের চোখে পড়ার ইচ্ছে নেই। রকি বীচের অলিতে গলিতে ঘুরছে। গাড়ি। ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে ছেলেরা, ভয় কাটছে। ওদেরকে মারার জন্যে ধরেনি হিউগ আর বিগ, এটা বুঝে গেছে। অবশেষে জিজ্ঞেসই করে ফেলল কিশোর, আমাদের ধরেছেন কেন?
হেসে উঠল হিউগ। এমনি।
না, জানতে চাইছি, কার হুকুমে ধরেছেন?
সেটা কেন বলব? একজন বন্ধুকে সাহায্য করছি, ব্যস।
বিগ বলে উঠল, ঠিক পথেই তো যাচ্ছিলেন, মিস্টার হিউগ, আবার ঘুরছেন…
চুপ, ধমক লাগাল খাটো। আবার নীরবতা। কয়েকটা বুক পেরোল গাড়ি। তারপর রকি বীচের পশ্চিম অংশের একটা বাড়ির ড্রাইভওয়েতে ঢুকল। বেশ বড় একটা বাড়ির পেছনের ছোট একটা কটেজের সামনে এসে থামল। বড় বাড়িটার জন্যে রাস্তা থেকে কটেজ দেখা যায় না।
বেরোও,আদেশ দিল হিউগ।
কটেজের পেছনে ছোট একটা ঘরে এনে ঢোকানো হল ছেলেদের। ঘরে তনটে ছোট খাঁটিয়া। একমাত্র জানালাটায় ভারি পাল্লা লাগানো। দরজা দুটো, একটা ঘরে ঢোকার জন্যে, আরেকটা লাগোয়া বাথরুমের। ঢোকার দরজাটার পাল্লা ধাতব। বাথরুমটা ছোট, জানালা নেই।
ও-কে, হিউগ বলল, এখন…,
বাধা দিয়ে কিশোর বলল, কোন বন্ধুর কথায় ধরেছেন, বললেন তো না। আচ্ছা, যার কথায়ই ধরে থাকেন, তার চেয়ে বেশি টাকে দেবেন আপনাদেরকে মিসেস এলসা কারমল…।
তোমাদেরকে কিছু সময়ের জন্যে সরিয়ে রাখতে বলা হয়েছে, কিশোরের কথায় কান না দিয়ে বলল হিউগ।
কিন্তু একথা বলে কিডন্যাপিঙের দায় এড়াতে পারবেন না, রবিন বলল।
এই ছেলে, গর্জে উঠল দৈত্য, কিডন্যাপার কাদেরকে বলছ?
ভুরু কোঁচকাল হিউগ। আমরা কিডন্যাপার নই।
যেভাবেই বলুন, কিশোর বলল, আপনারা…
হয়েছে, থাম, খেকিয়ে উঠল হিউগ। দেখ, তোমাদের বিরুদ্ধে কোন ক্ষোভ বা রাগ নেই আমাদের। বুঝেছ? শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখছি আমরা, ব্যস।
কি স্বার্থ? মুসা জানতে চাইল।
অবশ্যই টাকা, আর কি থাকতে পারে? অনেক টাকা পাই আমরা পার্টির কাছে। দিতে পারে না। অনেক দিন হল। কত আর অপেক্ষা করা যায়।
হেসে উঠল বিগ। বিশাল এক ভালুক যেন মাথা নাড়ল। খেলতে বসে যারা ঠিকমত তাস খেলতে জানে না, তাদের না খেলাই উচিত, তাই না, বস?
চুপ! ধমক দিল হিউগ। বেশি কথা বল তুমি। ঢোক গিলল রবিন। আপনারা আপনারা জুয়াড়ী?
মোটেই না, থোকা, হিউগ বলল। জুয়াড়ী হল তারা, যারা খেলে। আমরা ব্যবসায়ী। লোকে জুয়া খেলতে চায়, আমরা তাদের জায়গা দিই, খেলার সুযোগ করে দিই। আমরা নিজেরা কক্ষনও খেলি না।
মিস্টার হিউগ, কিশোর বলল। আপনার বন্ধু যে-ই হোক, আমি বাজি রেখে বলতে পারি, আমাদেরকে ছেড়ে দিলে তার চেয়ে বেশি টাকা দেবে আপনাকে মিসেস কারমল। সে না দিলে আমার চাচা দেবে…
দেখ, থোকা, প্রথমেই বলেছি আমরা কিডন্যাপার নই। তোমাদেরকে জিম্মি রেখে তোমাদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার জন্যে ধরে আনিনি। পার্টির কাছে যে টাকা পাই, সেটাই শুধু আদায় করে নিতে চাই, ব্যস। তোমাদের কাছ থেকে একটা কানাকড়িও নেব না, বেশি নেবারও ইচ্ছে নেই। চুপ কর এখন। বড় বেশি কথা বলছ। দৈত্যের দিকে চেয়ে ইশারা করল বিগ!
দরজার দিকে ঘুরল বিগ। কি মনে হতে ফিরে চেয়ে বলল, তোমরা এখানে ভালই থাকবে।
হ্যাঁ, হিউগ বলল, বিছানা আছে, টয়লেট আছে। ওই আলমারিতে খাবার আছে। জগ ভর্তি পানি আছে। একেবারে নিজের বাড়ির মত লাগবে তোমাদের। খাও-দাও, আলাপ কর, বিশ্রাম নাও। শুধু বেরোতে পারবে না।
বেরিয়ে গেল দুজনে। দরজায় তালা লাগানোর শব্দ শুনতে পেল ছেলেরা। তালা লাগিয়ে, দরজার ভারি দণ্ডটা আড়াআড়ি লাগিয়ে দিয়ে চলে গেল ওরা। বন্দি হল তিন গোয়েন্দা।
সামনের দরজা বন্ধ করার আওয়াজ শোনা গেল। তবে গাড়ির ইঞ্জিন চালু হল। বাইরের ঘরে কে যেন নড়াচড়া করছে। ভারি মানুষ বসায় মড়মড় করে উঠল একটা কাঠের চেয়ার। তারপর শোনা গেল ভারি নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ, ভালুকের দীর্ঘশ্বাসের মত।
বিগ এখনও রয়েছে, ফিসফিসিয়ে বলল মুসা।
নিচু গলায় কিশোর বলল, বেরোনোর পথ খুঁজে বের করতে হবে আগে। তারপর দৈত্যটাকে ফাঁকি দেয়ার কথা ভাবব।
দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল মুসা। জানালা পরীক্ষা করতে লাগল রবিন। কিশোর গিয়ে ঢুকল জানালাবিহীন বাথরুমটায়।
সবার আগে পরাজয় মেনে নিল মুসা।
দরজায় ডাবুল তালা, জানাল সে। ইস্পাতের পান্না, কাজেই তক্তা খুলে যে ফোকর করব তারও উপায় নেই। কব্জাগুলো বাইরের দিকে।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল কিশোর। ভেন্টিলেটরের ফোকরও নেই।
জানালার পালার কজাও বাইরের দিকে, রবিন বলল। বাইরে থেকে লোহার চ্যাপ্টা ডাণ্ডা লাগানো, খোলা যাবে না।
মেঝে দেখা বাকি এখনও, মুসা বলল। দেখতে বেশিক্ষণ লাগল না।
নাহ্, মাথা নেড়ে বলল সে, পুরো ঘরটা কংক্রিটের একটা বাক্স। দেয়ালে কোন ফোকরই নেই। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল মুসা। কিশোর, বেরোতে পারব না। এসব পরিশ্রম না করে এস শুয়ে থাকি। এবং তা-ই করল সে।
ওরা পেশাদার লোক, কিশোর বলল, ফাঁক রাখবে কেন? মুসার পাশের বিছানাটায় শুতে শুতে রবিন বলল, চমৎকার এই রত্নশিকারের এটাই সমাপ্তি। আমাদেরকে আটকে রাখার আদেশ যে দিয়েছে, সে নিশ্চয় এখন রওনা হয়ে গেছে কুইন অভ দ্য সাউথ-এর উদ্দেশে।
ওয়াকিটকিগুলো আনার কথাও মনে হল না আজ।ক্ষোভে দুঃখে মাথার চুল -ছিড়তে ইচ্ছে করছে কিশোরের।
আনলে কি হত? রবিন বলল। তিনজনকেই তো ধরেছে।
নরির কাছে রাখতে পারতাম একটা।
নরি! লাফিয়ে উঠে বসল মুসা। হয়ত আমাদের ধরা পড়তে দেখেছে। তাহলে নিশ্চয় পুলিশে খবর দেবে।
হয়ত ইতিমধ্যে খুঁজতে আরম্ভ করেছে আমাদেরকে, আশা করল রবিন।
এত আশা কোরো না, সাবধান করল কিশোর। নরি না-ও দেখে থাকতে পারে। ও তখন ফিতে বাঁধায় ব্যস্ত। আর যদি দেখেও, অত দূর থেকে গাড়ির নাম্বার নিশ্চয় দেখতে পায়নি। শুধু বলতে পারবে, নীল গাড়ি দেখেছে। আর নীল গাড়ি রকি বীচে শরটা আছে। হতাশ ভঙ্গিতে ধপ করে খাঁটিয়ায় বসে পড়ল সে।
এমনও হতে পারে, জাহাজে চলে গেছে নরি, রবিন বলল। পরের ধাঁধাটার সমাধান করতে ব্যস্ত। বুদ্ধি আছে ছেলেটার। ওল্ড নেড় বের করেও ফেলতে পারে।
বিপদৈও পড়তে পারে! মনে করিয়ে দিল কিশোর। এজটাররা খুবই বিপজ্জনক ওর জন্যে।
তাহলে নরির আশাও নেই! ধীরে ধীরে আবার শুয়ে পড়ল মুসা। কিশোরও শুয়ে পড়ল। আর কিছু করার নেই। শুধু প্রার্থনা করা ছাড়া-নরি ভাল থাকুক, কিছু একটা করুক ওদের জন্যে।
ঘন্টার পর ঘন্টা পেরোল। জানালার পাল্লার ফাঁক দিয়ে এসে পড়া রোদের রশ্মি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হল। ইতিমধ্যে একবার হিউগের সাড়া পেয়েছে ছেলেরা বিগের সঙ্গে কথা বলে আবার চলে গেছে। খিদে লাগল মুসার। আলমারি থেকে খাবার বের করে খেতে শুরু করল। অন্যদের খিদে নেই, তবু খানিকটা রুটি আর পনির নিয়ে চিবাতে লাগল। গায়ের বল ঠিক রাখতে হবে।
খাওয়ার পর চিত হয়ে শুয়ে নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটতে লাগল কিশোর, একটা ব্যাপার সত্যি অদ্ভুত।
কী? জিজ্ঞেস করল মুসা।
আমাদের কথা জানল কি করে হিউগ আর বিগ? চোখ রাখল কেন দিনের পর দিন? তখন থামানোর চেষ্টা করল না কেন? একবার এমনকি আমাদের সাহায্যও করেছে, এজটারদের গাড়ি খাদে ঠেলে ফেলে। ভাবটা এমন, আমাদের দিয়ে পাথরগুলো বের করিয়ে নিতে চাইছিল। তারপর সময় বুঝে ধরেছে। ঠিক সময়টা কি করে বুঝল? কে বলেছে ওদেরকে? কে চায় ওই পাথর?
এজটাররা? মুসা বলল।
ওরা তো চায়ই। কিন্তু ওরা এসেছে দিন কয়েক আগে, জুয়ায় হেরে হিউগের কাছে অনেক দিন ধরে ঋণী থাকার কথা নয় ওদের।
এমন কেউ, যাকে চিনি না আমরা, রবিন বলল। হতে পারে, আবার ভাবনায় ডুবে গেল কিশোর।
রোদ আসা বন্ধ হয়ে গেল। কমে আসছে বদ্ধ ঘরের আলো। সারা বিকেলটাই আটকে রয়েছে ওরা। অন্য ঘরে নাক ডাকাতে শুরু করেছে বিগ। এইবার বুঝি সত্যিই পরাজিত হল ওরা। এত কষ্ট করে ধাঁধার সমাধান করে দিল, এখন গুপ্তধনগুলো বের করে নেবে অন্য লোক। ওদেরকে ঠকিয়েছে কেউ!
বদ্ধ ঘরের নীরবতায় শুয়ে শুয়ে ওদেরও তন্দ্রা নামল চোখে। কি করারই বা আছে আর?
হঠাৎ ধড়মড়িয়ে উঠে বসল মুসা। কিসের শব্দ!
কান পাতল তিনজনেই। বাড়ি কাঁপিয়ে নাক ডাকাচ্ছে বিগ। কিন্তু সে-শব্দ নয়। টোকার আওয়াজ!
জানালায়! ফিসফিস করে বলল রবিন।
আবার হল টোকার শব্দ। তারপর ফিসফিসিয়ে কথা, তোমরা ওখানে? কিশোর? মুসা?
হ্যাঁ, জানালায় মুখ লাগিয়ে জবাব দিল মুসা।
মৃদু মচমচ করে উঠল জানালা। পাল্লার বাইরে দণ্ড খোলার চেষ্টা করছে কেউ, জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে, বোধহয় উত্তেজনা আর পরিশ্রমে। অবশেষে খুলে গেল পাল্লা। হাঁ হয়ে গেল তিন গোয়েন্দা।
নরি! প্রায় একসঙ্গে বলে উঠল ওরা। তবে কণ্ঠস্বর নামিয়েই বলল।
শশশ! হাসল ছেলেটা। আস্তে। ভালুকটা দরজা জুড়ে চেয়ার ফেলে ঘুমোচ্ছে। যে-কোন সময় জেগে যেতে পারে। তাড়াতাড়ি কর।
সেকথা আর দ্বিতীয়বার বলতে হল না ওদেরকে। জানালা গলে বেরিয়ে পড়ল। সন্ধ্যার ছায়া নামছে তখন। নিঃশব্দে বাড়ির পাশ ঘুরে এসে দ্রুতপায়ে রাস্তার দিকে এগোল ওরা।
কি করে খুঁজে পেলে আমাদের, নরি? কিশোর জানতে চাইল।
রাস্তায় পৌঁছে গেছে ওরা। নরি জানাল, তোমাদেরকে ধরে নিয়ে গেলে দৌড়ে গিয়ে আমি মিস্টার উডকে ফোন করলাম। কিন্তু বাড়িতে কিংবা অফিসে কোথাও পাওয়া গেল না তাকে। আমার মাকে কিংবা তোমাদের বাড়ির লোককে ঘাবড়ে দিতে চাইনি। তবু অনেক ভেবেচিন্তে শেষে তোমার চাচাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম, এই সময় বুদ্ধিটা এল মাথায়।
কি বুদ্ধি? হাঁপাচ্ছে কিশোর, প্রায় দৌড়ে চলছে এখন ওরা।
ভূত-থেকে-ভূতে।
ক্ষণিকের জন্যে দাঁড়িয়ে গেল মুসা। আবার চলতে চলতে বলল, তুমি…তুমি আমাদের ভূত
তোমাদের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগেই এর কথা শুনেছি আমি। সুযোগ পেয়েই আর দেরি না করে কাজে লাগলাম। সাময়িক হেডকোয়ার্টার হিসেবে বেছে নিলাম একটা ফোন বুদ। অবশেষে কয়েকটা ছেলে খুঁজে পেল গাড়িটা। –
আশ্চর্য! গাড়িটার নাম্বারও তো জানো না তুমি!
জানি, গর্বের হাসি হাসল নরি। আমাদের বাড়ির সামনে কয়েকবার দেখেছি ওদের। এত বেশি, শেষে সন্দেহ হয়ে গেছে আমার। আজ সকালেই লিখে নিয়েছি ওদের নাম্বারটা। আসলে গোয়েন্দারা…।
কথা শেষ হল না। পেছনে শোনা গেল জোর গর্জন, প্রচণ্ড ধুড়ুম ধুড়ুম।
দৈত্যটা বেরিয়ে পড়েছে! চেঁচিয়ে বলল নরি। দরজার সামনে ময়লা ফেলার টিন বসিয়ে রেখে এসেছিলাম। দৌড় দাও জলদি!
ছুটতে ছুটতে বুক পেরোল ওরা, আরেকটা রাস্তা পেরিয়ে মোড় ঘুরে ছুটে চলল প্রাণপণে।
আরও জোরে! মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়তে ছাড়তে বলল রবিন। গাড়ি নিয়ে আসবে।
পারবে না, এতই হাঁপাচ্ছে, ঠিকমত কথা বলতে পারছে না নরি। পকেট থেকে কালো একটা জিনিস বের করে দেখাল। ডিসট্রিবিউটর ক্যাপটা খুলে নিয়ে এসেছি।
থেমে গেল ওরা। রবিন, মুসা আর কিশোর হাসতে শুরু করল পাগলের মত। মনের পর্দায় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ওরা, গাড়িটা স্টার্ট না নেয়ায় রেগে গিয়ে কি করছে বিগ। পাশ দিয়ে যাবার সময় অবাক চোখে ওদের দিকে তাকাল পথিক, পরোয়াই করল না ওরা।
চমৎকার, নরি, দারুণ দেখিয়েছ তুমি! হাসতে হাসতে বলল কিশোর। অবশেষে হাসি থামল। বলল, আশা করি দেরি হয়ে যায়নি।
হঠাৎ সকলের হাসি বন্ধ হয়ে গেল।
কিশোর বলল, চলো, সাইকেল নিয়ে ওল্ড নেড খুঁজতে যাই।
<